ভরাডুবির পর বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে অস্ট্রেলিয়া

টেস্ট সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর দলের টপ অর্ডারের ব্যর্থতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। নিউল্যান্ডসে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের শেষ দিনে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে ১৭৬ রানে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
কামিন্সের মতে স্পিনার সায়মন হারমারকে খেলতে গিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা দেখিয়েছে তাঁর দল।
কেপটাউনে সিরিজ নির্ধারণী টেস্ট জিততে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ছিল ২৮৮ রান। কিন্তু শেষ দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থেমে যায় তারা। হারমারের ঘূর্ণিজাদুতে পরাস্ত অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ১১১ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৭৬ রানে জয়ে ম্যাচসেরা হারমার ১২০ রানে নিয়েছেন ১০ উইকেট। যার মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসেই নিয়েছেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়া ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর কামিন্স বলেন, ‘আমরা হয়তো স্পিনকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছি। আরও কিছুক্ষণ নিজেদের রক্ষণাত্মক কৌশলের ওপর আস্থা রাখতে পারতাম। অনেক সময় ধৈর্য ধরে টিকে থেকে রান করার পথ খুঁজে নিতে হয়। কিন্তু আমরা নিজেদের সেই সুযোগ দিইনি।’
এবারই টেস্টে হারমার প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন গ্রিন। অথচ প্রথম ইনিংসে জশ ইংলিস ১০২ রান করেছেন। এটা তাঁর টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাছাড়া টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা ২ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৪২৯ রান করে ১০০ রানের লিড পেয়েও সেটা কাজে লাগাতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দেয়। উইকেটরক্ষক রায়ান রিকেলটন (১০২), ভিয়ান মুল্ডার (১১৫) সেঞ্চুরি করেছেন।
এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কয়েক জন টপ অর্ডার ব্যাটারের গড় রান ছিল ২২-এর নিচে। আগামী ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে তাই দল নির্বাচন নিয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বলেন, ‘টানা দুই ম্যাচ হারের পর দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আমরা নিজেদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেতে হলে আরও উন্নতি করতে হবে। প্রয়োজনে খেলার ধরন কিংবা কিছু ক্ষেত্রে খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে হতে পারে।’
সিরিজ হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কামিন্স স্বীকার করেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। তাঁর মতে ছোট ছোট ভুলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পঞ্চম দিনের উইকেট কঠিন ছিল ঠিকই, তবে পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না। অথচ শুরু থেকেই আমরা চাপে পড়ে যাই। এই লক্ষ্য তাড়া করা আমাদের জন্য যথেষ্ট সম্ভব ছিল।’
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১৭৬ রানে হেরে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে সিংহাসন খুইয়ে দুইয়ে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। এখন শীর্ষে উঠেছে প্রোটিয়ারা। অন্যদিকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ড। সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের মধ্যে এটা অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় হার। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তিনে নেমে গেছে অজিরা। এখানে দুইয়ে অবস্থান করছে প্রোটিয়ারা।









