Ajker Patrika

যে কাঁকড়ার নীল রক্ত লাখো মানুষের জীবন বাঁচায়

জাহাঙ্গীর আলম
যে কাঁকড়ার নীল রক্ত লাখো মানুষের জীবন বাঁচায়

পাঁচ জোড়া চোখ, শরীরের ওপরে ঘোড়ার খুরের মতো শক্ত আবরণ, আর ছোট্ট একটি লেজ—যেন এক ভিনগ্রহের প্রাণী! এটিই রাজকাঁকড়া, ইংরেজিতে বলে ‘হর্স হো ক্র্যাব’। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রজাতিটি ৩০ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে বিচরণ করছে। এ কারণেই এটিকে বলা হয় ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’। 

এক সময় সমুদ্রে ব্যাপক বিচরণ ছিল এই কাঁকড়ার। তবে মানুষের কারণে এরা এখন বিপন্ন। বলতে গেলে, মানুষের জীবন রক্ষা করতে এরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে যাচ্ছে! 

এটা কিন্তু হেঁয়ালি নয়, সত্যি। মানুষের জীবন রক্ষাকারী প্রতিষেধকের পেছনে এই কাঁকড়ার অবদান এখনো অবিকল্প। 

নতুন আবিষ্কৃত কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক টিকা মানুষের শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ, সেটি যাচাই করতে লাগে রাজকাঁকড়ার নীল রক্ত। অবিশ্বাস্য শোনালেও এই কাঁকড়ার রক্তের রং ফ্যাকাশে নীল। বেশ কয়েক দশক ধরেই ইউরোপ ও আমেরিকার বহু গবেষণাগারে এই নীল রক্তের ব্যবহার হয়ে আসছে। 

এই কাজে প্রতি বছর লাখ লাখ রাজকাঁকড়া শিকার করে পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণাগারে। সেখানে কাঁকড়াগুলোর হৃৎপিণ্ডের কাছের একটি শিরা কেটে নিংড়ে নেওয়া হয় রক্ত। এরপর সেটিকে আবার সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

কোনো রোগের জন্য আবিষ্কৃত ওষুধে বিপজ্জনক কোনো ব্যাকটেরিয়া আছে কি না—সেটি যাচাই করতে দরকার পড়ে রাজকাঁকড়ার নীল রক্তের। এখন পর্যন্ত একমাত্র রাজকাঁকড়ার রক্ত এই যাচাইয়ের কাজটি নিখুঁতভাবে করতে পারে। কারণ, এই রক্ত সামান্য উপাদানগত পরিবর্তনে দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখায়। সাম্প্রতিক সময়ে কোভিড টিকা তৈরিতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। 

প্রতি বছর এভাবে লাখ লাখ রাজকাঁকড়া ধরা হচ্ছে এবং তাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ক্ষত তৈরি করে দোহন করা হচ্ছে রক্ত। রক্ত সংগ্রহের এই নিষ্ঠুর প্রক্রিয়াটি তাদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে—সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। 

প্রথম যখন পদ্ধতিটির ব্যবহার শুরু হয় তখন বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন, রক্ত নেওয়ার পর প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া প্রায় সব কাঁকড়াই অক্ষত থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্ত নিংড়ে নেওয়া রাজকাঁকড়াদের ৩০ শতাংশ আর বাঁচে না। আরও বিপজ্জনক বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়া স্ত্রী কাঁকড়াগুলো আর কখনোই প্রজননে ইচ্ছুক হয় না—এমন সম্ভাবনা বেশি। 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক দলের তথ্য অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ রাজকাঁকড়ার রক্ত সংগ্রহ করা হয়। রক্ত নিয়ে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়ার পর তাদের জীবনযাপন স্বাভাবিক থাকে কি না তা নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। 

যদিও ওষুধ প্রস্তুতকারী বড় বড় সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান বলে, রাজকাঁকড়ার সংখ্যা কয়েক বছর ধরে মোটামুটি একই রকম আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রাজকাঁকড়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায়-বিপন্ন প্রজাতির কাছাকাছি হিসেবে গণ্য করা হয়। 

তাহলে এর বিকল্প কি কখনোই আসবে না! মানুষের জীবন রক্ষার অজুহাতে এই নিষ্ঠুরতা অনন্তকাল চলতে থাকবে? 

আশার কথা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিকল্প রাসায়নিক ইউরোপে ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সেটি এখনো ততটা আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তা ছাড়া রাজকাঁকড়া পৃথিবীর প্রায় সবখানে পাওয়া যায়। এই সহজলভ্যতার কারণেই ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো বিকল্প খোঁজার গরজ করছে না। অবশ্য একটি বিকল্প ইউরোপে ২০১৬ সালে অনুমোদন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সংস্থাও এতে যুক্ত হয়েছে। 

পরিবেশবিদদের এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় রাজকাঁকড়ার সংখ্যা। কারণ এরা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুতরাং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মানুষের প্রয়োজনে প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতেই হবে। 

সূত্র: বিবিসি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ভুলে যাওয়া যে কারণে উপকারী, ব্যাখ্যা দিলেন স্নায়ুবিদেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
অনেকে আমাদের মনে থেকে যায়, আবার অনেকের স্মৃতি হারিয়ে যায় সময়ের অতল গহ্বরে। ছবি: জেমিনি এআই
অনেকে আমাদের মনে থেকে যায়, আবার অনেকের স্মৃতি হারিয়ে যায় সময়ের অতল গহ্বরে। ছবি: জেমিনি এআই

একটা নীল রঙের ফুল আছে, যার নাম ফরগেট-মি-নট (Forget-me-not)। এই ফুলের সঙ্গে একটা লোককথা জড়িত। মর্মস্পর্শী ওই কাহিনীটি এমন যে, জার্মানির এক নাইট তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে নদীর ধারে হাঁটছিলেন। নদীর পাড়ে ছোট সুন্দর নীল ফুলের সারি দেখতে পেয়ে ওই নাইট প্রেমিকাকে ফুল দিয়ে খুশি করতে চান। ফুল তুলতে গিয়ে পাড় ভেঙে ভারী বর্মসহ নদীতে পড়ে যান ওই নাইট। ভেসে যেতে যেতে ফুলগুলো প্রেমিকার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘আমাকে ভুলে যেও না।’ সেই থেকেই এই ফুলের নাম ‘ফরগেট-মি-নট’। তবে সেই প্রেমিকা নাইটকে আজীবন মনে রেখেছিলেন কি না তা জানা যায়নি।

অনেকে আমাদের মনে থেকে যায়, আবার অনেকের স্মৃতি হারিয়ে যায় সময়ের অতল গহ্বরে। তবে বছরের পর বছর অনেক কিছু স্মৃতিতে ধারণ কিংবা ভুলে যাওয়া কোনটা ভালো এ নিয়ে প্রশ্ন জাগেই। আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিউরোসায়েন্টিস্ট চরণ রঙ্গনাথ।

চরণ তাঁর নতুন বই ‘হোয়াই উই রিমেম্বার’-এ যুক্তি দিয়েছেন, অসম্পূর্ণ স্মৃতি এবং ভুল স্মৃতিচারণ মনের অপরিহার্য উপাদান। তাঁর মতে, ‘স্মৃতি, কেবল একটি আর্কাইভ নয়, বরং এমন একটি প্রিজম, যার মাধ্যমে আমরা নিজেদের, অন্যদের এবং বিশ্বকে দেখি।’

রঙ্গনাথ গত ৩০ বছর ধরে স্মৃতিশক্তি, স্মরণ করা এবং ভুলে যাওয়ার ক্ষমতার পেছনের মস্তিষ্কের প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি মনে করেন, স্মৃতি সম্পর্কে আমাদের বহু প্রচলিত ধারণাই ভুল। যেসব বিষয়কে আমরা স্মৃতির ত্রুটি বা দুর্বলতা বলে ভাবি, সেগুলোর অনেকটাই আসলে স্মৃতির সবচেয়ে কার্যকর বৈশিষ্ট্য থেকেই জন্ম নেয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই আমাদের মানসিক নমনীয়তা তৈরি করে, যা মানবজাতির টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্মৃতি ও মস্তিষ্ক নিয়ে এই আধুনিক গবেষণার ধারণা এবং কীভাবে এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আমাদের ‘সম্পূর্ণ হলেও অপূর্ণ’ মনকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছেন রঙ্গনাথ।

এরর-ড্রাইভেন লার্নিং বা ভুল করার মাধ্যমে শেখা

নিউরনগুলোর মধ্যকার সংযোগের শক্তির পরিবর্তনের মাধ্যমে স্মৃতি তৈরি হয়। এখন, এই সংযোগগুলোর মধ্যে কিছু হয়তো খুব একটা কার্যকর হয় না, আবার কিছু অনেক শক্তিশালী এবং কার্যকর হয়। ত্রুটি-নির্ভর শেখার মূল ধারণা হলো, আপনি যখনই এই স্মৃতিগুলো মনে করার চেষ্টা করবেন, আপনার স্মৃতিচারণ সব সময়ই কিছুটা অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ হবে। এই সময় মস্তিষ্ক যখন স্মৃতিটি বের করার চেষ্টা করে এবং আপনি সেটিকে আসল তথ্যের সঙ্গে তুলনা করেন, তখন নিউরাল নেটওয়ার্কগুলো দুর্বল সংযোগগুলোকে আরও দুর্বল করে দেয় এবং ভালো সংযোগগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

এর অর্থ হলো, আমরা যে বিষয়টি শিখতে চাই, তা বারবার মনে করার চেষ্টা করা সবচেয়ে কার্যকর। কারণ এতে আমাদের দুর্বল দিকগুলো সামনে আসে এবং মস্তিষ্ক স্মৃতিকে আরও উন্নত করার সুযোগ পায়। এ কারণে ‘অ্যাকটিভ লার্নিং’ বা সক্রিয় শেখার পদ্ধতি এত ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। যেমন, গুগল ম্যাপে দেখার বদলে নিজে গাড়ি চালিয়ে কোনো এলাকা ঘুরে দেখা, অথবা নাটকের চিত্রনাট্য বারবার পড়ার চেয়ে মঞ্চে অভিনয় করা। এগুলো মস্তিষ্ককে ভুল ধরতে এবং সংযোগগুলো অপটিমাইজ করতে সাহায্য করে।

ভুলে যাওয়া কি আসলেই উপকারী

আমাদের মধ্যে অনেকেই স্মৃতি হাতড়ে কোনো তথ্য না পেয়ে হতাশ হই, কিন্তু কিন্তু রঙ্গনাথ বলেন, ভুলে যাওয়াই প্রায়ই উপকারী। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘ধরা যাক, আমি আপনার বাড়িতে গিয়েছি। জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কেন কোনো জিনিস জমিয়ে রাখেন না? সবকিছু কেন সংরক্ষণ করেন না? এই যে আমরা যদি সব জমিয়ে রাখতাম, তাহলে ঘরে জঞ্জালে ভরে যেত। তেমনি আমরা যদি কোনো কিছুই না ভুলতাম, তবে স্মৃতির স্তূপ জমে যেন। যখন যে তথ্যটি প্রয়োজন, তখন সেটি কখনোই খুঁজে পেতাম না।’

রঙ্গনাথ বলতে থাকেন, ‘ধরুন, আপনি ঘুরতে গিয়ে একটা হোটেলে উঠলেন। দুই দিন থেকে ফিরে আসলেন। দুই সপ্তাহ পর ওই হোটেলের রুম নম্বর মনে রাখা কি আপনার প্রয়োজন? এটা মনে রাখা তো কোনো অর্থ বহন করে না। একইভাবে, রাস্তায় পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হাজারো মানুষের কথা ভাবুন। আপনার কি সত্যিই তাদের সবার মুখ মনে রাখার প্রয়োজন আছে?

কাউকে স্মৃতিতে ধরে রাখার ভাবনার সঙ্গে সম্পর্ক এই ফুলের, যার নাম ‘ফরগেট-মি-নট’। ছবি: পেক্সেলস
কাউকে স্মৃতিতে ধরে রাখার ভাবনার সঙ্গে সম্পর্ক এই ফুলের, যার নাম ‘ফরগেট-মি-নট’। ছবি: পেক্সেলস

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ভুলোমনা হওয়া

রঙ্গনাথের মতে, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাটি আসলে এমন নয় যে আমরা স্মৃতি তৈরি করতে পারছি না; বরং সমস্যা হলো আমরা যে তথ্যটি মনে রাখা প্রয়োজন সেটির ওপর মনোযোগ দিতে পারছি না। আমরা খুব সহজেই বিভ্রান্ত বা অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি, ফলে অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জায়গা দখল করে নেয়। তাই যখন আমরা কোনো স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করি, তখন আমরা ঠিক যে তথ্যটি খুঁজছি সেটি আর খুঁজে পাই না।’

যেভাবে বাড়াতে পারেন স্মৃতিশক্তি

রঙ্গনাথ স্মৃতির গুণমান উন্নত করার জন্য তিনটি মূল নীতি উল্লেখ করেন—

১. স্বাতন্ত্র্য (Distinctiveness) :

স্মৃতিগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। তাই কিছুই মনে রাখতে চাইলে তা যতটা সম্ভব আলাদা বা চোখে পড়ার মতো হওয়া উচিত। যেসব স্মৃতি বিশেষ কোনো দৃশ্য, শব্দ বা অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোই বেশি দিন মনে থাকে। কেবল চিন্তার জগতে আটকে না থেকে আমাদের দেখার, শোনার বা স্পর্শের অনুভূতিগুলোতে মনোযোগ দিলে স্মৃতিশক্তি আরও উন্নত হয়।

২. স্মৃতির বিন্যাস (Organisation) :

স্মৃতিগুলোকে এমনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে যাতে সেগুলো আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে। বইটিতে রঙ্গনাথ ‘মেমোরি প্যালেস’ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে নতুন শিখতে চাওয়া তথ্যকে আগে জানা তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এটি স্মৃতি আরও জোরালো হয় এবং মনে রাখা সহজ হয়।

৩. সূত্র বা ইঙ্গিত তৈরি করা (Creating Cues) :

প্রয়োজনের সময় কোনো স্মৃতি খুঁজে বের করা বেশ কষ্টসাধ্য এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এর চেয়ে স্মৃতি যদি নিজে থেকেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে তবে তা বেশি কার্যকর। ইঙ্গিত তৈরি করলে এটি ঘটা সম্ভব। যেমন, কোনো গান শুনলে আমাদের কোনো বিশেষ স্মৃতি মনে পড়ে যেতে পারে। আবার প্রতিদিন দরজার কাছে গেলে ময়লার ঝুড়িটি দেখলেই মনে পড়ে যায় ময়লা ফেলার কথা। বিভিন্ন সূত্র বা ইঙ্গিত এভাবেই আমাদের স্মৃতি উন্নত করে থাকে।

স্মৃতিতে ভুল বা অতিরিক্ত তথ্য জায়গা নেয় যেভাবে

খেয়াল করলে দেখবেন, আমাদের মনে থাকা কিছু ঘটনা আসল ঘটনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। রঙ্গনাথের মতে, এর কয়েকটি কারণ আছে—

১. ‘স্কিমা’ বা মানসিক কাঠামো:

মস্তিষ্কে ‘স্কিমা’ নামে এক ধরনের কাঠামো আছে যা আমাদের স্মৃতি সংরক্ষণ সহজ করে। ধরা যাক, আপনি ব্যাংকে গিয়েছেন। ব্যাংকে কী ধরনের ঘটনা ঘটে এবং কী ঘটে না, তার একটি পূর্বধারণা আপনার কাছে আগে থেকে থাকে। এই স্কিমাগুলো আমাদের স্মৃতিতে কতটুকু নতুন তথ্য সংরক্ষণ ও সংযুক্ত করতে হবে তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। তবে কখনো কখনো স্কিমাগুলো স্মৃতিতে থাকা শূন্যস্থানগুলো পূরণ করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভুল তথ্য যোগ করে ফেলে।

২. সময়ের সঙ্গে স্মৃতির পরিবর্তন:

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতির পরিবর্তন দেখা যায়। এটা হওয়াও জরুরি। কারণ স্মৃতির হালনাগাদ না হলে সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। ধরুন, অনেকদিন পর আপনার কোনো আত্মীয়র সঙ্গে দেখা হলো, স্বাভাবিকভাবেই তার চেহারায় পরিবর্তন এসেছে। এখন আগে স্মৃতিতে তিনি যেমন ছিলেন, সেটার পরিবর্তে নতুন স্মৃতি তৈরি করার প্রয়োজন হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় মাঝে মাঝে আমাদের কল্পনাশক্তি স্মৃতিতে ঢুকে যায়, যা ভুল বা অতিরিক্ত তথ্যের জন্ম দেয়।

এ কারণে আমাদের স্মৃতি কখনো কখনো সম্পূর্ণ নির্ভুল থাকে না, যদিও এটাই আমাদের মস্তিষ্কের তথ্য সংরক্ষণ ও মানিয়ে নেওয়ার একটি প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য।

স্মৃতি সহযোগিতায় পরিবর্তনযোগ্য

রঙ্গনাথ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যখন আমরা অন্য মানুষের সঙ্গে আমাদের স্মৃতি ভাগ করি, তখন তা আপডেট হওয়ার সুযোগ পায়। ধরুন, আমি আপনাকে একটা গল্প বলছি। আপনাকে বলার জন্য গল্পটি সাজানোর প্রক্রিয়াটিই আমার মনে রাখার ধরনকে বদলে দিতে পারে। আবার গল্পটি শুনে আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল, তা পরবর্তীতে আমার স্মৃতিকে প্রভাবিত করবে; হয়তো ঘটনাটি আমার কাছে আরও বেশি হাস্যকর হয়ে উঠবে।’

‘অথবা কোনো বিষয়ে আপনি হয়তো আমাকে এমন কিছু অতিরিক্ত তথ্য দিলেন, যা আসলে ভুল ছিল। সেটি আমার স্মৃতিতে জায়গা করে নিলে বাস্তবে কী ঘটেছিল আর আপনি বলার সময় কী বলেছিলেন, এই দুইয়ের মধ্যে আমি দ্বিধায় পড়ে যেতে পারি। এক্ষেত্রে বলা যায়, আমাদের অনেক স্মৃতিই এখন আর আমাদের নিজস্ব নয়, সেগুলো সম্মিলিত বা যৌথ স্মৃতি।’

নিজের লেখা ‘হোয়াই উই রিমেম্বার’ বইটি সম্পর্কে রঙ্গনাথ বলেন, ‘এই বইটি লিখতে গিয়ে আমার স্মৃতি সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখেছি। স্মৃতি সংরক্ষণের ব্যাপারে এটি আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছে। আমি এখন নিয়মিত ব্যায়াম করার চেষ্টা করছি। খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে অনেক সচেতন হয়েছি, যাতে বৃদ্ধ বয়সে আমার মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।’

চরণ রঙ্গনাথের বইটি নিয়ে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক ডেভিড রবসন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই সাক্ষাৎকারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ধানের ‘ক্লোনিং’ প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য, বীজ কোম্পানির একচেটিয়া আধিপত্যের দিন শেষ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ২৮
বীজের বাজারে বহুজাতির কোম্পানির একচেটিয়া আধিপত্যের দিন শেষ হতে চলেছে। ছবি: সংগৃহীত
বীজের বাজারে বহুজাতির কোম্পানির একচেটিয়া আধিপত্যের দিন শেষ হতে চলেছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। চীনা কৃষিবিজ্ঞানীরা এমন এক বৈপ্লবিক হাইব্রিড ধান উদ্ভাবন করেছেন, যা বীজের মাধ্যমে নিজেকে ‘ক্লোন’ বা হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে। এই আবিষ্কারের ফলে প্রতিবছর কৃষকদের চড়া দামে নতুন হাইব্রিড বীজ কেনার চিরাচরিত বাধ্যবাধকতা ভেঙে যাবে। ফলে এই উদ্ভাবন বৈশ্বিক কৃষি অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চীনা একাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের অধীনে ‘চায়না ন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর বিজ্ঞানী ওয়াং কেজিয়ানের নেতৃত্বে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। বিজ্ঞানীরা ধানের প্রজনন প্রক্রিয়ায় ‘এপোমিক্সিস’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যেখানে নিষেক বা ফার্টিলাইজেশন ছাড়াই বীজ তৈরি হয়। এই নতুন ‘Fix8’ সিরিজের ধানে ক্লোনিংয়ের কার্যকারিতা ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি, যা প্রথাগত হাইব্রিড ধানের ফলন ধরে রেখে বংশপরম্পরায় একই গুণাগুণ বজায় রাখতে সক্ষম।

হাইব্রিড ধান উদ্ভাবনের পর থেকে এর সবচেয়ে বড় বাধা ছিল এর উচ্চমূল্য এবং পুনরুৎপাদনে বাধা। সাধারণ ধানের তুলনায় হাইব্রিড বীজের দাম প্রায় ১০০ গুণ বেশি হয়। চীনে ১ কেজি হাইব্রিড বীজের দাম যেখানে প্রায় ২০০ ইউয়ান (২৮ মার্কিন ডলার), সেখানে নতুন এই ক্লোনিং পদ্ধতিতে বীজের উৎপাদন খরচ ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে বাজারে বহুজাতিক বীজ কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য হুমকির মুখে পড়বে। বর্তমানে কৃষকদের প্রতি মৌসুমে নতুন বীজ কিনতে হয়। এতেই তাঁদের আয়ের বড় একটি অংশ চলে যায়। চীনের এই ‘ওয়ান-লাইন’ সিস্টেম এই অর্থনৈতিক শৃঙ্খল ভেঙে কৃষককে স্বাবলম্বী করে তুলবে বলে আশা করা যায়।

বিশ্বজুড়ে কয়েক শ কোটি মানুষ যখন তীব্র খাদ্য-সংকটের মুখে, তখন হাইব্রিড ধানের এই ক্লোনিং প্রযুক্তি আশার আলো দেখাচ্ছে। আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে সাধারণ ধানের তুলনায় হাইব্রিড ধান প্রায় চার গুণ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। যদি এই স্বয়ং-প্রজননশীল হাইব্রিড ধান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে সামগ্রিক ধান উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘হুয়াক্সু’ নামক একটি বিশেষ জিন শনাক্ত করেছেন, যার নামকরণ করা হয়েছে একটি চীনা রূপকথার চরিত্র থেকে যা ‘পিতা ছাড়াই জন্ম’ হওয়া বোঝায়। এই জিনের প্রয়োগের ফলে ভ্রূণ গঠন প্রক্রিয়ায় কোনো বাহ্যিক নিষেকের প্রয়োজন হয় না। গবেষণার তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত দেখা গেছে, ধানের গুণগত মান বা ফলনের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

হাইব্রিড ধানের জনক প্রয়াত ইউয়ান লংপিং এই গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে একে ‘অসাধ্যসাধন’ বলে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমানে এই গবেষণার ফলাফল পিয়ার-রিভিউর অপেক্ষায় রয়েছে। দক্ষিণ চীনের হাইনান এবং পূর্বের ঝেজিয়াং প্রদেশে ইতিমধ্যে ছয়টি প্রজাতির ক্লোন ধানের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই প্রযুক্তি কেবল কৃষকদের খরচই কমাবে না, বরং চরম জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে বিশ্বজুড়ে সুলভ ও টেকসই খাদ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের চলমান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যে এই কৃষি বিপ্লব বেইজিংকে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে এক অনন্য সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

এক ফোঁটা মদ না খেয়েও মাতাল, সেই রোগের কারণ খুঁজে পেলেন গবেষকেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উনিশ শতকের শেষের দিক থেকে চিকিৎসকেরা মাঝেমধ্যে এমন কিছু অদ্ভুত রোগীর কথা বলতেন, যারা এক ফোঁটা মদ পান না করেও খাবার খাওয়ার পর মাতাল হয়ে যেতেন। অটোব্রুয়ারি সিনড্রোম (এবিএস) নামে পরিচিত এই বিরল ও বিরক্তিকর শারীরিক অবস্থার জন্য গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে অন্ত্রের অতিরিক্ত ছত্রাক বা ফাঙ্গাসকে দায়ী করে আসছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, ছত্রাক শর্করাজাতীয় খাবারকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহলে রূপান্তর করে।

তবে ২০১৯ সালের একটি যুগান্তকারী গবেষণাপত্রে প্রথমবার দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে অ্যালকোহল উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়াও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

সম্প্রতি অটোব্রুয়ারি সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীদের ওপর পরিচালিত এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে, এই অবস্থার প্রধান হোতা আসলে ব্যাকটেরিয়া। নেচার মাইক্রোবায়োলজি সাময়িকীতে সম্প্রতি প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদন রোগীদের অন্ত্রের অণুজীবের অ্যালকোহল বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে নতুন চিকিৎসার পথ দেখাতে পারে আশা করা হচ্ছে।

বেইজিংয়ের ক্যাপিটাল ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক্সের মাইক্রোবায়োলজিস্ট জিং ইউয়ান জানান, এই গবেষণাটি ‘ছত্রাক তত্ত্ব’ বাদ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হাজির করেছে।

তাঁর মতে, গবেষকেরা দেখিয়েছেন, এই অবস্থা মূলত ব্যাকটেরিয়াজনিত ইথানল ফারমেন্টেশনের কারণেই ঘটে।

অটোব্রুয়ারি সিনড্রোম সম্পর্কে যা কিছু জানা গেছে, তার বেশির ভাগই বিচ্ছিন্ন ঘটনা থেকে পাওয়া। এর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার পর মাতাল হওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।

উদাহরণ হিসেবে, একজন তরুণী ডায়াবেটিস পরীক্ষার সময় গ্লুকোজ খাওয়ার পর আর হাঁটতে পারছিলেন না। এ রোগের কারণে রোগীরা মারাত্মক সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। যেমন—দিনের বেলা মাতাল থাকার অপবাদে চাকরি হারানো।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান ডিয়েগোর গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং এই গবেষণার প্রধান বের্ন্ড শ্নাবল বলেন, এই রোগ পরিবারগুলোর জন্য ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা।

রোগীরা যখন জোর দিয়ে বলেন, তাঁরা মদ্যপান করেননি, তখন চিকিৎসকেরাও তাঁদের বিশ্বাস করতে চান না। যখন কোনো চিকিৎসক কড়া নজরদারিতে গ্লুকোজ খাওয়ানোর পর ব্রেথালাইজার বা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই সিনড্রোম নিশ্চিত করেন, তখন সাধারণত অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পাশাপাশি কম শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, অ্যালকোহল উৎপাদনকারী অণুজীবগুলোর খাদ্যের জোগান বন্ধ করা।

তবে এতসব প্রচেষ্টার পরেও রোগীরা বছরের পর বছর ধরে হঠাৎ হঠাৎ এই মাতাল হওয়ার উপসর্গে ভুগে থাকেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষণা: কাঁটাহীন কার্প মাছ

শুভ আনোয়ার
চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষণা: কাঁটাহীন কার্প মাছ

বাঙালি পাতে এক টুকরা বড় কার্পের পেটি কিংবা মুড়িঘণ্ট না হলে ভোজন যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। কিন্তু এই সুস্বাদু অভিজ্ঞতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় সূক্ষ্ম কাঁটা। কার্প মাছ নিয়ে ভোজনরসিকদের ধৈর্যের পরীক্ষা হয়। এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি সাধারণ কার্পে প্রায় ৮০টির বেশি ক্ষুদ্র ও ওয়াই-আকৃতির কাঁটা থাকে।

কাঁটাগুলো মাংসের গভীরে এমনভাবে গেঁথে থাকে যে বড় হাড় বা মেরুদণ্ড সরিয়ে ফেলার পরও নিস্তার পাওয়া যায় না। এ সমস্যার সমাধান করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন এমন এক নতুন জাতের ‘গিবেল কার্প’, যার শরীরে একটিও ক্ষুদ্র কাঁটা নেই।

চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষক কুই চিয়ানফাংয়ের নেতৃত্বে একটি গবেষকদল সম্প্রতি এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা ঘোষণা করেছে। তাঁরা জিন সম্পাদনার মাধ্যমে ‘চোংখ্য নং ৬’ নামক একটি বিশেষ জাত তৈরি করেছেন, যা কেবল কাঁটাহীন নয়, দ্রুত বর্ধনশীলও।

‘চোংখ্য নং ৬’ আগের পরীক্ষামূলক জাতগুলোর চেয়ে শক্তিশালী। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এটি মাছচাষিদের জন্যও লাভজনক হবে। প্রথমে বিজ্ঞানীরা মাছের শরীরের জটিল জিনেটিক ম্যাপ তৈরি করেন। সেই বিশ্লেষণে তাঁরা একটি নির্দিষ্ট জিন শনাক্ত করেন, যা মাছের শরীরের কাঠামো ঠিক করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র কাঁটা তৈরির নির্দেশ দেয়।

গিবেল কার্পের জিনেটিক গঠন জটিল, এতে ক্রোমোজোমের একাধিক সেট থাকে। তাই সাধারণ পদ্ধতিতে জিনটি বাদ দেওয়া কঠিন ছিল। চীনা বিজ্ঞানীরা এ কাজে ব্যবহার করেছেন অণু আকৃতির ‘আণবিক কাঁচি’, যা দিয়ে নির্দিষ্ট জিনটি সরানো সম্ভব হয়েছে।

২০২৩ সালে প্রথম এই কাঁটাহীন কার্প নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশের পর থেকে গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ‘প্রিসিশন সিড ডিজাইন অ্যান্ড ক্রিয়েশন’ নামক কৌশলগত গবেষণা কর্মসূচির আওতায় টানা ছয় বছরের নিরলস চেষ্টায় এ সফলতা এসেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এবং মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

সূত্র: সিএমজি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত