Ajker Patrika

নতুন সাকিব খুঁজছেন বাংলাদেশ কোচ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৪০
নতুন সাকিব খুঁজছেন বাংলাদেশ কোচ
ভবিষ্যৎ সাকিব আল হাসান খুঁজছেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে পারছেন না সাকিব আল হাসান। ঘরের মাঠে হোক কিংবা বিদেশ—বাংলাদেশের জার্সিতে ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে সাকিবকে দেখা যায়নি। মাঝে তাঁর ফেরার কথা অনেকবার শোনা গেলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। এখন ভবিষ্যৎ সাকিবের খোঁজে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।

কানপুরে ভারতের বিপক্ষে ২০২৪ সালে টেস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের জার্সিতে সাকিব ১৪৭৩০ রান করেছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর খেলে ৪৪৭ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়েছেন ৭১২ উইকেট। এমন তারকা অলরাউন্ডারকে ছাড়াই বাংলাদেশ গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্বে থাকা মুশতাকও বুঝতে পেরেছেন সাকিবের মতো ক্রিকেটারের প্রয়োজনীয়তা। মিরপুরের ইনডোরে আজ সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা তৈরি করছি (সাকিবের মতো অলরাউন্ডার)। এটা নিয়ে ভাবছি।’

সাকিবই যে বাংলাদেশের একমাত্র বাঁহাতি স্পিনার। অতীতে মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাকের মতো বাঁহাতি স্পিনার ছিলেন। তাইজুল ইসলাম বাঁহাতের ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষকে বোকা বানাচ্ছেন। নাসুম আহমেদও দারুণ কার্যকরী। কিন্তু তাঁরা ভেলকি দেখাচ্ছেন কেবল বোলিংয়ে।

সাকিব যদি এখন ফেরেনও, কত দিন খেলতে পারবেন, সেটাও একটা প্রশ্ন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৯ বছর। মুশতাক তাই এমন এক বাঁহাতি স্পিনার চান, যিনি ব্যাটিং-বোলিং সব বিভাগেই সমান দক্ষ। সাকিবের মত অলরাউন্ডার খুঁজে বের করা যে সহজ না, সেটা মানছেনও তিনি। মিরপুরে আজ সাংবাদিকদের বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ বলেন, ‘এমন বাঁহাতি স্পিনার খুঁজছি যে ব্যাটিংও করতে পারবে। হুট করে একটা বৃক্ষ তো গড়ে তুলতে পারবেন না। এখন একজন বাঁহাতি স্পিনার দরকার যে ব্যাটিংও করতে পারে। আশা করি দ্রুত খুঁজে পাব।’

ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিংয়ের পাশাপাশি বাউন্সার, ইয়র্কারে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিচ্ছেন নাহিদ রানা। তাঁর প্রশংসাং পঞ্চমুখ ইয়ান বিশপ, হার্শা ভোগলে, ওয়াকার ইউনিস, ওয়াসিম আকরামের মতো ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। মিরপুরে আজ প্রসঙ্গক্রমে রানার কথাও উল্লেখ করেছেন মুশতাক, ‘আমাদের এখন রানা আছে। সে ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করতে পারে।’

তাইজুলের পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজও টেস্টে ঘূর্ণিজাদুতে প্রতিপক্ষকে কাবু করতে জানেন। আর ব্যাটিংয়ে কোনো সময় ধস নামলে সেখানেও মিরাজ কার্যকরী হতে পারেন। লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন তিন বছরে সাদা বলে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), বিগ ব্যাশে নজরকাড়া পারফর্ম করেছেন রিশাদ। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিশাদ ১৪ উইকেট নিয়ে সাকিবের এক আসরে ১১ উইকেটের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে।

২০২৪ সালে মুশতাক যখন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ হয়েছেন, রিশাদ তখন থেকেই পরিণত হয়ে উঠছেন। বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম, নাসুমরাও যখনই সুযোগ পাচ্ছেন নিজেদের সেরাটা দিচ্ছেন। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, টেস্ট—সব সংস্করণেই বাংলাদেশ নিয়মিত সিরিজ জিতছে। বাংলাদেশের স্পিনারদের প্রশংসায় ভাসিয়ে স্পিন বোলিং কোচ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঝের ওভারে উইকেট আনতে ভালো স্পিনার লাগবেই। তাইজুল আছে, মিরাজ আছে, সাদা বলে রিশাদ, নাসুম, তানভীররা সবাই ভালো করছে। এ কারণেই আমরা এখন অনেক সিরিজ জিততে পারছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত