Ajker Patrika

আবারও মিকেল মেরিনো ম্যাজিক, ১৬ বছর পর সেমিতে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩: ৩৫
আবারও মিকেল মেরিনো ম্যাজিক, ১৬ বছর পর সেমিতে স্পেন
শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর গোলে স্পেনের জয়। ছবি: এএফপি

এলাম, দেখলাম, জয় করলাম— মিকেল মেরিনোর কাজটাই যেন এমন। বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর সবটুকু আলো কেড়ে নিতে খুব বেশি সময় নেন না তিনি। শেষ ষোলোর মতো কোয়ার্টার ফাইনালে এসে স্পেনের ত্রাতা হয়ে উঠলেন এই মিডফিল্ডার। তাঁর শেষ মুহূর্তের গোলেই বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেন।

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। লামিনে ইয়ামাল, দানি অলমো, ফাবিয়ান রুইস আর মিকেল ওইয়ারসাবালের ছোট ছোট পাসে বেলজিয়ামের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করার চেষ্টা চালায় লা রোহা; বিশেষ করে ডান প্রান্তে ইয়ামাল ছিলেন দুর্দান্ত। তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতায় শুরু থেকে চাপে পড়ে রুডি গার্সিয়ার দল।

স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের ফল আসে ৩০ মিনিটে। ইয়ামালের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে ডান দিক দিয়ে উঠে আসেন পেদ্রো পোরো। তাঁর নিচু ক্রস থেকে দানি অলমোর প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কুর্তোয়া। তবে ফিরতি শটে কোনো ভুল করেননি ফাবিয়ান রুইস। কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।

গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে বেলজিয়াম। জেরেমি দোকুর গতি, কেভিন ডি ব্রুইনার আর শার্ল ডে কেতেলারের পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে তারা। ৪১ মিনিটে ডি ব্রুইনার আক্রমণ গড়ে দেওয়ার পর ডান দিক থেকে তিমোতি কাস্তানে দারুণ এক ক্রস বাড়ান। পাও কুবার্সিকে হারিয়ে শক্তিশালী হেডে উনাই সিমনের জালে বল পাঠান ডে কেতেলারে। এই গোলের মধ্য দিয়ে শেষ হয় স্পেনের বিশ্বকাপে টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ড, যা ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের দীর্ঘতম ক্লিন শিট। সর্বশেষ স্পেন গোল হজম করেছিল গত বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে জাপানের কাছে।

বিরতির পর স্পেন আবারও নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। ইয়ামালের একের পর এক শট, পেদ্রির নিখুঁত পাস আর ফেরান তোরেসের গতিতে বেলজিয়ামের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান থিবো কোর্তোয়া। ৭১তম মিনিটে চোট পেয়ে চোখের জল নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে। তাঁর জায়গায় নামেন সেনে লামেন্স।

এরপর ম্যাচ ধীরে ধীরে অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল। ঠিক তখনই তুরুপের তাস খেলেন দে লা ফুয়েন্তে। ৮৫ মিনিটে দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় মিকেল মেরিনোকে। ৮৮ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। পাও কুবার্সির দূরপাল্লার শট লামেন্স তালুবন্দী করতে পারেননি। ফিরতি বল ছয় গজের বক্সে পড়তেই সবার আগে পৌঁছে ডান পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্য ভেদ করেন মেরিনো।

মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যে করা এই গোল বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্পেনের কোনো বদলি ফুটবলারের দ্রুততম গোল। এর আগে ১৯৮২ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে এনরিকে সাউরার ১৫৯ সেকেন্ডের রেকর্ডটি ছিল সর্বোচ্চ। শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষেও ঠিক একইভাবে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলটি করেন মেরিনো। টানা দুই ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর বিশ্বকাপে জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলারও তিনি।

গোল হজমের পর শেষ মুহূর্তে রোমেলু লুকাকুকে সামনে রেখে মরিয়া আক্রমণে ওঠে বেলজিয়াম। তবে আইমেরিক লাপোর্তে ও কুবার্সির রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলাররা।

টানা দুই নকআউট ম্যাচে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করে মেরিনো এখন স্পেনের সবচেয়ে বড় ‘ব্রহ্মাস্ত্র’। যিনি কখনোই হতাশ করেন না কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে। সেই মেরিনোর পায়ে ভর করেই ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে দাঁড়াল লা রোহা। তা-ও টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে। ফাইনালে উঠতে এখন তাদের সামনে বাধা হয়ে আছে ফ্রান্স। ১৪ জুলাই সেমিফাইনালের লড়াইয়ে ডালাসে মুখোমুখি হবে দুই দল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত