Ajker Patrika

চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষণা: কাঁটাহীন কার্প মাছ

শুভ আনোয়ার
চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষণা: কাঁটাহীন কার্প মাছ

বাঙালি পাতে এক টুকরা বড় কার্পের পেটি কিংবা মুড়িঘণ্ট না হলে ভোজন যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। কিন্তু এই সুস্বাদু অভিজ্ঞতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় সূক্ষ্ম কাঁটা। কার্প মাছ নিয়ে ভোজনরসিকদের ধৈর্যের পরীক্ষা হয়। এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি সাধারণ কার্পে প্রায় ৮০টির বেশি ক্ষুদ্র ও ওয়াই-আকৃতির কাঁটা থাকে।

কাঁটাগুলো মাংসের গভীরে এমনভাবে গেঁথে থাকে যে বড় হাড় বা মেরুদণ্ড সরিয়ে ফেলার পরও নিস্তার পাওয়া যায় না। এ সমস্যার সমাধান করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন এমন এক নতুন জাতের ‘গিবেল কার্প’, যার শরীরে একটিও ক্ষুদ্র কাঁটা নেই।

চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষক কুই চিয়ানফাংয়ের নেতৃত্বে একটি গবেষকদল সম্প্রতি এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা ঘোষণা করেছে। তাঁরা জিন সম্পাদনার মাধ্যমে ‘চোংখ্য নং ৬’ নামক একটি বিশেষ জাত তৈরি করেছেন, যা কেবল কাঁটাহীন নয়, দ্রুত বর্ধনশীলও।

‘চোংখ্য নং ৬’ আগের পরীক্ষামূলক জাতগুলোর চেয়ে শক্তিশালী। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এটি মাছচাষিদের জন্যও লাভজনক হবে। প্রথমে বিজ্ঞানীরা মাছের শরীরের জটিল জিনেটিক ম্যাপ তৈরি করেন। সেই বিশ্লেষণে তাঁরা একটি নির্দিষ্ট জিন শনাক্ত করেন, যা মাছের শরীরের কাঠামো ঠিক করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র কাঁটা তৈরির নির্দেশ দেয়।

গিবেল কার্পের জিনেটিক গঠন জটিল, এতে ক্রোমোজোমের একাধিক সেট থাকে। তাই সাধারণ পদ্ধতিতে জিনটি বাদ দেওয়া কঠিন ছিল। চীনা বিজ্ঞানীরা এ কাজে ব্যবহার করেছেন অণু আকৃতির ‘আণবিক কাঁচি’, যা দিয়ে নির্দিষ্ট জিনটি সরানো সম্ভব হয়েছে।

২০২৩ সালে প্রথম এই কাঁটাহীন কার্প নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশের পর থেকে গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ‘প্রিসিশন সিড ডিজাইন অ্যান্ড ক্রিয়েশন’ নামক কৌশলগত গবেষণা কর্মসূচির আওতায় টানা ছয় বছরের নিরলস চেষ্টায় এ সফলতা এসেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এবং মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

সূত্র: সিএমজি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত