Ajker Patrika

এক সন্ধ্যায় মেসির ক্লাবে

রানা আব্বাস, মায়ামি থেকে
এক সন্ধ্যায় মেসির ক্লাবে
মেসির ইন্টার মায়ামি ক্লাবের সামনে পরশু সন্ধ্যায় কয়েকজন মেক্সিকান দর্শক। মায়ামির জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেড়েছে মেসির সৌজন্যেই। ছবি: আজকের পত্রিকা

লিফট (উবারের বিকল্প) অ্যাপের গন্তব্যেই লিখে দেওয়া হয়েছিল: ইন্টার মায়ামি সিএফ। তবু গাড়িতে ওঠার পর গন্তব্য নিয়ে নিঃসন্দেহ হতে চালক দিয়েগোকে বলা হলো, লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যেতে চাই। যেতে যেতেই ব্রাজিলিয়ান চালক দিয়েগো হালনাগাদ তথ্য দিলেন, মেসিরা এখন নতুন স্টেডিয়ামে খেলেন।

ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়াম চালুই হয়েছে কদিন আগে। আমাদের আগ্রহ অবশ্য নতুনটিতে নয়, আগেরটিতে। যেখানে মেসির যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা শুরু। তিন বছর ধরে মেসিরা যেখানে নিয়মিত খেলেছেন, মায়ামির সেই চেজ স্টেডিয়ামে যখন পৌঁছেছি, সূর্যটা প্রায় ডুবুডুবু। গোধূলিতেও কত উজ্জ্বল দাঁড়িয়ে ইন্টার মায়ামির আগের স্টেডিয়াম, অনেকটা ৩৯ বছর বয়সী দুর্দান্ত মেসির মতোই।

২০২৩ সালের জুনে দল বদল করে মেসি যখন ইউরোপ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডেভিড বেকহামের ক্লাবে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন, ফুটবলপ্রেমীদের অনেকে অবাক হয়েছিলেন। বার্সেলোনায় দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ারের পর পিএসজিতে দুই বছর কাটিয়ে ফুটবলের উৎকর্ষ ভূমি ইউরোপ ছেড়ে এমন এক ভূখণ্ডে আসার সিদ্ধান্ত, যেখানে কিনা জনপ্রিয়তায় তালিকায় ‘সকারে’র অবস্থান একটু পেছনে। আর ক্লাবটা যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ফুটবল লিগ মেজর লিগ সকারে খেলতেই শুরু করেছে ২০২০ মৌসুম থেকে (প্রতিষ্ঠিত ২০১৮ সালে)।

মেসির ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ছিল শুধু একটি ট্রান্সফার নয়, এটি ছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও কৌশলগত চুক্তিগুলোর একটি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রথমত, বেকহামের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। অনেক বছর আগে থেকে মেসিকে এমএলএসে আনার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

তবে মেসির প্রথম পছন্দ ছিল তাঁর পুরোনো ক্লাব বার্সায় ফেরা, কিন্তু তা হয়নি। মেসির সামনে ডলারের বস্তা নিয়ে বসে ছিল সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল। তাদের ‘না’ করে দিতে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের কাছে শুধু অর্থই নয়; পরিবারের জীবনযাপন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ, প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও প্রাধান্য পেয়েছিল। ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ আর ২০২৬ বিশ্বকাপ—যুক্তরাষ্ট্রে টানা তিনটি শীর্ষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলার বিষয়টিও মেসিকে প্রভাবিত করেছে মায়ামিতে থিতু হতে। তাঁর সঙ্গে একই ক্লাবে আছেন আর্জেন্টাইন সতীর্থ দি পল ও সাবেক বার্সা সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও।

মঙ্গলবার ইন্টার মায়ামির স্টেডিয়ামের চারদিক ঘুরে দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, মেসির কী প্রভাব আর জাদু—মাত্র তিন বছরেই সারা বিশ্বের কাছে ইন্টার মায়ামিকে কতটা জনপ্রিয় করে তুলেছেন। মেসির আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের শহর মিয়ামি শহরের ক্লাবটির ব্র্যান্ড ভ্যালু ও দর্শকসংখ্যা যেমন বেড়েছে, পৃষ্ঠপোষকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বেশি বিক্রি হওয়া ফুটবল জার্সিগুলোর একটি এখন ইন্টার মায়ামির জার্সি। বাংলাদেশের গুলিস্তানে গেলেই দেখা যায় মেসির গোলাপি-সাদা ‘কপি’ জার্সির কী চাহিদা!

আগেই জানা ছিল, তবু চালক দিয়েগো বলছিলেন, সৈকতের শহর মায়ামিতে স্প্যানিশ ভাষা ও সংস্কৃতির এতটাই প্রভাব, কিছু জায়গায় তো ইংরেজিই চলে না! মেসির মায়ামি বেছে নেওয়ার পেছনে এ বিষয়টিও কাজ করেছে। সন্ধ্যায় নীরবতার চাদরে ঢাকা ইন্টার মায়ামি দেখতে কিছু মেক্সিকান দর্শককে দেখা গেল ছবি-সেলফি তুলতে এসেছেন। স্টেডিয়ামের পর মায়ামিতে মেসির বাড়ির সামনে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে চালক দিয়েগো নিরুৎসাহিত করলেন।

বাড়িটা মায়ামি শহরের ভেতরে নয়, বরং বেশ দূরে ফোর্ট লডারডেলের অভিজাত বে কলোনিতে। মেসি যেটা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কিনেছেন ৬০০ কোটি টাকার বেশি দিয়ে। সেখানে নিরাপত্তা এতটাই কড়া যে ধারেকাছেও যাওয়ার উপায় নেই। অগত্যা এই সন্ধ্যায় ফিরতে হলো ইন্টার মায়ামি স্টেডিয়াম, ক্লাবের ফিটনেস সেন্টার আর অনুশীলন মাঠ দেখেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত