Ajker Patrika

অন্যায়ের বিরোধিতা করায় দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ সিপিবির, নিঃশর্ত মুক্তি দাবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
অন্যায়ের বিরোধিতা করায় দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ সিপিবির, নিঃশর্ত মুক্তি দাবি
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব দাবি জানান দলটির শীর্ষ নেতারা। পরে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করায় টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সিপিবি নেতা আবু বকর ছিদ্দিক ও রাঙামাটিতে এক ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকে ‘তুলে নেওয়া’র প্রতিবাদ করায় সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। অবিলম্বে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব দাবি জানান দলটির শীর্ষ নেতারা। পরে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

সমাবেশে সিপিবি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সিপিবি নেতা আবু বকর ছিদ্দিক ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করেছিলেন। তাঁর সেই বক্তব্যের পর তাঁকে ছাত্রদল নেতাকে নিগৃহীত করার অভিযোগে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিপিবি নেতারা বলেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার কারণে একজন রাজনৈতিক কর্মীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রাঙামাটি শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ও গ্রেপ্তারের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছতা না রেখে কোনো নাগরিককে তুলে নেওয়া এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

সিপিবির শীর্ষ নেতারা বলেন, একজনকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে এবং আরেকজনকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে গ্রেপ্তার করা হলে তা কেবল দুজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয় এটি সমাজে ভয় ও নীরবতার পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টা।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ যে বাংলাদেশ চেয়েছিল, সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার, আইনের শাসন ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত হওয়ার কথা। অথচ গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও যদি প্রতিবাদ ও সমালোচনার জবাবে মামলা-গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা ঘটে, তাহলে তা জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

সমাবেশ থেকে দুই নেতাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, উভয়ের গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, সাদা পোশাকে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া ও বাহিনীর পরিচয় প্রকাশসহ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, অনিয়মের প্রতিবাদ ও সমালোচনার কারণে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগসহ সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেলসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত