Ajker Patrika

‘যা হয়, আল্লাহ ভালোর জন্যই করেন’

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৪৯
‘যা হয়, আল্লাহ ভালোর জন্যই করেন’
জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে পারেননি শরীফুল ইসলাম। ছবি: ক্রিকইনফো

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এক মাসেরও বেশি সময় বাইরে শরীফুল ইসলাম। বাংলাদেশ নিয়মিত খেললেও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ায় তাঁর আর মাঠে নামা হয়নি। তবু নিজেকে দুর্ভাগা মনে করেন না বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার। দল ভালো করলে তিনিও খুশি।

এ বছরের ১১ জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেটাই শরীফুলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সবশেষ কোনো ম্যাচ। বাংলাদেশ এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন টি-টোয়েন্টি ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক টেস্ট খেলেছে। এই চার ম্যাচের একটি ডারউইনে সবশেষ বাংলাদেশের ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়।

ডারউইন থেকে দীর্ঘ সাড়ে ১৪ ঘণ্টার যাত্রা শেষে ম্যাকেতে গতকাল পৌঁছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যুতে অনুশীলনের পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শরীফুল। চোটে পড়ায় দলের ঐতিহাসিক জয়ের অংশ হতে না পেরে কি নিজেকে দুর্ভাগা মনে করেন—তাঁর কাছে এসেছে এমন প্রশ্ন। উত্তরে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘না, দুর্ভাগা না। যেটা (চোট) হয়, সেটা তো বলে কয়ে হয় না। যা হয়, আল্লাহ ভালোর জন্যই করেন। চোটের পর কিছু দিন বিশ্রাম পেয়েছি। পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার কাজ করেছি। এটা শরীরের জন্য ভালো হয়েছে বলে মনে করি।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের স্কোয়াডেই ছিলেন না শরীফুল। তবে ডারউইন টেস্টের আগের দিন (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, পেসার মুশফিক হাসান ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাকের আলী অনিক কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরছেন। সে সময়ই সফলভাবে ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে যান শরীফুল। দলের সঙ্গে যোগ দিতে সেদিন রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তিনি।

যখন খেলতে পারেননি, তখন সতীর্থদের জন্য দোয়া করেছেন শরীফুল। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের ঐতিহাসিক জয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি, ‘যখন ছিলাম না, আমি বলব না যে দুর্ভাগা। যারা খেলছে, তাদের জন্য সব সময় দোয়া করেছি, যাতে তারা সেরাটা দিতে পারে এবং আমরা যেন জিতি। ম্যাচ যখন জিতেছি, বাংলাদেশের সবার চেয়ে আমি বেশি খুশি হয়েছি। এত বড় জয়ে আপনারাও নিশ্চয়ই অনেক খুশি হয়েছেন।’

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ২০ উইকেটের ১৪টিই তুলে নিয়েছেন পেসাররা। যার মধ্যে হাসান মাহমুদ একাই নিয়েছেন ৯ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন ৩ ও ২ উইকেট। ১১১ রানে ৯ উইকেট নিয়ে টেস্টে এক ম্যাচে সেরা বোলিং করেছেন হাসান। পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। ৯ উইকেটের চারটিই করেছেন বোল্ড। তাঁর অপর ৫ উইকেটের চারটিতেই ক্যাচ ধরেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। একটিতে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ ধরেন তানজিদ হাসান তামিম। ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড—দুই ওপেনারকে দুই ইনিংসেই ফিরিয়েছেন হাসান। গতির চেয়েও নিখুঁত লাইন-লেংথে হাসান বোকা বানিয়েছেন হেড-স্টিভ স্মিথ-ক্যামেরন গ্রিনদের।

বাংলাদেশের পেসারদের এমন স্বর্ণযুগ দেখে স্বাভাবিকভাবেই উৎফুল্ল শরীফুল। আজ সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘পেসাররা ভালো করলে অবশ্যই ভালো লাগে। বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং – তিন বিভাগেই ভালো করে, তখন আরও বেশি ভালো লাগে। ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করলেই কিন্তু আমরা জয়টা ছিনিয়ে আনতে পারি।’

ডারউইনে জিততে না পারলেও নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের সঙ্গে উদযাপনের সময় ছিলেন শরীফুল। খেলতে না পারলেও সতীর্থদের সঙ্গে ছবি তুলতে পেরেছেন দেখে খুশি বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। সাংবাদিকদের শরীফুল বলেন, ‘আমার খুবই ভালো লেগেছে। আলহামদুলিল্লাহ। এমন একটা জয়ের অংশ হতে পেরেছি। অন্তত ছবির মধ্যে তো আসতে পেরেছি। সব সময়ই প্রস্তুত। দেখা যাক, যদি রিজিকে থাকে ইনশা আল্লাহ (ম্যাচ খেলা)।’

অস্ট্রেলিয়াকে ডারউইনে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য নিজেদের ইতিহাসকে আরও একটু সমৃদ্ধ করার হাতছানি। দ্বিতীয় টেস্ট জিতলে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে ধবলধোলাই করবে বাংলাদেশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত