Ajker Patrika

টাকা নেওয়ার অভিযোগের যে জবাব দিলেন আসিফ-হাসনাত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ১৫: ০৮
টাকা নেওয়ার অভিযোগের যে জবাব দিলেন আসিফ-হাসনাত
আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁদের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা দুজনই দাবি করেছেন, ওই টাকা তাঁদের উপজেলার জন্য বরাদ্দের টাকা এবং তা বিধি মোতাবেক দুই উপজেলার উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। এই হলো সমন্বয়কদের অবস্থা। তাঁরা চেয়েছিলেন, বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।’

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বলেন, ‘ওনাকে (প্রশাসক) কে বসিয়েছে এই পদে? কোন অর্থ এডিপি আর কোনটা রাজস্ব—এটা জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে (উপদেষ্টা থাকাকালে) সব উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। যার নথি জেলা পরিষদে আছে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘কুমিল্লার প্রশাসক বিএনপির দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে বললেন, হাসনাত-আসিফ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এর মধ্যে আমি নাকি ১০ কোটি টাকা নিয়েছি। বক্তব্যটি শুনলে মনে হবে, টাকাটা আমরা নিজেরা পকেটস্থ করেছি। কিন্তু তাঁর বক্তব্যে অন্তত দুটি অসত্য তথ্য রয়েছে।’

ব্যাখ্যা দিয়ে হাসনাত লেখেন, ‘প্রথমত, এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যান্য উপজেলার মতো দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। দেবিদ্বারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা। জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। সুতরাং এটিকে রাজস্ব খাতের অর্থ বলে দাবি করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।’

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন টাকা আমরা নিয়েছি। অথচ এই অর্থ মোট ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্কই নেই। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তাঁকে ফোন করে জানতে চাইলে প্রশাসক জানান, অর্থটি উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হয়তো সাংবাদিক তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি প্রকাশ করেননি।’

কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য জানান, ‘জেলা পরিষদ থেকে উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রতিবছরই বাজেটের আওতায় এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেবিদ্বার উপজেলার জন্য দেওয়া বরাদ্দও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয়ের প্রতিটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত