Ajker Patrika

প্রাপ্তবয়স্ক মস্তিষ্কে নতুন কোষ সৃষ্টি কেন সীমিত, জানা গেল গায়ক পাখিতে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ২৮
প্রাপ্তবয়স্ক মস্তিষ্কে নতুন কোষ সৃষ্টি কেন সীমিত, জানা গেল গায়ক পাখিতে
ছবি: সংগৃহীত

প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া ‘নিউরোজেনেসিস’ মানবদেহে কেন সীমিত, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। গান গাওয়া পাখি বা ‘সঙবার্ড’-এর ওপর করা এই গবেষণায় উঠে এসেছে, নতুন নিউরন তৈরির একটি অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক দিকও থাকতে পারে। আর এই কারণেই হয়তো ‘নিউরোজেনেসিস’ খুবই সীমিত মাত্রায় ঘটে।

বিষয়টি নিয়ে ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকা’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবদেহ প্রতিদিনই পুরোনো কোষ ঝরিয়ে নতুন কোষ তৈরি করে। লোহিত রক্তকণিকার আয়ু প্রায় চার মাস, ত্বকের কোষ টিকে থাকে প্রায় এক মাস, আর অন্ত্রের কোষ কয়েক দিনের মধ্যে বদলে যায়। কিন্তু মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে এই পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া খুবই সীমিত। বয়স বা রোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিউরন স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে এবং মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই অনেক বিজ্ঞানী মনে করতেন, যদি মস্তিষ্কে নতুন নিউরন তৈরির ক্ষমতা বাড়ানো যায়, তাহলে এসব সমস্যা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।

তবে বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষক বেঞ্জামিন স্কট এবং তাঁর সহকর্মীদের নতুন গবেষণা এই ধারণায় নতুন এক প্রশ্ন তুলেছে। ‘কারেন্ট বায়োলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় তাঁরা জেব্রা ফিঞ্চ নামের একটি ছোট পাখির মস্তিষ্ক বিশ্লেষণ করেন, যাদের জীবনজুড়ে নিউরোজেনেসিস ঘটে।

গবেষকেরা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে দেখেছেন, নতুন নিউরনগুলো মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে সরাসরি পুরোনো স্নায়বিক সংযোগ ভেদ করে এগিয়ে যায়। আগে ধারণা করা হতো, নিউরনগুলো ‘গ্লিয়াল স্ক্যাফোল্ড’ নামে পরিচিত কাঠামো অনুসরণ করে সঠিক স্থানে পৌঁছায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, নতুন কোষগুলো অনেকটা ‘টানেল’ তৈরি করে এগোয় এবং এরা পরিণত নিউরনের তুলনায় বেশি শক্ত বা অনমনীয়।

এই প্রক্রিয়ায় নতুন নিউরনগুলো আশপাশের কোষগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে যায় এবং মস্তিষ্কের বিদ্যমান সংযোগগুলোকে বদলে দিতে পারে। গবেষকদের মতে, এতে পুরোনো স্মৃতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করা স্নায়বিক সংযোগ ভেঙে যেতে পারে। অর্থাৎ, নতুন কোষ তৈরি হওয়া যেমন উপকারী, তেমনি এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা স্মৃতির জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে।

গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয়, দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি সংরক্ষণের জন্যই মানুষের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণীতে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় নিউরোজেনেসিস সীমিত থাকার বিবর্তনগত এই কারণ থাকতে পারে। তবে পাখি ও মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ভিন্ন হওয়ায় এই প্রক্রিয়া মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে ঘটে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত