Ajker Patrika

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি বাম দলগুলোর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ০৭
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি বাম দলগুলোর
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বামপন্থী দলগুলোর মোর্চা সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে দেশের বামপন্থী দলগুলোর মোর্চা সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ সোমবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান জোটের নেতারা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদের (মাহাবুব) কেন্দ্রীয় নেতা মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন।

সমাবেশে নেতারা বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। বিদেশি কোন কোম্পানিকে ইজারা দেওয়া হবে এবং চুক্তিতে কী কী শর্ত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে কিছুই জানানো হয়নি।

নেতারা বলেন, সরকার বিদেশি অপারেটরের নাম প্রকাশ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ চুক্তি হতে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিনা দরপত্রে যে প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের হাতেই এনসিটি তুলে দিতে অন্তর্বর্তী সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছিল এবং নির্বাচিত বিএনপি সরকারও ফ্যাসিবাদী সরকারের নেওয়া জাতীয় স্বার্থপরিপন্থী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে, যা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের ভূ-রাজনৈতিক, কৌশলগত, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয় যুক্ত উল্লেখ করে নেতারা বলেন, একটি লাভজনক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ টার্মিনালের পরিচালনা কেন বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দিতে হবে? এনসিটিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলে বন্দরের রাজস্ব আয়ের বড় একটি অংশ বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নেতারা এনসিটির মতো জাতীয় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে তা রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালনার দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। নেতারা অনুমোদিত খসড়া কনসেশন চুক্তিসহ, অন্তর্বর্তী সরকারের করা লালদিয়া ও পানগাঁও ইজারা চুক্তি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম আহূত ও স্কপ চট্টগ্রাম সমর্থিত কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করা হয় এবং এসব দাবিতে জোটের ডাকা ৩০ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত