Ajker Patrika

এত রাজস্ব আদায় এই সরকারের পক্ষে সম্ভব না: নাহিদ ইসলাম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ২৩: ১১
এত রাজস্ব আদায় এই সরকারের পক্ষে সম্ভব না: নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চ’ ও ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি উচ্চ ও বাস্তবতাবিবর্জিত। এই বাজেটের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে এবং আয়ের উৎস হিসেবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটি আসলে বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা এই সরকার, প্রশাসন ও করকাঠামোর পক্ষে সম্ভব নয়।

আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে বাজেট প্রস্তাব অনুষ্ঠান শেষে সংসদ ভবনের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় করতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এনসিপির এ নেতা। ফলে ঘাটতি পূরণ করতে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের পথ বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। ফলে সরকার যদি ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে না পারে এবং স্বাভাবিকভাবেই সরকার পারবে না, তাহলে এই ঘাটতি কিন্তু অনেক বাড়বে। সরকারকে তখন কী করতে হবে? ব্যাংকগুলো থেকে এবং বিদেশ থেকে আসলে ঋণ নিতে হবে।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় আয় অর্জন করতে হলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির হার অন্তত ৪২ শতাংশ হতে হবে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। যদি আগামী অর্থবছরে সেই সর্বোচ্চ রেকর্ড করা সম্ভব হয়, তা-ও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকবে। ফলে এই ঘাটতি সরকার কীভাবে মেটাবে!

সরকার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে ঘোষণা করলেও এই বাজেটই ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট’ হবে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ বলেন, বর্তমানে ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যেগুলো বৈদেশিক ঋণ। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৬ গুণ। ফলে বর্তমান দুর্বল ব্যাংকিং খাত থেকে আরও ঋণ নেওয়া হলে বেসরকারি খাতে চাপ পড়বে। তাহলে বেসরকারি খাত থেকে সরকার বিনিয়োগ পাবে না, লোন পাবে না এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদেশি-দেশি ঋণ বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। এই বাজেট বক্তব্য শুনলে অনেক সুন্দর মনে হবে। কিন্তু এটা আসলে দেশের অর্থনীতির কোনো মৌল পরিবর্তন করতে পারবে না।

সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় বাজেট বাস্তবায়নে অবাধ দুর্নীতির জবাবদিহির বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। ফলে এই বাজেটের ভেতর দিয়ে যে দুর্নীতি করার অবাধ পথ তৈরি হবে, সেগুলো তারা কীভাবে জবাবদিহির মধ্যে আনবে, সেটি নিশ্চিত নই।’

এ সময় চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা (প্রস্তাবিত বাজেট) অনেকটা চানাচুরের মতো। খেতে ভালো লাগবে, দেখতে সুন্দর, কিন্তু এটার কোনো পুষ্টিগুণ নাই। এই বাজেটটাকেও আমাদের কাছে সে রকম মনে হয়েছে।’

তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে বাজেটের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী পুরো বাজেট ও তাঁর সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। ভালোভাবে দেখলে একটু স্বস্তির জায়গা হচ্ছে—শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের বরাদ্দ বেড়েছে। যেহেতু নির্বাচনের সময় থেকে কার্ডের রাজনীতি করে যাচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেটি থেকে মানুষ কিছুটা উপকার পাবে বলে আশা করা যায়। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি দ্রব্যের কর কমানো হয়েছে।

এগুলো বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের দ্বিমতের আশঙ্কা প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যদি ইমপ্লিমেন্ট করা যায়, তাহলে দ্রব্যমূল্য কিছুটা কমে আসার কথা। আমাদের এখন দেখতে হবে সামনে কী হয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত