
চার দশকের বেশি সময় ধরে ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। তবে ডিএনএর আয়ু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। এই প্রশ্নের উত্তর বহুদিন ধরেই খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।
১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো একটি বিলুপ্ত প্রাণী ‘কোয়াগ্গা’র (জেব্রার মতো একটি প্রাণী) জাদুঘরের নমুনা থেকে ডিএনএ উদ্ধারের মাধ্যমে শুরু হয় প্রাচীন ডিএনএ গবেষণার যাত্রা। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন বিজ্ঞানীরা আরও পুরোনো প্রাণী ও উদ্ভিদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করতে পারছেন। বর্তমানে সবচেয়ে পুরোনো ডিএনএ উদ্ধার করা হয়েছে গ্রিনল্যান্ডের ২৪ লাখ বছরের এক বাস্তুতন্ত্র থেকে।
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—ডিএনএ কি আরও বেশি দিন ধরে টিকে থাকতে পারে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিএনএর সংরক্ষণ নির্ভর করে পরিবেশগত অনেকগুলো বিষয়ের ওপর। তাই, ডিএনএ আসলে কত দিন টিকে থাকতে পারে, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে নেই।
ড্যানিশ ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন সেন্টার ফর ইভাল্যুশনারি হোলোজেনোমিকসের পরিচালক টম গিলবার্ট বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে—ডিএনএর আয়ু ’৯০-এর দশকের শুরু দিকে যতটা ভাবা হতো, তার চেয়ে কম। তবে ২০০০-এর দশকের শুরুতে যতটা ভাবা হতো, তার চেয়ে বেশি। তিনি আরও বলেন, ‘’৯০-এর দশক ছিল “জুরাসিক পার্ক” যুগ।’
কারণ ১৯৯০ সালে প্রকাশিত মাইকেল ক্রিকটনের বিজ্ঞান কল্পকাহিনি উপন্যাস জুরাসিক পার্কের মাধ্যমে এক প্রজন্মের বিজ্ঞানী ও পাঠক প্রাচীন ডিএনএর সঙ্গে পরিচিত হন। উপন্যাসটিতে দেখা যায়, এক ধনকুবের ও জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ডাইনোসরের রক্ত খাওয়া অ্যাম্বারে (amber) আবদ্ধ-পতঙ্গ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে বিলুপ্ত প্রাণীদের ফিরিয়ে আনেন।
গিলবার্ট বলেন, ‘তখন মানুষ ক্রিটেশিয়াস যুগের (১৪ কোটি ৫০ লাখ-৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে) জীবাশ্মে ডিএনএ খুঁজতে শুরু করেছিলেন। তবে পরে দেখা গেল, সেগুলো আসলে নতুন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ—অর্থাৎ ততটা পুরোনো নয়।’
২০১২ সালে গিলবার্ট একটি গবেষণায় অংশ নেন, যেখানে গবেষকেরা হাড়ে ডিএনএর অর্ধায়ু নির্ণয়ে পরিসংখ্যান ব্যবহার করেন। তারা নিউজিল্যান্ডের বিলুপ্ত মোয়া পাখির ১৫৮টি হাড়ের মাইটোকন্ড্রিয়ার ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখেন, ৫২১ বছর পর হাড়ের অর্ধেক ডিএনএ বন্ধন ভেঙে যায়।
এই গবেষণা অনুযায়ী, আদর্শ পরিবেশে ডিএনএ সর্বোচ্চ ৬৮ লাখ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, যা ‘জুরাসিক পার্ক’ বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য আদর্শ পরিবেশ
কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব-নৃতত্ত্ববিদ জেনিফার রাফ বলেন, ‘ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পরিবেশ হলো ঠান্ডা, অন্ধকার, শুকনো এবং নতুন বা কম পুরোনো।’ এ কারণে সবচেয়ে পুরোনো ডিএনএ পাওয়া গেছে গ্রিনল্যান্ডের ২৪ লাখ বছর পুরোনো তুষারাবৃত স্থানে। ১২ লাখ বছর পুরোনো সাইবেরিয়ার এক ম্যামথ থেকে সবচেয়ে পুরোনো এই পূর্ণ জিনোম (genome) উদ্ধার করা গেছে।
মানব ইতিহাসে সবচেয়ে পুরোনো ডিএনএ কত দিনের? মানুষ মূলত গরম ও আর্দ্র এলাকায় বিবর্তিত হয়েছে। এসব অঞ্চলে ডিএনএ টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে আমাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষদের ডিএনএ পাওয়া খুব কঠিন।
১৯৯৭ সালে ৪০ হাজার বছর আগের এক নিয়ান্ডারথাল মানবের (Neanderthal) হাড় থেকে ডিএনএ উদ্ধার করা হয়। এই হাড় ১৮৫৬ সালে জার্মানির এক গুহা থেকে আবিষ্কৃত হয়। এরপর ২০২২ সালে স্পেনের আতাপুয়েরকা পর্বতের সিমা দে লোস হুয়েসোস (Sima de los Huesos) গুহায় একটি ঊরুর হাড় খুঁজে পাওয়া যায়। এর হাড় থেকে বিজ্ঞানীরা ৪ লাখ বছর পুরোনো এক মানব প্রজাতির ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন, যাঁরা নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানদের পূর্বপুরুষ হতে পারেন।
মানুষের বিবর্তন ঘটেছে মূলত আফ্রিকায়। সেই অঞ্চলের পরিবেশে ডিএনএ টিকে থাকা বেশ কঠিন। এ জন্য সবচেয়ে পুরোনো আফ্রিকান মানব ডিএনএ মাত্র ২০ হাজার বছরের পুরোনো এবং সেটিও আধুনিক হোমো স্যাপিয়েন্সের।
এখানেও শেষ নয়, বিজ্ঞানীরা ৩৫ লাখ বছর আগের মানব পূর্বপুরুষদের (যেমন: ‘লুসি’ নামে পরিচিত অস্ট্রালোপিথেসিন) নিয়ে কিছু তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এদের কাছ থেকে ডিএনএ পাওয়া ‘প্রায় অসম্ভব’ বলে মনে করেন রাফ।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না আমরা অস্ট্রালোপিথেসিনদের ডিএনএ কখনোই পাব।’ কারণ তারা আফ্রিকার গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বাস করত, যা ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য উপযোগী নয়। তবে রাফ বলেন, ‘আমি হোমো ইরেকটাস নিয়ে আরও আশাবাদী।’
কেননা, এই মানব প্রজাতির সন্ধান জর্জিয়া ও চীনে পাওয়া গেছে। এগুলো এমন জায়গা, যেখানে ডিএনএ সংরক্ষণের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।
বর্তমানে সবচেয়ে পুরোনো ‘অর্থবহ’ ডিএনএ পাওয়া গেছে ২৪ লাখ বছর পুরোনো গ্রিনল্যান্ড থেকে। তবে ভবিষ্যতে হয়তো আরও পুরোনো ডিএনএ পাওয়া যাবে, বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচ থেকে।
গিলবার্ট বলেন, ‘২০০৩ সালে যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করত ডিএনএ কত দিন টিকে থাকতে পারে, তখনকার ‘বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান’ অনুযায়ী বলতাম ১ লাখ বছর। এখন দেখা যাচ্ছে আমরা অন্তত ২০ গুণ বেশি পুরোনো ডিএনএ খুঁজে পেয়েছি।’
তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স

দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি বিতর্ক রয়েছে—এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে প্রাণের বীজ বা জীবাণু কি মহাকাশের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে? ‘প্যানস্পারমিয়া’ নামে পরিচিত এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো গ্রহে প্রাণের মৌলিক উপাদান তৈরি হলে বৃহৎ উল্কাপাত বা মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে সেই গ্রহের পৃষ্ঠের কিছু অংশ...
১ দিন আগে
আধুনিক কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ১৯১৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাংকের ১৯৪০-এর দশকে লেখা দুটি ঐতিহাসিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করেছে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিংগার নেচার’ (Springer Nature)।
৫ দিন আগে
থোরিয়াম-২২৯ ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো কার্যকর নিউক্লিয়ার ঘড়ি তৈরি করলেন ইউরোপ ও চীনের দুই স্বাধীন গবেষক দল। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারমাণবিক ঘড়িকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ডার্ক ম্যাটার অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
১৫ দিন আগে
পুরুষদের চুল পড়া বা টাক পড়া (অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া) সমস্যার চিকিৎসায় ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উদ্ভিদের শিকড় অত্যন্ত কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই আবিষ্কারটি প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যা ও আধুনিক বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।
২১ দিন আগে