
নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে দেশবাসীর কাছে নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের সমর্থন পেলে দেশের আগামী দিনের সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায়, বিএনপি সরকার ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। দেশবাসীর কাছে এটি আমার অঙ্গীকার, বিএনপির অঙ্গীকার।’
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে দেওয়া ভাষণে এ অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ৩৫ মিনিটের ভাষণে তিনি অতীতের ভুলত্রুটির জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার
দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে; সে জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি এবং আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছি, প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে আপনাদের সমর্থন এবং ভোট চাই।’
ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করে দেশবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব।’
বিএনপি ভোটে জিতে সরকারে গেলে দেশের মানুষের জন্য কী করবে, সেই পরিকল্পনার কথাও একে একে তুলে ধরেন তারেক রহমান। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ আরও নানা পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টর এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই চূড়ান্ত করা হয়েছে বিএনপির সব পরিকল্পনা।’
সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপরে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস—এই কথাটি আবারও সন্নিবেশিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি নিরাপদে বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদ থাকবে।’
চক্রান্ত হচ্ছে, সতর্ক থাকুন
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে রাজধানী দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শেষ করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। গতকাল ঢাকার ৮টি নির্বাচনী এলাকায় জনসভায় যোগ দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান তিনি। একই সঙ্গে ভোট নিয়ে চক্রান্ত হচ্ছে জানিয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দুপুরে নিজের আসন ঢাকা-১৭-এর বনানী কামাল আতাতুর্ক মাঠে জনসভা দিয়ে ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনী এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে জনসভায় যোগ দেন তারেক রহমান। পীরজঙ্গি মাজার সড়কে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিগত দিনের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৭ বছর রাজপথে সংগ্রাম করেছি, বহু রক্ত ঝরিয়েছি। আর একটা দিন কষ্ট করে আমরা ভোট দেব, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেব। ওই ভোটকেন্দ্রে যদি কেউ বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়, সরকারি কর্মকর্তা হোক, বেসরকারি কর্মকর্তা হোক—কাউকে কিছু করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’
ঢাকা-১০ আসনে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, একটি মহল তাদের নেতা-কর্মীদের দিয়ে নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। কাজেই আজকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে এসব নকল সিল যারা বানায় তাদের বিরুদ্ধে।’
কোনো দলের নাম না নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সকল ষড়যন্ত্র ও গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদের আজকে সজাগ থাকতে হবে। তা না হলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে, আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে ভোটের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি, সেই অধিকার আবার হারিয়ে যাবে। সেই অধিকার আবার ষড়যন্ত্রের বেড়াজলে আটকে যাবে।’

গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রচারের শেষ দিনে ঢাকার ৮টি আসনের নির্বাচনী এলাকায় জনসভা করেন তিনি। রাতে মা-বাবার কবর জিয়ারত করে শেষ করেন এবারের নির্বাচনী প্রচারাভিযান।
১ ঘণ্টা আগে
বোরকা ও নিকাব ধর্মীয় সংস্কৃতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উল্লেখ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, হজ বা পাসপোর্টের ছবির মতো মুখমণ্ডল দেখিয়ে প্রিসাইডিং বা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
১ ঘণ্টা আগে
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে একটি নির্দিষ্ট দল নানা অপপ্রচারে লিপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে...
৪ ঘণ্টা আগে
সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে মতভেদ থাকলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস্ অ্যাকশন (এনপিএ)। তবে সংগঠনটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদে উচ্চকক্ষ গঠন না করার আহ্বান জানিয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে