Ajker Patrika

বাবা হারানোর শোক ছাপিয়ে ফুটবলে আলো ছড়াচ্ছে ১৩ বছরের অনন্যা

আনোয়ার সোহাগ, ঢাকা
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ২৩
সদ্যপুস্করিনীর হয়ে নারী ফুটবল লিগ খেলছেন অনন্যা। ছবি: বাফুফে
সদ্যপুস্করিনীর হয়ে নারী ফুটবল লিগ খেলছেন অনন্যা। ছবি: বাফুফে

জীবন কখনো কখনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। ১৩ বছরের এক কিশোরী। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে যার ঢাকায় পা রাখার কয়েক দিনের মধ্যে শুনতে হলো বাবা হারানোর খবর। শোক তাকে ছেয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু পাথরে পরিণত করতে পারেনি। বরং শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে মাতিয়েছে সবুজ গালিচা।

নারী ফুটবল লিগে পরশু কাচারিপাড়া একাদশ উন্নয়ন সংস্থাকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সদ্যপুস্করিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। হ্যাটট্রিক করে সেই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতে অনন্যা খানম। ১০ হাজার টাকার চেক যখন হাতে তখনো তাকে স্বাভাবিকই লাগছিল। অনন্যা কেন অন্যদের চেয়ে অনন্য, সেই উত্তর পাওয়া গেল সদ্যপুস্করিনীর কোচ মিলন মিয়ার কথায়। ২ জানুয়ারি রাতে তিনি শুনতে পান অনন্যার বাবা হারানোর খবর। যদিও তা আড়াল করে রাখেন অনন্যার কাছে। শুধু এতটুকু আভাস দেন, তার বাবা খুব অসুস্থ।

সেদিনই রাতে কমলাপুর থেকে রংপুরের বাস ধরে অনন্যা। পরদিন বাড়ি গিয়ে দেখে বাবা আর নেই। স্ট্রোকে আগের দিন না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। এমন মুহূর্তে কে না হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। অনন্যা তো শুধু কিশোরী। বাবার দাফনকার্য শেষ হওয়ার পরই অনন্যা ফিরে আসে ঢাকায়। শোকতাপেও অদম্য অনন্যা। ৪ জানুয়ারি পুলিশ এফসির বিপক্ষে ম্যাচ ছিল তার।

আনসার ভিডিপিকে হারিয়ে লিগ শুরু করেছে সদ্যপুস্করিনী। অনন্যা চায়নি শুরুর এ ছন্দ হারাতে। এখন ছুটি কাটালে সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়ায় ঘাটতি হতে পারে। গতকাল আজকের পত্রিকার সঙ্গে আলাপচারিতায় অনন্যা নিজের অদম্য মনোভাবই তুলে ধরেছে, ‘বাসা থেকে বলেছিল আজকেই (৩ জানুয়ারি) তো মাটি দিল, আর আজকেই চলে যাবি। আমার মনে হয়েছে, ফিরে গেলেই ভালো হবে। ওখানে থাকলে আরও দুর্বল হয়ে পড়তাম। সে জন্য চলে আসি।’

পুলিশের বিপক্ষে ম্যাচটা অবশ্য ভালো যায়নি অনন্যার। দল হেরেছে ২-০ গোলে। তবে পরশু কাচারিপাড়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তার জ্বলে ওঠার মঞ্চ হয়ে দাঁড়ায়। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গোল তিনটি পায় ২৮, ৩৪ ও ৩৮ মিনিটে। তার অন্যতম বিশেষ দিক হলো দ্রুতগতিতে দৌড়াতে পারা। তাই তো বাঁ প্রান্ত দিয়ে একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নাজেহাল করে ছাড়ে। প্রতিটি মুহূর্তে অনন্যা খুঁজে পেত তার রিকশাচালক বাবাকে, ‘যখন গোল করি, তখনই বাবার কথা মনে পড়ছিল। বাবা আমাকে অনেক সাপোর্ট দিতেন। রংপুর থেকে এখানে আসার পর কেঁদেছি অনেক। এখন মা আর আমাকে পরিবারটা সামলাতে হবে।’

ফুটবলার হয়ে ওঠার পথে অনন্যার বাধাবিপত্তিও কম ছিল না। তবে সব সময় ঢাল হয়ে দাঁড়াতেন মা-বাবা। ‘গ্রামের মুরুব্বিরা বাধা দিতেন অনেক। আমার মা-বাবা যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছেন। তাঁরা না থাকলে আমি এত দূর আসতে পারতাম না’—বলছিল অনন্যা।

বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলায় হলেও অনন্যা পড়াশোনা করছে রংপুর সদর উপজেলা পালিচড়া স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে। ফুটবলে এখনো বাফুফের বয়সভিত্তিক দলের গণ্ডি এখনো পার করতে পারেনি। তবে স্বপ্নটা তার যথেষ্ট বড়, ‘ভালো পেশাদার খেলোয়াড় হতে চাই। আমার স্বপ্ন ইউরোপের ক্লাবে জায়গা করে নেওয়া।’

অনন্যাকে বরাবরই বাকিদের চেয়ে একটু আলাদা চোখে দেখেন সদ্যপুস্করিনীর কোচ মিলন । কারণটাও বলেন তিনি , ‘অনন্যা অনেক ছোটবেলায় আমার এখানে আসছে । খুব সাহসী একটা মেয়ে এবং যখন ওকে কোনো টেকনিক্যাল বা ট্যাকটিক্যাল কোনো জিনিস বোঝাই , খুব মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং মাঠে প্রয়োগের চেষ্টা করে।’ মিলন বলছিলেন , অন্যান্যর মতো মেয়েদের কাছে ফুটবল একটা যুদ্ধ বা নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার একটা মাধ্যম । যে যুদ্ধে জিতে অনন্যাও নারী ফুটবলারদের বড় মঞ্চে আলোকিত করতে পারবে কি না , তা সময়ই বলে দেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইসিসি থেকে বিসিবি বছরে আসলে কত টাকা পায়

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ইরান, বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পতুষ্টি করছে বললেন খামেনি

খামেনির ছবিতে আগুন দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেন ইরানি নারীরা—নেপথ্যে কী?

ছয়জনের লিফটে বরসহ ১০ জন উঠে আটকা, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় উদ্ধার

‘রাতারাতি’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম জাপান—চীনের বিস্ফোরক দাবি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত