Ajker Patrika

সিফাতকে মুক্তি দিন, নয়তো ১৮ কোটি মানুষ তার মতোই গর্জন করবে: জামায়াত আমির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সিফাতকে মুক্তি দিন, নয়তো ১৮ কোটি মানুষ তার মতোই গর্জন করবে: জামায়াত আমির
ফাইল ছবি

বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করায় গ্রেপ্তার কলেজ শিক্ষার্থী সিফাত আবদুল্লাহর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

আজ শনিবার মতিঝিলে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম ‘লংমার্চ’ শুরুর আগে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান।

জামায়াত আমির বলেন, ‘তাকে মুক্তি দিন। শান্তিপূর্ণভাবে মুক্তি দিন। যদি তা না করেন, তবে মনে রাখবেন যে নূর হোসেন, ইয়াসমিন এবং ড. মিলনের মতো অনেকেই ক্ষমতার আসনে থাকা অনেকের বিরুদ্ধেই পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিলেন। কেউ বলতে পারে না কখন পচা শামুকের ওপর পা দিয়ে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।’

বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, সিফাতকে থানায় নিয়ে গিয়ে দলীয় কর্মীরা হেনস্তা করেছে। তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যেন তার মন্তব্য ‘বাংলাদেশকে ওলটপালট করে দিতে পারে’।

‘সিফাত যে ভাষা ব্যবহার করেছে তাকে সমর্থন না করলেও, যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ সিফাতের মতোই গর্জন করবে’, যোগ করেন শফিকুর রহমান।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই লংমার্চ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। তবে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় শফিকুর রহমান এতে সপ্তম দাবি হিসেবে ‘চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যানের’ ঘোষণা যুক্ত করেন।

জোটের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন
  • ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার
  • বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের স্থায়ী সমাধান
  • নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা
  • আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক দলীয়করণ বন্ধ করা

সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে রাজপথে নামিনি, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নেমেছি। রাজপথ, মহাসড়ক কিংবা জাতীয় সংসদ— সবখানেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।’

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অলি আহমদ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ লংমার্চে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। জনগণের দাবি মেনে না নিলে সরকারকে পদত্যাগ করা স্বৈরাচারদের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।’

অন্যদিকে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার এজেন্ডা ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও লোডশেডিং থামেনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘সরকার যদি দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চায়, তবে আমরা বারণ করব। কিন্তু তাতেও কাজ না হলে কঠোর অবস্থান নিতে আমরা দ্বিধা করব না।’

মতিঝিলের সমাবেশ শেষে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে জোটের লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর এবং আগামী মাসে খুলনা ও সিলেটে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত