Ajker Patrika

কুয়েত মৈত্রী হলের ‘স্বাস্থ্য সংকট’ দ্রুত সমাধানের দাবি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর

ঢাবি প্রতিনিধি
কুয়েত মৈত্রী হলের ‘স্বাস্থ্য সংকট’ দ্রুত সমাধানের দাবি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর
বৃহস্পতিবার মধুর ক্যানটিনে ঢাবি শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে চলমান স্বাস্থ্য সংকট ও শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৩ দফা দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাবি শাখা। সংগঠনটির সভাপতি সামি আব্দুল্লাহ অভিযোগ তুলে বলেন, হল প্রশাসন ও হল সংসদ প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ না করে বরং তথ্য গোপনের প্রবণতা দেখিয়েছে। গত ৯ মে হল প্রভোস্ট ও হল সংসদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করা হলেও এখনো অবস্থার উন্নতি হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার মধুর ক্যানটিনে এসব জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা।

সংগঠনের ঢাবি সভাপতি সামি আব্দুল্লাহ বলেন, প্রায় ১২ দিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পানির কারণে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের নারী শিক্ষার্থীরা ব্যাপক হারে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে তিনশ’র বেশি শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। গত ৯ মে হল প্রভোস্ট ও হল সংসদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করা হলেও এখনো অবস্থার উন্নতি হয়নি।

সামি আরও বলেন, গত ৬ মে হলের পানির ফিল্টার ও ক্যানটিনের খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হলেও এখন পর্যন্ত সেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে তড়িঘড়ি করে ফিল্টারে ইউভি চেম্বার সংযোজন করা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অপরিশোধিত পানি পান করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সামি আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কথা বললে প্রশাসন ও হল সংসদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পোস্ট মুছে ফেলতে চাপ প্রয়োগ করেন। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশেও হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলার শিকার। সিট সংকট, গণরুম প্রথা, লেট গেটের নামে হয়রানি, নিরাপত্তা সংকট ও অপর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা এখনো বহাল রয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সংকট আরও তীব্র।

এ ছাত্র নেতা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই হলের নিচতলার কক্ষে হাঁটুপানি উঠে যায়, যা বসবাস ও শিক্ষার পরিবেশকে অনুপযোগী করে তুলেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত ফি নেওয়া হলেও জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিবহন সুবিধা পাওয়া যায় না।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলের বাজেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; হল প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও দায়হীনতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা; এবং শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সাইফ, রাজনৈতিক শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অনির্বাণ মৈত্র, অর্থ সম্পাদক বৈশাখী রিথী, সদস্য মো. ইব্রাহিম ও মুনিয়া আক্তার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত