Ajker Patrika

দক্ষিণ আফ্রিকার তারুণ্যের জয়গান

১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে এই প্রথম খেলছে ৪৮ দল। ‘বিশ্বকাপের দল’ শীর্ষক এই ধারাবাহিকে কোন দল কেমন , সেটি তুলে ধরার প্রয়াস । আজকের পর্বে থাকছে দক্ষিণ আফ্রিকা—

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৪৫
দক্ষিণ আফ্রিকার তারুণ্যের জয়গান
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ছবি: সংগৃহীত

রাগবিতে বিশ্বজয়, অ্যাথলেটিকসে বিশ্বরেকর্ড, সাঁতারে অলিম্পিক কিংবা ক্রিকেটে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জয়—সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়াপ্রেমীদের আনন্দের কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃৎস্পন্দনের জায়গা যে ফুটবল, সেখানে তারা পিছিয়ে ছিল অনেকটা সময়।

দীর্ঘ দেড় দশক অপেক্ষার পর অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলে সুদিনের আভাস মিলেছে। ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের পর আর কখনোই ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে দেখা যায়নি ‘বাফানা বাফানা’দের। ২০২৬ বিশ্বকাপ দিয়ে সেই খরা কাটিয়েছে তারা। আফ্রিকান বাছাইপর্বের নাটকীয়তা পেরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রত্যাবর্তন শুধু ফিরে আসাই নয়, বরং দেশটির ফুটবলের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের এক নবযাত্রা। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রচেষ্টাতেই আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জেতার পর যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল, গত ১৫ বছর তা ছিল অনেকটা স্তিমিত। সেই অপূর্ণতা দূর করতেই জায়গা করে নিল ২০২৬ বিশ্বকাপ।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই নতুন উত্থানের নেপথ্য নায়ক দলটির বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রোস। ২০২১ সালে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, দলটি অবস্থা তখন ছিল বেশ ভঙ্গুর। এসেই ভরসা রাখতে শুরু করেন তরুণদের ওপর। থালেন্টে এমবাথা, ওসউইন অ্যাপোলিস এবং এভিডেন্স মাকগোপাদের গড়ে তোলার দায়িত্বটাও কাঁধে নেন এই বেলজিয়ান কোচ। ব্রোসের এই ‘সংস্কৃতি পরিবর্তনের’ ফসল হিসেবেই ২০২৩ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) তৃতীয় হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭৩ বছর বয়সী এই কোচের অভিজ্ঞ হাত ধরেই দলটি আজ বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছে।

বাছাইপর্বের গ্রুপ ‘সি’-তে দক্ষিণ আফ্রিকার পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। নাইজেরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপরীতে লড়তে হয়েছে তাদের। এমনকি প্রশাসনিক ভুলে এক ম্যাচের পয়েন্ট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরও বাফানা বাফানারা ভেঙে পড়েনি। শেষ ম্যাচে রুয়ান্ডাকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে নিজদের নিয়ে আসে তালিকার শীর্ষে। এমবোম্বেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সেদিন যে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল, তা এক দশক ধরে জমে থাকা আবেগের বহিঃপ্রকাশ।

১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০—তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও দক্ষিণ আফ্রিকা কখনোই গ্রুপপর্বের বাধা টপকাতে পারেনি। যদিও প্রতিটি আসরেই তারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ১৯৯৮ সালে ডেনমার্কের সঙ্গে লড়াই, ২০০২ সালে প্রথম জয় কিংবা ২০১০ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে আয়োজন করে মেক্সিকোর বিপক্ষে সিফিউই শাবালালার সেই অবিস্মরণীয় গোল—সবই দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবলের অমর উপাখ্যান। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রোস এবং তাঁর শিষ্যদের লক্ষ্য আরও বড়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখতে চায় তারা। ব্রোসের জন্য পথটা অজানা নয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের জার্সিতে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছেন তিনি। তবে গ্রুপ ‘এল’-এ দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়তে হবে অন্যতম স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো, ইউরোপীয় শক্তি চেক প্রজাতন্ত্র এবং এশিয়ান জায়ান্ট দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের ম্যাচ দিয়েই পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের।

বর্তমান দলটিতে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। গোলপোস্টের নিচে আছেন রনওয়েন উইলিয়ামস, যিনি ২০২৪ সালের বর্ষসেরা আফ্রিকান গোলরক্ষক। মাঝমাঠে তিবোহো মোকোয়েনার নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণে লাইল ফস্টার কিংবা তরুণ মোহউ এনকোতার গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভয় ধরাতে সক্ষম। ফুটবলপ্রেমীদের নাচিয়ে তোলার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকানরা এখন রোমাঞ্চিত। যেমনটা দেখা গিয়েছিল ২০১০ বিশ্বকাপেও।

কোচ

হুগো ব্রোস

২০২১ সালে দায়িত্ব নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলকে বদলে দিয়েছেন বেলজিয়ান মাস্টারমাইন্ড হুগো ব্রোস। তারুণ্যনির্ভর দল গঠনের পদক্ষেপে থালেন্টে এমবাথা ও ওসউইন অ্যাপোলিসদের মতো উদীয়মান তারকারা এখন দলের প্রাণশক্তি। ২০২৩ আফকনে তৃতীয় হওয়া সেই পরিবর্তনেরই সুফল। ১৬ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফেরা দলটির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পা রাখা। ব্রোসের কৌশলী ফুটবল আর তরুণদের হাত ধরে সেই সম্ভাবনা এখন প্রবল।

দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস। ছবি: সংগৃহীত

তারকা

লাইল ফস্টার

শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় প্রতিপক্ষের রক্ষণে অনবরত চাপ তৈরি করতে পারেন লাইল ফস্টার। বার্নলির এই ফরোয়ার্ডের ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়ার এবং নিখুঁতভাবে গোল করার দারুণ দক্ষতা রয়েছে। ওলন্দাজ ক্লাব অরল্যান্ডো পাইরেটসের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার আক্রমণভাগে মূল ভরসা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩০ ম্যাচে ১০ বার বল জালে পাঠিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে জোড়া গোল করার পাশাপাশি করেছেন জোড়া অ্যাসিস্টও।

তারকা ফুটবলার লাইল ফস্টারের দিকে চোখ থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ছবি: সংগৃহীত
তারকা ফুটবলার লাইল ফস্টারের দিকে চোখ থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস

র‍্যাঙ্কিং: ৬০

অঞ্চল: আফ্রিকা

অংশগ্রহণ: ৪

সর্বোচ্চ সাফল্য: গ্রুপপর্ব

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা
ম্যাচজয়ড্রহার
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ
তারিখপ্রতিপক্ষভেন্যুশুরুর সময় (বাংলাদেশ সময়)
১১ জুনমেক্সিকোমেক্সিকো সিটিরাত ১টা
১৮ জুনচেক প্রজাতন্ত্রআটলান্টারাত ১০টা
২৫ জুনদক্ষিণ কোরিয়ামন্তেরেসকাল ৭টা
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যাঁরা

আ.লীগ নেতারা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত ছিলেন, মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতেন না: আব্দুল মোমেন

যেসব শর্তে ইতিবাচক সাড়া পেলে ইসলামাবাদে আসতে রাজি ইরান

বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার পরিচালনার লাইসেন্স পেল সাবেক উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠান

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত