Ajker Patrika

কুমিল্লাবাসীর দাবি বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

 কুমিল্লা প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১৬: ০১
কুমিল্লাবাসীর দাবি বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কুমিল্লা সফরে এসে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলোর বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু এবং মসজিদ-মাদ্রাসার ইমামদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করার বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরের পথে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলেছিলাম। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমামদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আজ আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। দেশে প্রায় সাত হাজার মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএনপি জনগণকে যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিগত ১৬ থেকে ১৭ বছর দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। মানুষ ভোট দিতে পারেনি। কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে গুম, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতো। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ সেই দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়েছে।’

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আজকের এই গণতন্ত্র সহজে আসেনি। বহু মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, শহীদ হয়েছে, বুকের রক্ত দিয়েছে। সেই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা যাদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন, তারা এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাটসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবে। জনগণের পক্ষে কথা বলবে এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।’

দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সময় দেশকে পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে তোলার। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম। সেই সময়ে বিশ্বের আরও অনেক দেশ স্বাধীন হয়েছিল। আজ তারা অনেক এগিয়ে গেছে; কিন্তু আমাদের দেশ দীর্ঘদিন স্বৈরাচারের কবলে ছিল। দেশের মানুষ সেই স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ শুধু স্বাধীন হলেই হবে না, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, শিল্পকারখানা চালু, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং নারী শিক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী সমাজ গড়ে তুলতে হবে। মা-বোনেরা যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। দেশের মালিক জনগণ। জনগণ দায়িত্ব নিয়ে পাশে দাঁড়ালে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কারণ, আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি, মানুষ তার প্রতি আস্থা রেখেছে। আমরা জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করেছি, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের আস্থা ও সমর্থনই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি।’

কুমিল্লার দীর্ঘদিনের দাবির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লাবাসীর দাবি যদি বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়ে থাকে, তাহলে ইনশা আল্লাহ তা বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং আমাদের কিছুটা সময় দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের কারণে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমাদের সবাইকে ধৈর্য, পরিশ্রম ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা পর্যায়ক্রমে সব বাস্তবায়ন করব, ইনশা আল্লাহ।’

গণপূর্তমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-২ হোমনা-তিতাস আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিক উর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ অন্যরা।

সভায় কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিমানবন্দর চালুর দাবির প্রতি জোর সমর্থন জানান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুমিল্লা সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন এলাকায় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। পথে পথে হাজারো মানুষের ঢলে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত