Ajker Patrika

‘ভারতকে মনে করানোর দরকার ছিল, আমাদেরও মেরুদণ্ড আছে’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৪৫
‘ভারতকে মনে করানোর দরকার ছিল, আমাদেরও মেরুদণ্ড আছে’
ভারতকে বার্তা দিতেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বলে জানিয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি—গত জানুয়ারি থেকে দেশের ক্রিকেটে এটা অন্যতম আলোচিত ইস্যু। এই ইস্যুতে তুমুল সমালোচিত সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল একেকবার একেকরকম কথা বলেছেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ভারতকে বার্তা দিতেই বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। তামিম ইকবাল অ্যাডহক কমিটির সভাপতি। আমিনুল ইসলাম বুলবুল তাই বিসিবিতে অতীত। তবে বুলবুলের বিসিবি অধ্যায় শেষ হলেও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলা নিয়ে আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ নজরুল ও সে সময়ই বুলবুল বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, এটা নিয়ে তাই কথাবার্তা চলছে এখনো। বিশ্বকাপে না খেলে বাংলাদেশের কী অর্জন হয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তরে বিবিসি বাংলাকে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা ইস্যু যখন এত বড় দেশের কাছে এত তুচ্ছ ব্যাপার হয়, আমাদের অপমান করা যখন এত সহজ ব্যাপার হয়—এই অপমান করা, এই তুচ্ছ করা, এই আমাদের স্বার্থহানি করা, আমাদের নিয়ে রসিকতা করা—এটার জবাব যে আমরা দিতে পারি সেটার একটা ভালো উদাহরণ স্থাপন করলাম। তাদের (ভারত) অবশ্যই মনে করিয়ে দেওয়া দরকার ছিল যে আমাদেরও মেরুদণ্ড বলে জিনিস আছে। এটা আপনার কাছে অর্জন না?’

২২ জানুয়ারি লিটন দাস-নুরুল হাসান সোহানদের সঙ্গে বৈঠক করে আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। কারণ, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে। সেকারণেই নিরাপত্তা শঙ্কা থেকে ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ বিসিবি করলেও আইসিসি তাতে সাড়া দেয়নি। ১০ ফেব্রুয়ারি নিজের শেষ কার্যদিবসে তিনি জানালেন, ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই দ্বিচারিতা নিয়ে তুমুল সমালোচনা করেন বাংলাদেশের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন।

বিশ্বকাপ ইস্যুতে আসিফ নজরুলকে নিয়ে করা সালাহ উদ্দীনের সেই বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসি বাংলাতেও। উত্তরে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আমি আপনাকে বলি। প্রথম কথা হচ্ছে আমি যখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসেছিলাম, সালাহ উদ্দীন সাহেব সেখানে ছিলেন কি না জানি না। আমি ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বসেছিলাম, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসেছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘আপনারা মুক্তভাবে আপনাদের মতামত জানান। আমি আপনাদের মতামত শুনতে চাই।’ কেউ জোরালোভাবে বলেননি যে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হচ্ছে না, ক্রিকেটের ক্ষতি হয়ে যাবে। তাঁদের টোন ছিল এরকম, ‘স্যার, আমরা তো খেলোয়াড়েরা তো খেলতে চাইবই। তবে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নিবেন, তা মেনে নেব।’’

ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের ম্যাচ না দিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করেছে বলে ২২ জানুয়ারি দাবি করেছিলেন আসিফ নজরুল। ভারতে খেলতে না যাওয়া যে মোস্তাফিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কারণে, সেটা গতকাল আবারও উল্লেখ করেছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা। বিশ্বকাপ না খেলে বাংলাদেশের কী ক্ষতি হয়েছে—এই প্রশ্নও করেছেন বিবিসি বাংলার উপস্থাপকের কাছে। আসিফ নজরুল বলেন, ‘যে কথাগুলো বলা হয়েছিল ক্রিকেট না খেললে বাংলাদেশ অনেক ক্ষতির মুখে পড়বে টড়বে, আমরা তো অ্যাসেস করেছিলাম—কই ক্ষতির মুখে পড়ছে? বাংলাদেশে বিদেশি টিম এসে খেলছে না?’

বিসিবির গঠনতন্ত্রে অ্যাডহক কমিটি না থাকলেও গতকাল বোর্ড ভেঙে দিয়ে এনএসসি অ্যাডহক কমিটি করেছে। এ ব্যাপারে এখনো কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন আসেনি। তবে বুলবুলের দাবি, তিনি যোগ্যভাবে নির্বাচিত বিসিবির সভাপতি। নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ ও ‘শাম এন্টনি’ বা ভুয়া সত্তা হিসেবে বুলবুল আখ্যা দিয়েছেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘এনএসসি অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বায়ত্তশাসনের টুঁটি চেপে ধরার শামিল।’ বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় ও বর্তমান অস্থিতিশীলতা কাটাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বুলবুল।

সন্ধ্যায় অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তামিম। বিসিবির ইতিহাসে তিনি যেমন সর্বকনিষ্ঠ বোর্ড সভাপতি, তাঁর সংবাদ সম্মেলনও হলো সংক্ষিপ্ত সময়ের। তামিমদের এই কমিটির মূল দায়িত্ব তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। গতকাল তিনি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। সরাসরি না বললেও তাঁর উত্তরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত