Ajker Patrika

লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তা, বাফুফেকে ১০ ক্লাবের চিঠি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তা, বাফুফেকে ১০ ক্লাবের চিঠি
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ছবি: সংগৃহীত

নতুন মৌসুমের ঘরোয়া ফুটবল শুরু হতে না হতেই সূচি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে দেশের শীর্ষ স্তরের ১০টি ক্লাব। জাতীয় দলের কার্যক্রম, ফিফা উইন্ডো, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের কারণে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ (বিএফএল) ও ফেডারেশন কাপে একাধিক দীর্ঘ বিরতির আশঙ্কা করছেন ক্লাব কর্মকর্তারা। তাঁদের যুক্তি, খেলা বন্ধ থাকলেও খেলোয়াড়দের বেতন, আবাসন ও অন্যান্য ব্যয় বন্ধ থাকে না। এতে একদিকে বাড়ে আর্থিক চাপ, অন্যদিকে খেলোয়াড়েরা হারান ম্যাচ ফিটনেস ও ছন্দ।

এসব বিষয় সামনে রেখে আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ১০ ক্লাব। দাবিগুলো এসেছে মোহামেডান, আবাহনী লিমিটেড, রহমতগঞ্জ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাব, সিটি ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, পিডব্লুডি ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেনসের পক্ষ থেকে। তবে চিঠিতে স্বাক্ষর করেনি বসুন্ধরা কিংস, ফর্টিস এফসি ও পুলিশ এফসি।

ক্লাবগুলোর অন্যতম প্রধান দাবি, লিগ ও ফেডারেশন কাপের সূচি এমনভাবে করা হোক, যাতে জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ বিরতি না আসে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ক্লাবে ফিরে আসার পর দ্রুত ঘরোয়া প্রতিযোগিতা চালু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মৌসুম শেষ করার কথাও বলেছে তারা।

ক্লাবগুলোর আশঙ্কা, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের ফিফা উইন্ডো এবং ৪ থেকে ১৭ নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে ঘরোয়া ফুটবলে বড় বিরতি তৈরি হতে পারে। এ সময় মাঠে খেলা না থাকলেও খেলোয়াড়দের বেতন ও আবাসনসহ নিয়মিত পরিচালন ব্যয় বহন করতে হবে ক্লাবগুলোকে। জাতীয় দলের স্বার্থে লিগ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলে সেই সময়ে ক্লাবগুলোকে বাফুফে কী ধরনের আর্থিক সহায়তা দেবে, সেটিও পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে তারা।

শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, দীর্ঘ বিরতিতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে ক্লাবগুলো। নিয়মিত ম্যাচ না থাকলে শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়। ফলে প্রতিযোগিতার মান ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬–২৭ মৌসুমের লিগ ও ফেডারেশন কাপের ম্যাচ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ম্যাচের ভেন্যু নির্ধারণের পর শেষ মুহূর্তে যেন তা পরিবর্তন বা স্থগিত করতে না হয়, সে জন্য বাফুফেকে কার্যকর লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা তৈরির কথাও বলেছে ক্লাবগুলো।

লিগ পরিচালনার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন চেয়েছে তারা। অংশগ্রহণকারী সব ক্লাবের সরাসরি ও সক্রিয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে লিগ কমিটিকে আরও কার্যকর করার দাবি রয়েছে। ক্লাবগুলোর মতে, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং প্রতিযোগিতা পরিচালনায় গতি আসবে।

সবশেষে গত কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা পার্টিসিপেশন মানি পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছে ১০ ক্লাব। পাশাপাশি লিগের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের জন্য প্রাইজমানি দেওয়ার ব্যবস্থাও চালুর অনুরোধ করেছে তারা।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত