Ajker Patrika

জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বিএনপির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বিএনপির
আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: আজকের পত্রিকা

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ জামায়াতের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ করেছে বিএনপি। ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ, ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার, অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলাবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছে দলটি।

আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুযায়ী, অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বহন কিংবা হস্তান্তর করা যাবে না।’

মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-৪ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করতে বা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। এসব কার্যক্রম বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, একটি নির্দিষ্ট দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নতুন করে ফ্যাসিবাদী আমলের পুরোনো মিথ্যা ও প্রতারণামূলক “দুর্নীতির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন” বয়ান প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন।’

তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির সূচক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘এটি জাতীয়ভাবে প্রমাণিত যে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি যখন সরকার গঠন করে, তখন একটি প্রতিষ্ঠানের সূচকে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ০.৪, যা ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত শাসনক্ষমতায় থাকা তৎকালীন রাজনৈতিক দলটির দুর্নীতির প্রতিফলন।’

মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির প্রতি বিএনপির জিরো টলারেন্স এবং সুশাসনের ফলে এটি ক্রমে উন্নত হয়। অতএব যে দল ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে, এমনকি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন পর্যন্ত গঠন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এটি পরিকল্পিত অপপ্রচার।’

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে মাহদী আমিন বলেন, ‘খুবই বিস্ময়কর, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত উক্ত দলটি নিজেই সরকারের অংশ ছিল। তাদের দুজন মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিলেন। সরকারে থাকা অবস্থায় তখন এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি। কিন্তু বর্তমানে তারা নির্বাচনী মাঠে এসে ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডার এই ধারাবাহিকতাকে ধরে রেখেছে। আমরা উক্ত দলটির এই ভূমিকাকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছি।’

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘এটি আজ স্পষ্ট, ভোট চাইতে গিয়ে সেই দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার, জান্নাতের প্রলোভন, কোরআন শরিফে শপথ করানো, এমনকি বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোটারদের ভোট কেনার চেষ্টা করে যাচ্ছে, আবার তারাই যখন দুর্নীতির গল্প শোনায়, সেটি তাদের তথাকথিত সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’

এ সময় তিনি বগুড়ায় জামায়াত আমিরের দেওয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত এবং এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান আছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যমান এ রকম একটি সিদ্ধান্তকে নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে বগুড়াবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিএনপির পক্ষে প্রচার চালানোয় নওগাঁয় একজন মুয়াজ্জিনকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘এটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের জঘন্য দৃষ্টান্ত।’ তিনি তাঁর পুনর্বহালের দাবি জানান।

সিলেটে এক প্রার্থীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মাহদী আমিন বলেন, ‘নির্বাচিত হলে তাকে জিজ্ঞাসা না করে কারও বাড়িতে যেতে পারবে না পুলিশ। এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে অসাংবিধানিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত