সিলেটে বাংলাদেশের হৃদয়ছোঁয়া দিন

আলোক স্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষ হলো খানিকটা আগেই। দিনের আলো কমে এলেও এদিন ঝলকানির কমতি ছিল না তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে। নান্দনিক ব্যাটিংয়ে দিনের পুরো আলোটাই কেড়ে নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশও পার করল মনে রাখার মতো একটা দিন।
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ২৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পিছিয়ে থেকেই অলআউটের শঙ্কা জেগেছিল স্বাগতিক দলে। কিন্তু হৃদয়ের রেকর্ডগড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে এগিয়ে থেকেই প্রথম ইনিংস শেষ করল বাংলাদেশ। ৩৮৬ রানে অলআউট হয়ে তাদের লিড ৩০ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ৭ রানে দিনের খেলা শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশকে একাই টেনে নিয়েছেন হৃদয়। ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করা হৃদয় অপরাজিত থাকেন ২৪২ রানে। বাকিরা মিলে করেন ১৪৪ রান। চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবলে রুপ দিলেন তিনি। ২২ চার ও ১১ ছক্কায় ইনিংস সাজানো তাঁর ইনিংস। বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও হৃদয়ের দখলে।
দুর্দান্ত, অনবদ্য, অসাধারণ— পরিস্থিতি বিবেচনায় হৃদয়ের এই ডাবল সেঞ্চুরির জন্য কোনো বিশেষণই যেন যথেষ্ট নয়। জবাব দিতে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন হৃদয়। কখনো মুশফিকু রহিম, আবার কখনো মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন। অন্যপ্রান্তে সঙ্গীদের হারালেও মাটি কামড়ে ক্রিজে টিকে ছিলেন হৃদয়। প্রয়োজনে দেখেশুনে খেলেছেন আবার সুযোগ পেলে চার-ছক্কা মেরেছেন।
ডাবল সেঞ্চুরি করার পথে তাইজুলকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়িয়ে দেন হৃদয়। তাঁদের অষ্টম উইকেট জুটিতে ১১৭ রান পায় বাংলাদেশ। ২২ রান করে ফিরলেও তাইজুলের অবদান কোনো অংশেই কম না। মুশফিককে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৭৩ রান যোগ করেন হৃদয়। এ ছাড়া ষষ্ঠ উইকেটে মিরাজের সঙ্গে ৪১ রান এনে দেন তিনি।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রানে আসে মুশফিকের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া তাইজুল ২২, শান্ত ১৮ ও মিরাজ করেন ১৬ রান। ১০৪ রানে ৪ উইকেট নেন জোমেল ওয়ারিক্যান। জেডন সিলসের শিকার দুটি।









