Ajker Patrika

পাইকারিভাবে দায়মুক্তি দিলে হবে না, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করতে হবে: আনু মুহাম্মদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
পাইকারিভাবে দায়মুক্তি দিলে হবে না, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করতে হবে: আনু মুহাম্মদ
‘জনগণের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি দেওয়ার আগে প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, পাইকারিভাবে ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দিলে তো হবে না। প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত করা প্রয়োজন। যাতে বোঝা যায়, এটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ঘটেছে নাকি কোনো ব্যক্তির অপরাধমূলক তৎপরতার ফল।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজনে আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে আনু মুহাম্মদ এসব মন্তব্য করেন। এর আগে কমিটির পক্ষ থেকে ‘জনগণের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ২৫ দফা লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন সংগঠনটির সদস্য, লেখক ও গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান ও সুষ্মিতা পৃথা।

সাংবাদিকের প্রশ্নে আনু মুহাম্মদ বলেন, নির্বাচন যে প্রক্রিয়ায় আছে, যেভাবে হচ্ছে, যেভাবে নির্বাচন বিধিমালা আছে ও অংশগ্রহণের যে প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো খুবই বৈষম্যমূলক। তিনি বলেন, দেশের সম্পদশালী কিংবা যাদের হাতে চড়াই টাকা আছে, ক্ষমতা ও যোগাযোগ আছে, তাঁরা ছাড়া অন্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা খুবই কঠিন। এমনকি জামানতের অর্থটা কমানোর কথা, সে জামানতের অর্থ বাড়ানো হয়েছে।

এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এমনভাবে নির্বাচনপ্রক্রিয়া সাজাতে হবে, যেখানে ক্ষমতার বিভিন্ন রন্ধ্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে না হয় ও দুর্নীতিবাজ হতে না হয়। কোনো ব্যক্তি টাকা থাকলে নির্বাচন করতে পারবে, টাকা না থাকলে নির্বাচন করতে পারবে না—এ রকম অবস্থা যেন দেশে না থাকে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বেশ কিছু চুক্তি করতে যাচ্ছে, যে সমস্ত চুক্তি কোনোমতে এই সরকারের মধ্যে পড়ে না উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করলে এলপিজি এবং গ্যাস এ সমস্ত সংকট হতো না। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, কিছু গোষ্ঠী এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ সব গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধকে জনগণের দখলে ফেরত আনা, জননিরাপত্তা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান, নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রচারবৈষম্য দূরীকরণ ও প্রার্থীকে পছন্দ না করার গণতান্ত্রিক অধিকার, বাজেটের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্যতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তাসহ ২৫ দফা ইশতেহার তুলে ধরা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে, তাদের উদ্দেশে এ ২৫ দফার ইশতেহার প্রকাশ করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

ইশতেহারের একটি দফা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আগামী নির্বাচিত সরকারকে তিন বছরের মধ্যে জুলাই গণহত্যার জন্য দায়ী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অপরাধী সব নেতা-কর্মী, আমলা, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাসদস্যদের পূর্ণাঙ্গ বিচার সমাপ্ত করতে হবে। আওয়ামী লীগের ছয় শতাধিক নেতা-কর্মীর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্বচ্ছ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে পালাতে সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত