Ajker Patrika

আসিয়ান কাপের প্রাথমিক দলে কারা আছেন, কারা নেই

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আসিয়ান কাপের প্রাথমিক দলে কারা আছেন, কারা নেই
টমাস ডুলি। ছবি: বাফুফে

বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপ সামনে রেখে এই ক্যাম্প। তবে শুরুতেই পুরো দলকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় কোচ টমাস ডুলি। আজ প্রবাসী ফুটবলারদের ছাড়া আসিয়ান কাপের জন্য ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করে বাফুফে। দলে নতুন মুখ সৌরভ দেওয়ান। তবে কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি ডুলি। তাই ২৮ সদস্যের স্কোয়াডের সবাইকে নিয়ে কবে থেকে কাজ শুরু করতে পারবেন, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় হবে ফিফা আসিয়ান কাপ। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই টুর্নামেন্টকে প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। কিন্তু টুর্নামেন্টের আগে ডুলির হাতে সময় খুব বেশি নেই।

২৬ আগস্টের মধ্যে খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা। তবে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তাঁদের ক্যাম্পে পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ডুলি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত নই, কারণ আমি কয়েকজন খেলোয়াড়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলাম; কিন্তু তাদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না অথবা তারা কোনো উত্তর দিচ্ছে না। আমরা সবাইকে সাথে পাওয়ার চেষ্টা করছি, কারণ ওই খেলোয়াড়রা বা ভালো খেলোয়াড়রা দলে থাকলে সেটা দলের জন্য ভালো, সবার জন্যই ভালো। কিন্তু বিষয়গুলো তো সবসময় আমাদের হাতে থাকে না।’

জাতীয় দলের কোচ অবশ্য কাউকে জোর করে খেলাতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আপনি খেলুন, কিন্তু আপনি যদি উত্তরই না দেন, তবে আমার কী করার আছে? কিছুই করার নেই। আমি তো আর গাড়ি চালিয়ে গিয়ে আপনাকে খুঁজে বের করব না। দেশের হয়ে খেলতে চাইলে খুব ভালো, আর খেলতে না চাইলে সেটা আপনার ব্যাপার।’

ক্যাম্পে নতুন কোনো খেলোয়াড় যোগ হয়নি বলেও জানিয়েছেন ডুলি। গত জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে খেলা স্কোয়াডের অনেকেই থাকছেন। ডুলি বলেন, ‘আমরা যাদের নিয়ে খেলা শুরু করেছিলাম, তারা সবাই আছেন। পুরোনো স্কোয়াডের সবাই আছেন।’

ক্যাম্পের প্রথম দিনও ডুলি একটু আলাদাভাবে কাটাতে চান। অনুশীলন রুদ্ধদ্বার করার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। তবে প্রথম সেশনে কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে কাজ করার সুযোগ চান। মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলা এবং তাঁদের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘প্রথম অনুশীলন সেশনে আমরা যেন একা থাকতে পারি, সেটা হলে ভালো হয়; যাতে আমরা মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলতে পারি এবং তাদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারি।’

কোচিং স্টাফও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। দুজন সহকারী কোচের একজন ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আছেন। আপাতত একজন বাংলাদেশি সহকারী কোচও থাকছেন। চোটের বিষয়গুলো সামলাতে একজন অতিরিক্ত ফিজিওথেরাপিস্ট এবং একজন ফিটনেস কোচও থাকবেন। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে প্রথম দিন সবাইকে পাওয়া নাও যেতে পারে।

সমস্যা শুধু খেলোয়াড় পাওয়া নিয়ে নয়, সময় নিয়েও। ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হবে ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ফেডারেশন কাপ শুরু হওয়ার কথা। ঘরোয়া ফুটবলের ব্যস্ততার মধ্যেই জাতীয় দলের প্রস্তুতি চলবে।

আসিয়ান কাপের পর বাংলাদেশের সামনে আরও বড় পরীক্ষা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় হবে টুর্নামেন্টটি। তাই জাকার্তার প্রতিযোগিতাটি ডুলির দলের জন্য নিজেদের যাচাইয়ের পাশাপাশি সাফের প্রস্তুতিও।

এই ব্যস্ত সূচির মধ্যে সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে যতটা সম্ভব ভালো প্রস্তুতি নিতে চান ডুলি। তাঁর কথায়, ‘আমরা সেরা খেলোয়াড়দের পাওয়ার চেষ্টা করছি; সেরা হোটেল, অনুশীলনের সঠিক সময় এবং সর্বোচ্চ অনুশীলনের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাচ্ছি। আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করার চেষ্টা করছি কারণ আমরা সফল হতে চাই। দিনশেষে আসল কথা হলো, আমরা শেষ পর্যন্ত কী পাচ্ছি।’

প্রাথমিক স্কোয়াড:

মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, আনিসুর রহমান জিকো, তপু বর্মন, শাকিল আহাদ তপু, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, তাজ উদ্দিন, রহমত মিয়া, আবদুল্লাহ ওমর, শাকিল হোসেন, ইসা ফয়সাল, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, সোহেল রানা জুনিয়র, হৃদয়, শেখ মোরসালিন, কাজেম শাহ, রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, এস এম মঞ্জুরুর রহমান, মিনহাজুল করিম স্বাধীন, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সৌরভ দেওয়ান, রাব্বি হোসেন রাহুল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত