আজকের পত্রিকা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার বন্য পাখিদের নিয়ে করা এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণায় বলা হয়, এসব পাখিদের লিঙ্গ পরিবর্তনের ঘটনা পূর্বের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ঘটে। এমনকি জেনেটিক বা জিনগতভাবে পুরুষ কুকাবুরাকে ডিম পাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা পাখিদের জগতে বিরল এবং এ ধরনের ঘটনার অন্যতম প্রথম প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের (UniSC) সহযোগী অধ্যাপক ও আচরণবিজ্ঞানী ড. ডমিনিক পটভিনের একটি গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট বায়োলজি লেটারস সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলটি দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডের পাঁচটি প্রজাতির প্রায় ৫০০টি পাখি পরীক্ষা করেন। এই পাঁচ প্রজাতি হলো অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাই, লাফিং কুকাবুরা, ক্রেস্টেড পিজন, রেইনবো লরিকেট ও স্ক্যালি-ব্রেস্টেড লরিকেট।
এগুলো সবাই আহত বা অসুস্থ অবস্থায় বন্য প্রাণী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং মৃত্যুর পর তাদের শারীরিক ও জিনগত বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষিত পাখিদের প্রায় ৬ শতাংশের জেনেটিক লিঙ্গ এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অমিল ছিল। কিছু পাখি জেনেটিকভাবে পুরুষ হলেও ছিল স্ত্রী প্রজনন অঙ্গযুক্ত, আবার কিছু জেনেটিক মহিলা ছিল পুরুষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এমনকি কয়েকটি পাখির শরীরে একসঙ্গে ডিম্বাশয় ও অণ্ডকোষের মতো গঠনও পাওয়া যায়।
ড. ডমিনিক পটভিন বলেন, ‘আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান ছিল—যেসব পাখির লিঙ্গ পরিবর্তন হয়েছিল, তাদের ৯২ শতাংশই জেনেটিকভাবে নারী ছিল, কিন্তু তাদের প্রজনন অঙ্গ ছিল পুরুষদের মতো।’
গবেষণায় সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ছিল, একটি জেনেটিকভাবে পুরুষ কুকাবুরার ডিম পাড়ার প্রমাণ। ওই পাখির ওভিডাক্ট (স্ত্রী প্রাণীদের প্রজননতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ) ফুলে ছিল এবং ডিম্বাণু ধারণকারী ফোলিকল ছিল বড়, যা সাম্প্রতিক ডিম উৎপাদনের ইঙ্গিত দেয়।
পুপলার সায়েন্সকে পটভিন বলেন, ‘এটি ইঙ্গিত করে যে বন্য পাখিদের লিঙ্গ নির্ধারণ ব্যবস্থাটি আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি নমনীয় এবং এটি প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও পরিবর্তিত হতে পারে।’
গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের লিঙ্গের অমিল পাখি সংরক্ষণ ও জনসংখ্যা গবেষণায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ, ডিএনএ, পালক কিংবা আচরণের ভিত্তিতে পাখির লিঙ্গ নির্ধারণ করলে প্রায় ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষ করে যেসব পাখি বিলুপ্তপ্রায়, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভুল লিঙ্গ নির্ধারণ প্রজনন হার এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যে কারণে লিঙ্গ পরিবর্তন হয়
গবেষণায় পাখিদের লিঙ্গ পরিবর্তনের কারণ পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পরিবেশগত কিছু উপাদান, যেমন স্ট্রেস হরমোন বা হরমোন-বিনষ্টকারী রাসায়নিকের প্রভাব থাকতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ডিম পাড়া পুরুষ কুকাবুরাটি আধা-নগরায়িত এলাকায় পাওয়া যায়, যেখানের পরিবেশে এসব রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি বেশি হতে পারে।
মাছ, উভচর ও সরীসৃপ প্রাণীদের মধ্যে এই ধরনের লিঙ্গ পরিবর্তনের ঘটনা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে প্রমাণিত। তবে পাখিদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল এবং প্রচলিত লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

অস্ট্রেলিয়ার বন্য পাখিদের নিয়ে করা এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণায় বলা হয়, এসব পাখিদের লিঙ্গ পরিবর্তনের ঘটনা পূর্বের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ঘটে। এমনকি জেনেটিক বা জিনগতভাবে পুরুষ কুকাবুরাকে ডিম পাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা পাখিদের জগতে বিরল এবং এ ধরনের ঘটনার অন্যতম প্রথম প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের (UniSC) সহযোগী অধ্যাপক ও আচরণবিজ্ঞানী ড. ডমিনিক পটভিনের একটি গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট বায়োলজি লেটারস সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলটি দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডের পাঁচটি প্রজাতির প্রায় ৫০০টি পাখি পরীক্ষা করেন। এই পাঁচ প্রজাতি হলো অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাই, লাফিং কুকাবুরা, ক্রেস্টেড পিজন, রেইনবো লরিকেট ও স্ক্যালি-ব্রেস্টেড লরিকেট।
এগুলো সবাই আহত বা অসুস্থ অবস্থায় বন্য প্রাণী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং মৃত্যুর পর তাদের শারীরিক ও জিনগত বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষিত পাখিদের প্রায় ৬ শতাংশের জেনেটিক লিঙ্গ এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অমিল ছিল। কিছু পাখি জেনেটিকভাবে পুরুষ হলেও ছিল স্ত্রী প্রজনন অঙ্গযুক্ত, আবার কিছু জেনেটিক মহিলা ছিল পুরুষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এমনকি কয়েকটি পাখির শরীরে একসঙ্গে ডিম্বাশয় ও অণ্ডকোষের মতো গঠনও পাওয়া যায়।
ড. ডমিনিক পটভিন বলেন, ‘আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান ছিল—যেসব পাখির লিঙ্গ পরিবর্তন হয়েছিল, তাদের ৯২ শতাংশই জেনেটিকভাবে নারী ছিল, কিন্তু তাদের প্রজনন অঙ্গ ছিল পুরুষদের মতো।’
গবেষণায় সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ছিল, একটি জেনেটিকভাবে পুরুষ কুকাবুরার ডিম পাড়ার প্রমাণ। ওই পাখির ওভিডাক্ট (স্ত্রী প্রাণীদের প্রজননতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ) ফুলে ছিল এবং ডিম্বাণু ধারণকারী ফোলিকল ছিল বড়, যা সাম্প্রতিক ডিম উৎপাদনের ইঙ্গিত দেয়।
পুপলার সায়েন্সকে পটভিন বলেন, ‘এটি ইঙ্গিত করে যে বন্য পাখিদের লিঙ্গ নির্ধারণ ব্যবস্থাটি আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি নমনীয় এবং এটি প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও পরিবর্তিত হতে পারে।’
গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের লিঙ্গের অমিল পাখি সংরক্ষণ ও জনসংখ্যা গবেষণায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ, ডিএনএ, পালক কিংবা আচরণের ভিত্তিতে পাখির লিঙ্গ নির্ধারণ করলে প্রায় ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষ করে যেসব পাখি বিলুপ্তপ্রায়, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভুল লিঙ্গ নির্ধারণ প্রজনন হার এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যে কারণে লিঙ্গ পরিবর্তন হয়
গবেষণায় পাখিদের লিঙ্গ পরিবর্তনের কারণ পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পরিবেশগত কিছু উপাদান, যেমন স্ট্রেস হরমোন বা হরমোন-বিনষ্টকারী রাসায়নিকের প্রভাব থাকতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ডিম পাড়া পুরুষ কুকাবুরাটি আধা-নগরায়িত এলাকায় পাওয়া যায়, যেখানের পরিবেশে এসব রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি বেশি হতে পারে।
মাছ, উভচর ও সরীসৃপ প্রাণীদের মধ্যে এই ধরনের লিঙ্গ পরিবর্তনের ঘটনা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে প্রমাণিত। তবে পাখিদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল এবং প্রচলিত লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

বাঙালি পাতে এক টুকরা বড় কার্পের পেটি কিংবা মুড়িঘণ্ট না হলে ভোজন যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। কিন্তু এই সুস্বাদু অভিজ্ঞতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় সূক্ষ্ম কাঁটা। কার্প মাছ নিয়ে ভোজনরসিকদের ধৈর্যের পরীক্ষা হয়। এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি সাধারণ কার্পে প্রায় ৮০টির বেশি ক্ষুদ্র ও ওয়াই-আকৃতির...
২ দিন আগে
বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী ছিল উত্তপ্ত ম্যাগমায় ঢাকা এক অনাবাসযোগ্য পাথুরে গ্রহ। আজকের নীল-সবুজ, প্রাণে ভরপুর পৃথিবীতে তার রূপান্তরের ইতিহাস এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। তবে ২০২৫ সালে একের পর এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা আমাদের এই গ্রহটির অতীত, গভীরতা ও অদ্ভুত আচরণ সম্পর্কে নতুন জানালা খুলে দিয়েছ
৫ দিন আগে
তিনি বলেন, ‘তারমিম ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। এর শারীরবৃত্তীয়, জৈব-রাসায়নিক ও শারীরিক সব সূচকই স্বাভাবিক রয়েছে। প্রত্যাশিতভাবে তারমিমের পেশির বৃদ্ধি তার অ-সম্পাদিত যমজ বোনের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পার্থক্য আরও বাড়তে পারে বলে আমরা মনে করি।’
৭ দিন আগে
দশকের পর দশক কিংবা শতাব্দীকাল ধরে মানবসভ্যতার নানা অধ্যায়ে জমে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে বিশ্বজুড়ে এ বছর গবেষকেরা যেন গোয়েন্দার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। প্রত্নতত্ত্ব, জেনেটিক বিজ্ঞান, মাইক্রোবায়োলজি ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৫ সালে উন্মোচিত হয়েছে বহু ঐতিহাসিক রহস্য।
১১ দিন আগে