Ajker Patrika

বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ২১
বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে হারের পর ম্যাকাইতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: এএফপি

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলতে গিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজ-হাসান মাহমুদদের নিয়ে বয়ে যায় প্রশংসার বন্যা। যদিও সিরিজটা শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি শান্তর দল। তবে এই টেস্ট সিরিজের স্মৃতি যেন ভুলতেই পারছেন না অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার জশ হ্যাজলউড।

সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া নিয়মিত খেললেও টেস্টে দল দুটি তেমন একটা মুখোমুখি হয় না বললেই চলে। এবার ৯ বছর পরে তারা টেস্ট খেলেছে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে হিসেব করলে সেটা ২৩ বছর পর। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হাসান-মিরাজ-শান্ত-মুশফিকুর রহিম, যাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি, তাঁরাই এবার অস্ট্রেলিয়া দুর্গ জয় করেছেন। অস্ট্রেলিয়া ম্যাকাই টেস্ট জিতে ১-১ সমতায় ড্র করলেও প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিততে না পারার হতাশা কাজ করছে হ্যাজলউডের। সিডনিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার বলেন, ‘বাংলাদেশ সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করাটা প্রত্যাশিত ফল না। অবশ্যই ২-০ (বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ) ব্যবধানে জিততে চেয়েছিলাম।’

ডারউইনে সাড়ে তিন দিনে শেষ হওয়া টেস্টে বাংলাদেশ পায় ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়। হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে সেঞ্চুরি। মেহেদী হাসান মিরাজ ফিফটির পাশাপাশি নিয়েছেন ফাইফার। ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন মিরাজ। তবে ম্যাকাইতে পাত্তাই পায়নি শান্তর দল। ৭৫০ বলে শেষ হওয়া টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জেতে ইনিংস ও ৫১ রানে। দুই ইনিংসেই বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ১০০-এর আগেই (৬৪ ও ৯৫)। সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে একমাত্র উজ্জ্বল শরীফুল ইসলাম ৭ উইকেট নিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে হ্যাজলউড প্রতিপক্ষকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। সিডনিতে এক অনুষ্ঠানে ৩৫ বছর বয়সী অজি পেসার বলেন, ‘বাংলাদেশ শুরু থেকেই সরাসরি নেমে ভালো ক্রিকেট খেলেছে, বিশেষ করে ডারউইনে। তাই তারা সম্ভবত আমাদের কিছুটা চাপে ফেলে দিয়েছিল। ম্যাচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু বেশি সময় লেগেছে। তবে ম্যাকেতে দেখিয়েছি, আমরা কী করতে পারি। ডারউইনে আমাদের বেশ ভালোই পরিশ্রম করতে হয়েছে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে ১-১ সমতায় টেস্ট সিরিজ ড্র করার পরও অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল খেলার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে। ৮০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে অজিরা। ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশেরও। ৫৫.৫৬ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে চারে শান্তর দল। হ্যাজলউড বলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এই পয়েন্টগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্যই থাকে আমাদের।’

বাংলাদেশ সিরিজের আগে প্রায় ১০ সপ্তাহের দীর্ঘ প্রস্তুতি পর্ব কাটিয়েছিলেন হ্যাজলউড। ফিরেই ডারউইনে প্রথম টেস্টে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। যার মধ্যে প্রথম ইনিংসেই পেয়েছিলেন ৬ উইকেট। ম্যাকাইতেও তিনি পেয়েছিলেন ১ উইকেট। ছন্দে থাকা অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার ফিটনেস নিয়ে বলেন, ‘শারীরিকভাবে আমি এখন যে অবস্থায় আছি, তাতে আমি খুবই সন্তুষ্ট। অনেক কাজ করেছি। সম্ভবত ওই সিরিজের আগে ১০ সপ্তাহ ছিল আমাদের শেষ বড় অনুশীলনের সময়, সামনে যা আসছে তার আগে। সেখান থেকে প্রায় কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই বেরিয়ে আসতে পেরে আমি খুবই সন্তুষ্ট।’

৯ অক্টোবর ডারবানে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ১৮ অক্টোবর পোর্ট এলিজাবেথে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। তৃতীয় টেস্ট কেপ টাউনে মাঠে গড়াবে ২৭ অক্টোবর। ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের প্রথম তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের সফলতার হার ৮০, ৭৫ ও ৭২.২২ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়া কদিন আগে ঘরের মাঠে ১-১ সমতায় টেস্ট সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশের বিপক্ষে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত