
রানির বিয়ের পোশাক কেনা হয়েছিল রেশন কার্ডের মাধ্যমে! না, ভিরমি খাবেন না। তথ্য হিসেবে আপনি ঠিকই পড়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বিয়ের পোশাক অর্থাৎ গাউনটি তৈরি হয়েছিল রেশন কার্ডের মাধ্যমে কেনা কাপড় দিয়ে! এলিজাবেথ তখন ছিলেন প্রিন্সেস এলিজাবেথ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলেও ব্রিটেনে তখন কাপড়ের রেশনিং ব্যবস্থা চালু ছিল। ফলে তাঁর বিয়ের গাউনের কাপড় সংগ্রহেও রেশন কুপন ব্যবহার করা হয়েছিল। কারণ, যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ব্রিটেনে পোশাক কিনতে রেশন কুপন বাধ্যতামূলক ছিল। আর রাজপরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও প্রিন্সেস এলিজাবেথ সেই নিয়মের বাইরে ছিলেন না। তিনি নিজের সঞ্চিত কুপনের পাশাপাশি সরকার থেকে অতিরিক্ত ২০০টি পোশাকের কুপন পান, যাতে তাঁর বিয়ের গাউনের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড় কেনা সম্ভব হয়। পশ্চিমা বিয়ের পোশাক বা গাউনের ইতিহাসে এটি ঐতিহাসিক ঘটনাই বটে।
দ্বিতীয় এলিজাবেথের আগে উনিশ শতকে রানি ভিক্টোরিয়াও কিন্তু বিয়ের গাউন নিয়ে ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটিয়ে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন। পশ্চিমা দুনিয়ায় বিয়ের সময় কনেরা যে সাদা রঙের গাউন পরেন, তার সূচনা করেছিলেন ভিক্টোরিয়া। সেই ধারা প্রায় ১৮৬ বছর ধরে টিকে আছে।
১৮৪০ সালে প্রিন্স অ্যালবার্টের সঙ্গে ভিক্টোরিয়ার বিয়ের আগপর্যন্ত যুক্তরাজ্যের রাজকীয় বিয়েতে কনেরা বিয়ের দিন রঙিন পোশাক পরতেন। ২০ বছর বয়সী তরুণী ভিক্টোরিয়া সাদা রঙের বিয়ের পোশাক পরতে বায়না ধরলেন। সেই মতো তৈরি হলো সেটি। পরে জনগণের কাছে পবিত্রতা, সরলতা এবং একনিষ্ঠ ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠল ভিক্টোরিয়ার সেই সাদা বিয়ের গাউন, এখনো যার প্রচলন আছে।
বিয়ের পোশাকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা এ যুগেও আছে। ব্রিটিশ সুপার মডেল কেট মস কীভাবে এক নতুন ধরনের বোহিমিয়ান বিয়ের সাজের সূচনা করেন। অভিনেত্রী পোর্শিয়া ডি রসি বিয়ের পোশাকে ব্লাশ বা হালকা গোলাপি রঙের ব্যবহার জনপ্রিয় করে তোলেন। ওদিকে গায়িকা সোলাঞ্জ নোলস আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন বিয়ের জাম্পস্যুটের সঙ্গে!
আবার বিশ্বে এমন অনেক কনে রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের মতো করে প্রথা ভেঙেছেন। যেমন জো ক্রাভিটজ, হেইলি বল্ডউইন বিবার, কিয়ারা ফেরাগনিসহ অনেকে ফ্যাশন রানওয়ে এবং বিয়ের মঞ্চের মধ্যকার পার্থক্য ভেঙে একাকার করে দিয়েছেন। স্মরণীয় হয়ে থাকার জন্য বিয়ের চিরাচরিত প্রথা ভাঙাটা অবশ্য কোনো আবশ্যিক শর্ত নয়। এলিজাবেথ টেলর ও মেরিলিন মনরো থেকে শুরু করে বিয়ন্সেসহ আরও অনেক তারকা, শিল্পী ও রাজপরিবারের সদস্য নিজেদের বিয়ের পোশাকগুলো নকশা, গঠন ও কাস্টমাইজের মাধ্যমে স্মরণীয় করে তুলেছেন। বিখ্যাতদের আইকনিক বিয়ের পোশাকগুলো নিয়েই এবারের আয়োজন।

নিক জোনাসের সঙ্গে খ্রিষ্টান রীতিতে আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রাল্ফ লরেনের বিশেষভাবে তৈরি এক চমৎকার গাউন এবং তার সঙ্গে ৭৫ ফুট লম্বা একটি ভেইল বা লম্বা ওড়না পরেছিলেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভারতের যোধপুরের তাজ উমেদ প্যালেসে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের জন্য আয়োজিত একাধিক অনুষ্ঠানের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। বিয়ের অন্যান্য বিভিন্ন আয়োজনে প্রিয়াঙ্কা সব্যসাচী, ডিওরসহ বিভিন্ন বিখ্যাত ব্র্যান্ডের গাউন পরেছিলেন। তবে উঁচু গলা ও কারুকাজখচিত সেই গাউন ছিল অবিস্মরণীয়।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ২০১৪ সালে বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ভারসাচির পোশাকে ব্র্যাড পিটকে বিয়ে করেছিলেন। ইতালির ফ্যাশন ডিজাইনার এবং ব্যবসায়ী ডোনাটেলা ভারসাচি এই পোশাক ডিজাইন করেছিলেন। এই পোশাক এবং ওড়নাজুড়ে দম্পতির সন্তানদের আঁকা বিশেষ নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।

মিশেল ওবামা
১৯৯২ সালে শিকাগোতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বিয়ের সময় ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা সুইটহার্ট নেকলাইন ও অফ-দ্য-শোল্ডার ডিজাইনের একটি সাটিন গাউন পরেছিলেন, যা সে সময়ের তরুণেরা এখনো ভোলেননি।

প্রিন্সেস ডায়ানা
১৯৮১ সালে সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ওয়েলসের রাজকুমারী ডায়ানার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তিনি ডেভিড ও এলিজাবেথ ইমানুয়েলের নকশা করা একটি পোশাক পরেছিলেন। সেই পোশাকের দাম ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার পাউন্ড। লেইস, সিকুইন, হাতের কাজ এবং ১০ হাজার মুক্তা দিয়ে সুসজ্জিত এই পোশাকে ২৫ ফুট দীর্ঘ একটি ট্রেইন অর্থাৎ পোশাকের পেছনের বর্ধিত অংশ যুক্ত ছিল।

১৯৫৯ সালে লাস ভেগাসে এলিজাবেথ টেলর তাঁর চতুর্থ স্বামী গায়ক এডি ফিশারকে বিয়ে করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে টেলর হাঁটু পর্যন্ত লম্বা গাঢ় সবুজ রঙের একটি ছোট ও হুডযুক্ত পোশাক এবং তার সঙ্গে মানানসই জুতা পরেছিলেন। ব্যতিক্রমী এই পোশাক উপস্থিত সবার মন কেড়েছিল বৈকি!
সূত্র ও ছবি: হারপারস বাজার

নিমস দাইয়ের শেষবারের ফেসবুক পোস্টটি হয়তো পৃথিবীর অনেক পর্বতারোহীর অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে অনন্তকাল। পাহাড় কখনো জয় করা যায় না। আর সেটা তিনি জানতেন বলেই হয়তো পৃথিবীর ১২তম উঁচু পর্বত ব্রড পিকের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘আমাকে শুধু একটা নিরাপদ প্যাসেজ দিয়ো, যেটা দিয়ে চূড়ায় উঠে আবার নিরাপদে আমি নিচে নেমে আসব।’
৭ ঘণ্টা আগে
রোমান্টিক গলির মুখ, নায়িকার ব্যবহার করা লিপস্টিকের শেড কিংবা রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাফেতে বসে ধোঁয়া ওঠা স্পাইসি রাইস কেক খাওয়ার দৃশ্য হরহামেশা দেখানো হয় কে-ড্রামায়। স্ক্রিনের এই রঙিন জীবনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের মুগ্ধতা বিশ্বজুড়ে। এই রঙিন জীবন এখন আর শুধু নাটক কিংবা সিনেমার চিত্রনাট্যে...
৮ ঘণ্টা আগে
বৈশ্বিক ভ্রমণ সংস্থা ওপোডোর চলতি বছরের জরিপ অনুযায়ী, একা বিশ্ব ভ্রমণের প্রধান কারণ হলো পূর্ণ স্বাধীনতা। জরিপে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজের ইচ্ছেমতো দিন কাটানো এবং নিজস্ব গতিতে অচেনা পথ খোঁজার স্বাধীনতাই তাঁদের একলা চলায় উৎসাহিত করছে।
৯ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণের সময় ব্যাগের ওজন কমাতে কম পোশাক নিয়ে যাওয়া এবং তা সঠিক নিয়মে ধুয়ে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। ভ্রমণ পথে কাপড় ধোয়ার জন্য প্রধানত সিঙ্ক ও বাথটাব ব্যবহার করতে পারেন। তবে তার জন্য কিছু কৌশল মেনে চলা ভালো।
১০ ঘণ্টা আগে