Ajker Patrika

সাব্বিরের হ্যাটট্রিকে বসুন্ধরা কিংসের ‘সেভেন আপ’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৪০
সাব্বিরের হ্যাটট্রিকে বসুন্ধরা কিংসের ‘সেভেন আপ’
হ্যাটট্রিক করেছেন সাব্বির হোসেন (ডান থেকে প্রথম)। ফাইল ছবি

তিন দিন আগেই ফেডারেশন কাপে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৫–০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল বসুন্ধরা কিংস। আজ বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচেও সেই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি ঘটল ওয়ান্ডারার্সের। তবে এবার ব্যবধানটা আরও বড়। বৃষ্টিভেজা কর্দমাক্ত মাঠে ওয়ান্ডারার্সকে ৭–০ গোলে হারিয়েছে কিংস। বাংলাদেশে অনেক ফুটবল সমর্থকের ভাষায় যা ‘সেভেন আপ’। কিংসের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন মোহাম্মদ সাব্বির। জোড়া আসে রাকিব হোসেনের পা থেকে।

বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর দর্শকেরা ঠিকমতো নড়েচড়ে বসার আগেই এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র ২৪ সেকেন্ড! ডান প্রান্ত ধরে দ্রুতগতিতে আক্রমণে উঠে বক্সে চমৎকার ক্রস বাড়ান রাকিব হোসেন। ওয়ান্ডারার্সের রক্ষণের জটলার সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়ান কিংসের নেপালি ফরোয়ার্ড মনীশ দাঙ্গি।

শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পঞ্চম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কিংস। নিজেদের অর্ধ থেকে ইউসুফ আলীর নেওয়া লম্বা ফ্রি-কিক নিয়ন্ত্রণে নেন মোহাম্মদ সাব্বির। এরপর দারুণ ক্ষিপ্রতায় বাঁ পায়ের নিখুঁত কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

দুই গোলে পিছিয়ে থাকা ওয়ান্ডারার্সের বিপদ আরও বাড়ে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। ডি-বক্সের বাইরে এসে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন দলটির গোলরক্ষক জসিম উদ্দিন। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ওয়ান্ডারার্স।

বিরতির পরও আক্রমণের সেই চেনা ছন্দ ধরে রাখে কিংস। ৪৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন সাব্বির। মাঝমাঠ থেকে ব্রাজিলিয়ান তারকা রবসন রবিনিওর বাড়ানো বুদ্ধিদীপ্ত থ্রু বল ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান তিনি। বক্সের সামান্য সামনে থেকে ওয়ান্ডারার্সের বিকল্প গোলরক্ষক সৌরভ বিক্রমের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার এক চিপ শটে বল জালে পাঠান এই তরুণ মিডফিল্ডার।

ম্যাচের ৬৩ মিনিটে দেখা যায় ফুটবলের এক বিরল দৃশ্য। বিকল্প গোলরক্ষক সৌরভকেও তুলে নিয়ে তৃতীয় গোলরক্ষক তানভীর আহমেদকে মাঠে নামান ওয়ান্ডারার্স কোচ আসাদুজ্জামান নুর। কিন্তু গোলরক্ষকের এই দফায় দফায় বদলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।

৬৯ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর রাকিব হোসেনকে ফাউল করে বসেন ওয়ান্ডারার্সের ডিফেন্ডার জোবায়ের আহমেদ। রেফারির পেনাল্টির বাঁশিতে স্পটকিক নিতে আসেন রাকিব নিজেই। নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৪–০ করেন এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ওয়ান্ডারার্সের রক্ষণের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালায় কিংস। ৮০ মিনিটে চোখজুড়ানো ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকেন রবসন। তাঁর বাড়ানো ক্রসে আলতো ছোঁয়ায় গোলের খাতায় নাম তোলেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

৮৯ মিনিটে আবারও রবসনের জাদুকরী পাস। তাঁর বাড়ানো বল থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাকিব। আর ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯১ মিনিট) সেই রাকিবই বনে যান গোলের রূপকার। ডান প্রান্ত থেকে তাঁর চমৎকার ক্রসে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মোহাম্মদ সাব্বির। শেষ পর্যন্ত ৭–০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত