বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ? এমন বিতর্ক প্রায়ই শোনা যায়। জীবন আরও সহজ করতে গিয়ে মানুষ ঘরে শত্রু পালন করছে, এমন যুক্তি দেন বিজ্ঞানকে ‘অভিশাপ’ বলা ব্যক্তিরা। তাঁরা এটাও বলেন, বিজ্ঞান যত এগিয়ে যাচ্ছে মানুষের শ্রমের চাহিদা তত কমছে, বাড়ছে বেকার। কিন্তু বেকারত্ব বাড়ার পেছনে বিজ্ঞান দায়ী! এই অভিযোগটা দুর্বল হয়ে গেল না?
বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায় তাঁর ‘আগন্তুক’ সিনেমায় সভ্যতাকে আতশ কাচের নিচে নিয়ে এসেছিলেন। বিজ্ঞানের একাল-সেকাল হয়ে ওঠে সেই সিনেমার অন্যতম উপজীব্য। প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্য কীভাবে সভ্যতার প্রতিনিধিদের অসভ্য করে দিচ্ছে, আবার বন্য সভ্যতা থেকে মানুষ কীভাবে এই বিজ্ঞানের কল্যাণে সভ্য হয়েছে— নানাভাবে এসব ঐতিহাসিক সত্যকে তুলে এনেছিলেন তিনি।
তবে যে আবিষ্কারকে মানুষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে, সেটি কি আসলেই মানুষের সমতুল্য? বলা হচ্ছে কম্পিউটারের কথা। বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ যখন এ যন্ত্র আবিষ্কার করেন, তখনই সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। হাজার হাজার মানুষের কাজ একাই করতে পারে এটি। আশীর্বাদ কি অভিশাপ হয়ে গেল?
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নতুন রূপ পেয়েছে কম্পিউটার। ছোট ছোট চিপে কোটি কোটি কাজ। অনেকে তাই মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারের তুলনা করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মস্তিষ্কের ধারেকাছেও নেই এ যন্ত্র। সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে সেই ব্যাখ্যাই দিয়েছেন নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক লিসা ফেডম্যান ব্যারেট।
মস্তিষ্ক বনাম কম্পিউটার। তুলনার খাতিরে ধরুন, কম্পিউটার হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্কের মতো। আর আমরা যাকে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বলছি, কম্পিউটারে সেটি হার্ডওয়্যার।
কম্পিউটার বানানো হয় স্থির কিছু উপাদান থেকে। আর মস্তিষ্ক বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু শিখে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। মস্তিষ্ক যেভাবে একেকটা স্মৃতি এবং বিভিন্ন তথ্য রাখে, কম্পিউটারে এ প্রক্রিয়া নেই। কম্পিউটার পুরোটাই জমা করে রাখা তথ্যের ওপর নির্ভর করে। রাসায়নিক উপাদানে তৈরি মস্তিষ্ক সেটা করে না।
কম্পিউটারে লাখ লাখ ছবি জমা করে রাখা যাবে। কিন্তু মস্তিষ্কের মতো করে কি তথ্যগুলো থাকবে? একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। একটা আমগাছের কথাই ধরা যাক। আমের কথা মনে হলেই একেকজনের মস্তিষ্কে একেক ভাবনা আসবে। শৈশবের আম কুড়ানো থেকে শুরু করে আমের ভেতরে থাকা পোকার গল্প মনে হবে। আর আমের আঁটি দিয়ে খেলার কথা নাই বা বললাম। যাঁরা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আম আঁটির ভেঁপু’ পড়েছেন তাঁরা হয়তো সবচেয়ে বেশি স্মৃতিকাতর হবেন।
কিন্তু কম্পিউটার কি এভাবে ভাবতে পারে? এমন যোগসূত্র ধরতে পারে? পারবে না। কারণ, মানুষের মস্তিষ্ক কম্পিউটারের মতো বাহ্যিক গঠন দেখে তথ্য নেয় না।
মস্তিষ্কের আরও একটা জটিল কাজ আছে, যা কম্পিউটারের নেই। একটা শরীর চালায় সে, যেখানে ৬০০টির বেশি পেশি নড়াচড়া করছে। ভেতরে রয়েছে চেনা-অচেনা অঙ্গ। আর রয়েছে একটা হৃৎপিণ্ড, যেটা প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার লিটার রক্ত পাম্প করে। আর হরমোন ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান তো রয়েছেই। এসব সমন্বয় করে লম্বা সময়ের জন্য এ দেহটা চালিয়ে নেয় মস্তিষ্ক। কম্পিউটার কি সেটা পারবে?

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে একটি চিনিজাতীয় অণুর সন্ধান পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে—এরিথ্রুলোজ (Erythrulose) নামে পরিচিত এই চিনি রাস্পবেরি, কিউই এবং বিভিন্ন লাল রঙের ফলে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়।
১৪ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর নিজ অক্ষের ওপর হেলানো অবস্থান এবং উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল চলার কারণে, আজ ৮ জুলাই বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১১টা ১০ মিনিট) বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৯ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৮২০ মানুষ একই সময়ে দিনের আলো অথবা গোধূলির আলো অনুভব করবেন।
৬ দিন আগে
তিনি ইতিমধ্যেই একবার বিশ্বকে বদলে দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরে আবিষ্কৃত নীল লাইট-এমিটিং ডায়োড (এলইডি) আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আমূল পরিবর্তিত করেছে। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, বড় স্ক্রিন, ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক বিলবোর্ড—সবকিছুই আজ আলো ছড়াচ্ছে তাঁর সেই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কল্যাণে।
৭ দিন আগে
শহরের পাখিরা পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি ভয় পায় এবং নারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দূরত্ব বজায় রাখে—সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘পিপল অ্যান্ড নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞানীদের যেমন চমকে দিয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন রহস্য।
৯ দিন আগে