Ajker Patrika

‘বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটুক, সেটা চাই না’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ভারত থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচ সরে যেতে পারে। ছবি: এএফপি
ভারত থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচ সরে যেতে পারে। ছবি: এএফপি

২০২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শেষেই লিটন দাস-তানজিদ হাসান তামিমদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বিপিএল খেলে লিটনদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে, সেটা নিয়ে কথাবার্তা বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু সেগুলো বাদ দিয়ে বরং বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে আলাপ-আলোচনা বেশি হচ্ছে।

কোনো মেজর টুর্নামেন্টের আগের ঘটনাপ্রবাহ যে কতটা প্রভাব ফেলে টুর্নামেন্টে, সেটার জলজ্যান্ত উদাহরণ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তামিম ইকবালের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যা ঘটেছিল, শেষ পর্যন্ত আর তিনি বিশ্বকাপেই খেলেননি। সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দশ দলের মধ্যে আট নম্বরে থেকে শেষ করেছিল। সরাসরি না বললেও নাজমুল হোসেন শান্ত কদিন আগে যেন সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন। প্রত্যেক বিশ্বকাপের আগে কোনো না কোনো ঘটনা ঘটে, আর সেটার প্রভাব পড়ে—কদিন আগে শান্ত এমনটাই বলেছিলেন।

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেওয়াতেই মূলত বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে শোনা যাচ্ছে নানা কথাবার্তা। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরামর্শক হাবিবুল বাশার সুমনকে আজ যখন সাংবাদিকেরা শান্তর কথার প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করেন, উত্তরে তিনি (সুমন) বলেন,‘যেটা বলছিলাম ক্রিকেটারদের মধ্যে অবশ্যই বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ হয়। তারা এই ব্যাপারে ভাবেন। এই জিনিসগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে না। কোনো বিশ্বকাপের আগে এমন ঘটনা ঘটুক, আমরা অবশ্যই সেটা চাই না। আমরা শুধু চাই যে বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেট নিয়েই চিন্তা করব। তবে যেহেতু এমন হয়ে যায়...এর আগেও তো এমন হয়েছে। মাঝেমধ্যে সেকারণে ফলও ভালো আসেনি। এই মুহূর্তে মনে হয় ক্রিকেটাররা সেখান থেকে ব্যক্তি হিসেবে আমি ইতিবাচক চিন্তা করতে চাই।’

২০২৬ বিপিএলে ৩৪ ম্যাচের মধ্যে ২৪ ম্যাচ হয়ে গেছে। পরশু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বিপিএলের শেষ অংশ। আশপাশে কী হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে না ভেবে লিটন, তানজিদ তামিম, মোস্তাফিজুর রহমানদের বরং বিপিএলে মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সুমন। সাংবাদিকদের আজ চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরামর্শক বলেন, ‘আমি যদি ক্রিকেটার হতাম, তাহলে যেটা করতাম যে সামনে বিপিএল আছে। এটাকেই (বিপিএল) সুন্দরভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতাম। ক্রিকেটাররা সবাই পেশাদার। তাদের এই মুহূর্তে বিপিএল নিয়ে চিন্তা করা উচিত। যেহেতু টুর্নামেন্ট একেবারে শেষের দিকে চলে এসেছে। এ সময় দলগুলোর পারফরম্যান্স ম্যাচের ফলে প্রভাব রাখবে। আমার মনে হয় তারা খেলা নিয়ে চিন্তা করছে। তারপরও দেখা যাক আমাদের কী হয়।’

মুম্বাই-কলকাতার পরিবর্তে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ভেন্যু চেন্নাই, তিরুবনন্তপুরমে হতে পারে বলে ক্রিকবাজে কদিন আগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিসিবি তাদের অবস্থানে এখনো অনড়। বিশ্বকাপকে ঘিরে যেসব আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের আজ সুমন বলেন, ‘আশা করি না (বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলা)। কারণ, এই জিনিসটা তো আমাদের হাতে নেই। ক্রিকেটারদের হাতেও অবশ্যই নেই। সংবাদগুলো অবশ্যই এড়ানো যায় না। আলোচনা তো হয়। ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে আলাপ করে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, আমরা যখন খেলার বাইরে থাকি, তখন ক্রিকেট নিয়ে আলাপ করি। তাদের বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ করি। খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।’

টুর্নামেন্টের প্রথম দিন ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে হওয়ার কথা বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ। একই মাঠে ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি লিটনদের প্রতিপক্ষ ইতালি ও ইংল্যান্ড। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ ১৬ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে বাংলাদেশের খেলার কথা নেপালের বিপক্ষে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিসিবি বিশ্বকাপের ভেন্যু ভারত থেকে সরাতে আইসিসির কাছে দুইবার চিঠি দিয়েছে। সুমনের মতে এসব ঘটনা নিয়ে ক্রিকেটারদের তেমন চিন্তা না করে মাঠের পারফরম্যান্সেই ফোকাস করা উচিত। সাংবাদিকদের আজ চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরামর্শক বলেন, ‘যদি আমরা সেটা (বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন) নিয়ে চিন্তা করি, সেটা নিয়ে অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে সেটা ভালো হবে না। যা-ই ঘটুক, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের কাজ ক্রিকেট খেলা। যেটাই হোক, সেটা তো ক্রিকেটারদের হাতে নেই। তাদের শুধু এটা চিন্তা করা উচিত যখন খেলব, ক্রিকেট নিয়ে চিন্তা করব। সেটাতেই ভালো করার চেষ্টা করব।’

আইসিসির সঙ্গে আজ বিকেলে ভিডিও কনফারেন্স হওয়ার কথা বিসিবি আজ বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহসভাপতি মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, ফারুক আহমেদ ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন সেই সভায় ছিলেন। সভা শেষে যখন ফারুক-শাখাওয়াতরা বের হয়েছেন, তখন তাঁদের ঘিরে ধরেন সাংবাদিকেরা। গাড়িতে ওঠার সময় সাংবাদিকদের শাখাওয়াত বলেন, আমরা যে অবস্থান নিয়েছি, সেখানেই আছি। আমাদের জায়গা থেকে এক ইঞ্চিও নড়ব না। মানে ভারতে আমরা যাব না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত