
গল টেস্ট তো কেবল ভারতের জন্য নিছক এক ম্যাচ ছিল না। এশিয়ার দলটির জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের তৃতীয় দল হিসেবে ৬০০ টেস্ট খেলতে নামা ভারত ম্যাচটা জিতল হেসেখেলে। ১৬৫ রানে হেরে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পিছিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।
শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে হারানোর ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের পয়েন্ট বেড়েছে। ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ১০ ম্যাচ খেলে এটা তাদের পঞ্চম জয়। হেরেছে চার ম্যাচ ও এক ম্যাচ ড্র হয়েছে। শুবমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতের সফলতার হার ৫৩.৩৩ শতাংশ। তবু তারা আগের মতোই পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে। চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ।
টেস্টে এর আগে দুইবার ৩৫০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি ছিল শ্রীলঙ্কার। ২০১৭ সালে কলম্বোর প্রেমাদাসায় জিম্বাবুয়ের দেওয়া ৩৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে লঙ্কানরা জিতেছিল ৪ উইকেটে। যা এখন পর্যন্ত লঙ্কানদের টেস্টে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। এই তালিকায় দুইয়ে রয়েছে ২০০৬ সালের শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট। সেবার কলম্বোর পি সারা ওভালে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৩৫১ রান তাড়া করে ১ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছিল লঙ্কানরা।
তৃতীয়বারের মতো টেস্টে ৩৫০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের লক্ষ্যে আজ এগোতে থাকে শ্রীলঙ্কা। শেষ দিনে লঙ্কানদের দরকার ছিল ২৮৮ রান, ভারতের প্রয়োজন ছিল ৬ উইকেট। লঙ্কানরা যখন আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে, তখন তাদের নামের পাশে ৩৪ ওভারে ৪ উইকেটে ৮৪ রান। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও সোনাল দিনুশা সাবলীলভাবে এগোতে থাকেন।

ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ডি সিলভা-দিনুশা পঞ্চম উইকেটে ২০২ বলে গড়েন ৯৫ রানের জুটি। শ্রীলঙ্কা যখন ৩৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ার পথে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগোচ্ছে, তখন বাদ সাধলেন রবীন্দ্র জাদেজা। ইনিংসের ৫৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে লঙ্কান অধিনায়ক ডি সিলভাকে ফেরান জাদেজা। ১৫১ বলে ৭ চারে স্বাগতিক দলপতি করেন ৫৯ রান।
ডি সিলভার উইকেট পড়ার মাধ্যমেই শ্রীলঙ্কার ইনিংসে ভাঙনের শুরু। ৬৪ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৭.৪ ওভারে ২০৬ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা। সর্বোচ্চ ৮৪ রান আসে দিনুশার ব্যাট থেকে। ১২৮ বলের ইনিংসে ৮ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন। মানব সুথার ২৩.৪ ওভারে ৫৫ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। প্রসিধ কৃষ্ণা পেয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজ ও জাদেজা।
ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ম্যাচে ১০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন সুথার। তিনি। প্রথম ইনিংসে পান ৪ উইকেট। ১৩১ রানে ১০ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়লেন তিনি।
এর আগে ভারত আগে ব্যাটিং নিয়ে করেছে ৪৬২ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ ১৬৭ রান আসে দেবদূত পাড়িক্কালের ব্যাট থেকে। এরপর লঙ্কান বাঁহাতি ব্যাটার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিলেও লঙ্কানরা গুটিয়ে গেছে ২৮৪ রানে। ১৬৮ বলে ১০০ রান করেন দিনুশা।
ভারত এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৩ রানে গুটিয়ে গেছে। ঋষভ পন্ত ও পাড়িক্কাল করেন ৬৬ ও ৪৪ রান। শ্রীলঙ্কার আসিথা ফার্নান্দো নেন ৪ উইকেট। প্রবাথ জয়াসুরিয়া, লাহিরু কুমারা ও কেশারা নুয়ান্তা নেন ৩, ২ ও ১ উইকেট।
১৭৮ রানের লিড থাকায় ভারতের স্কোর হয়ে যায় ৩৭১ রান। ৩৭২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ২০৬ রানে। ১৬৫ রানের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন পাড়িক্কাল। প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৭ ও ৪৪ রান করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড তো আগেই ৬০০ টেস্টের মাইলফলক ছুঁয়েছে। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ম্যাচ খেলা এই দল এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে খেলেছে ১০৯৭ ও ৮৮৩ ম্যাচ। আর ভারত ৬০০ টেস্ট খেলে পেল ১৮৭ জয়। এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে তারা হেরেছে ১৮৮ ম্যাচ। টাই করেছে ১ ম্যাচ। ২২৪ ম্যাচ ড্র হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়াকে ডারউইনে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। দুই ও তিনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের সফলতার হার ৭৫ ও ৭২.২২ শতাংশ। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ভারত-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে ২৩ আগস্ট থেকে। এই টেস্টের ভেন্যু কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব।

প্রথম টেস্ট জয়ের পর এখন ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে প্রথমবার টেস্ট জয়, তাও আবার ৯ উইকেটে। চাট্টিখানি কথা তো নয়। ডারউইন থেকে ম্যাকেতে পৌঁছানোর পরও যে রেশটা রয়ে গেছে, সেটা ক্রিকেটারদের কথাবার্তায় স্পষ্ট। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটার কথা বললেও পাশ থেকে অন্যান্যরাও ক
২ ঘণ্টা আগে
মা হারালেন শফিউল ইসলাম। সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি তা নিশ্চিত করেছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
আটলান্টায় ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচ রাজনৈতিকভাবে কতটা উত্তপ্ত ছিল, সেটা তো ম্যাচ শেষেই প্রমাণ হয়েছিল। ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে সংঘটিত সেই যুদ্ধই ছিল উত্তপ্ত হওয়ার কারণ। এবার এর রেশ দেখা গেল এক প্রীতি ম্যাচেও।
৪ ঘণ্টা আগে
সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছিল পাকিস্তান। বাবর আজম টেস্ট অধিনায়কত্ব ফিরে পেয়ে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। পুরোদস্তুর ‘ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’ও বলা যায়। পেয়েছিলেন সিরিজসেরার পুরস্কার। এবার ইংল্যান্ড সফরে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাবরকে পাচ্ছে না পাকিস্তান।
৪ ঘণ্টা আগে