Ajker Patrika

‘এটাই পর্তুগাল, তারা কখনো হারার আগে হারে না’

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২: ০০
‘এটাই পর্তুগাল, তারা কখনো হারার আগে হারে না’
ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল। ছবি: এএফপি

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দেখা যাচ্ছে অন্যরকম এক রোমাঞ্চ। হাতে গোনা কয়েকটা ম্যাচ বাদ দিলে বেশির ভাগ ম্যাচের নিষ্পত্তি হচ্ছে শেষ মুহূর্তে এসে। টরন্টোতে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের অবস্থাও সে রকম। শেষ হাসি হেসেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-গনসালো রামোসদের পর্তুগাল।

৯০ মিনিট পেরিয়ে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় ছিল। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা হয় ১০ মিনিট। এই সুযোগে শেষ বত্রিশেই ক্রোয়েশিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয় পর্তুগাল। যোগ করা সময়ের ৪ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের ক্রসে হেড বসিয়ে দুর্দান্ত গোল করেন গনসালো রামোস। পুরো পর্তুগাল তখন উল্লাসে ব্যস্ত। ২-১ গোলে জয়ের পর রামোস বলেন, ‘পর্তুগাল মানেই আমাদের পরিচয়। আমরা সব সময় জয়ের জন্য খেলি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখি। কারণ, আমরা কখনোই সত্যিকার অর্থে শেষ হয়ে যাই না।’

প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্রয়ের পর ম্যাচে প্রথম গোলটা করে ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে জোসিপ স্তানিসিচের তৈরি করা আক্রমণ থেকে ইভান পেরিসিচ জোরাল শটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও কিছুতেই সফল হচ্ছিল না পর্তুগাল। ৫৮ মিনিটে লেয়াওয়ের দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তিন মিনিট পর রোনালদো গোল করলেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

অবশেষে ডেডলক পর্তুগাল ভাঙে ৬৮ মিনিটে। পেনাল্টি থেকে সমতাসূচক গোল করেন রোনালদো। যেখানে পর্তুগালের রেনাতো ভেইগাকে ক্রোয়েশিয়ার নিকোলা ভ্লাশিচ চেপে ধরলে পেনাল্টির বাঁশি পর্তুগিজদের পক্ষে বাজানো হয়। ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, ‘তারা গোল করার পর আমরা কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম এবং একটু বিচলিতও হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু এরপর পেনাল্টি থেকে গোল করার মাধ্যমে আমরা মানসিকভাবে চাঙা হয়েছি। ম্যাচটা এরপর আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। তারপরও কিছুটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এটাই প্রতিযোগিতার বাস্তবতা। আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে।’

বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়া রোনালদোকে নিয়ে এবার সমালোচনাও কম হয়নি। অফফর্মের কারণে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই তাঁকে ‘বাতিলের খাতায়’ ফেলে দেন। কিন্তু চ্যাম্পিয়নরা তো এ রকমই। খাদের কিনারা থেকে এর আগেও যেমন বহুবার দলকে বাঁচিয়েছেন, আজ টরন্টোতে পর্তুগালের প্রয়োজনে জ্বলে উঠলেন তিনি। পর্তুগিজদের শেষ ষোলোতে ওঠানোর পর ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠল তাঁর হাতে।

রোনালদোর মতে, বিশ্বকাপ জিততে হলে নকআউট পর্বের বাধা উতড়ে ওঠার মানসিকতা দলের থাকতে হবে। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি এমনটি প্রত্যাশা করেছিলাম। অধিনায়ক হিসেবে আমি এ রকম মুহূর্তের মধ্য দিয়ে আগেও গিয়েছি। আমি বলেছিলাম, আমাদের কষ্ট সহ্য করতে জানতে হবে। এত বড় একটি প্রতিযোগিতা জিততে হলে কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে।’

পিছিয়ে থেকে ম্যাচ জেতার উদাহরণ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিয়মিত চিত্র। ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, বেলজিয়ামের পর আজ পর্তুগাল ম্যাচ জিতল শুরুতে গোল হজমের পর। ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারানোর পর রোনালদো বলেন, ‘আজ সেটাই হয়েছে। আমার মনে হয়, দর্শকদের জন্য এটি বেশ উপভোগ্য একটি ম্যাচ ছিল। প্রথমার্ধে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে রেখেছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটা কিছুটা এলোমেলো হয়ে যায়। তবে এটা স্বাভাবিক। এটাই ফুটবল।’

শেষ ষোলোতে এখন পর্তুগালের প্রতিপক্ষ স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে গত রাতে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। শেষ বত্রিশের ম্যাচটিতে জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। অপর গোল করেন পেদ্রো পোরো। ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসে শুরু হবে স্পেন-পর্তুগাল শেষ ষোলোর ম্যাচ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত