Ajker Patrika

২০২৭ সালের শুরুতে এনসিপির কাউন্সিল

অর্চি হক, ঢাকা 
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১২: ৫২
২০২৭ সালের শুরুতে এনসিপির কাউন্সিল

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম কাউন্সিল (জাতীয় সম্মেলন) আগামী বছরের শুরুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের নেতারা। শুক্রবার দলের সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সভায় সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপি জোটে থাকবে কি না, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা আজকের পত্রিকাকে জানান, দলের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছেন বেশির ভাগ নেতা।

ভোটাভুটির ভিত্তিতে জানুয়ারিতে কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা তিনটায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সাধারণ সভা শুরু হয়। সদস্যসচিব আখতার হোসেন সভা শুরু করেন। শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে সভা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে তিনি বিদায় নেন। বৃহস্পতিবার দলের নির্বাহী কাউন্সিলে চূড়ান্ত হওয়া প্রস্তাবগুলো শুক্রবার সাধারণ সভায় তোলা হয়।

সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে কাউন্সিল কবে হবে, সে প্রসঙ্গে আলোচনা হয়। সব কটি জেলা ও উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি না হওয়ায় কাউন্সিল করা যাচ্ছে না বলে জানান নেতারা। ২০২৭ সালের শুরুতে কাউন্সিলের পক্ষে হাত তুলে ভোট দেন অধিকাংশ কেন্দ্রীয় সদস্য। তবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনসহ তিনজন বিপক্ষে ভোট দেন। এরপর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়। সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভা সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের বিপক্ষে মত দেন। এরপর হয় ভোটাভুটি। দুটি ভোট নেওয়া হয়। একটি হলো, পার্টি পুনর্গঠন নিয়ে এখনই সিদ্ধান্তের জন্য ভোটাভুটির প্রয়োজন আছে কি না। সেখানে ৬৬ জন পক্ষে হাত ওঠান। পরে দ্বিতীয় ভোট হয়, কমিটি পুনর্গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে। ৭১ জন পক্ষে এবং ১৫ জন বিপক্ষে ভোট দেন। কয়েকজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।

দলের নেতারা জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এনসিপির ‘মুখ্য সংগঠক’, ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ ও ‘মুখপাত্র’, ‘মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল)’ ও ‘মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল)’ পদগুলো বিলুপ্ত করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পুরো কমিটি আহ্বায়ক কমিটি হিসেবে পরিচালিত হবে। এতে থাকবেন আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, যুগ্ম সদস্যসচিব ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুজন সহসাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন। খুব শিগগির নতুন কাঠামো অনুযায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। কাউন্সিলের আগপর্যন্ত এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।

সভায় উপস্থিত নেতার সূত্রে জানা যায়, সংগঠন পুনর্গঠনের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হয়। পুনর্গঠনের বাস্তবতা আসলেই রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন। এর জবাবে বলা হয়, অনেকে দল ছেড়ে চলে গেছেন। অনেকে নতুন করে যোগ দিয়েছেন। তাই কমিটি পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কেন্দ্রীয় সদস্য বলেন, ‘আজকের সাধারণ সভা দুই ভাগে ছিল। দলীয় কাউন্সিল, সংগঠন পুনর্গঠন ও রাজনীতি। প্রথম ভাগে কাউন্সিল কবে হবে, সাংগঠনিক কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা জোটে থাকব কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সাধারণ সভার বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভা হয়েছে। মোটাদাগে পার্টির কাজ, সাংগঠনিক গতিশীলতা, কমিটি ও কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

রাত ১১টা নাগাদ সভা শেষ হয়। জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে যাওয়া প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

সভায় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবসহ শতাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

স্ত্রীর পরকীয়ায় স্ট্যাটাস দিয়ে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

প্রাথমিকের ‘মিড-ডে মিলে’ অনিয়ম, বিভাগীয় মামলার হুঁশিয়ারি মন্ত্রণালয়ের

চীন ছেড়েই তাইওয়ানকে স্বাধীনতার ঘোষণার বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

‘টাকা লাগলে টাকা নিতি, তা-ও বন্ধুদের দাওয়াত দিতি’

যে কারণে উড়োজাহাজে ওঠার আগে চীনা সবকিছু ফেলে দিতে হলো ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত