Ajker Patrika

অতি অল্প সময়ের মধ্যে স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষুরধার হবে: কাদের সিদ্দিকী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ২২: ৩৬
অতি অল্প সময়ের মধ্যে স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষুরধার হবে: কাদের সিদ্দিকী
জাতীয় প্রেসক্লাবে শুক্রবার গণতন্ত্রী পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার নুরুর রহমান সেলিমের প্রয়াণে আয়োজিত শোক সভা। ছবি: আজকের পত্রিকা

অতি অল্প সময়ের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষুরধার হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)। তিনি বলেন, গতকাল আমার বড় ভাইকে জেলে নিয়েছে, আমাকেও কবে নিয়ে যায়...কিন্তু জেলে নিয়ে আমাদের নতি স্বীকার করাতে পাড়বে না। আমার ধারণা-অতি অল্প সময়ের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনেক বেশি ক্ষুরধার হবে।

আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতন্ত্রী পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার নুরুর রহমান সেলিমের প্রয়াণে আয়োজিত শোক সভায় এসব কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী।

গণতন্ত্রী পার্টি আয়োজিত এই সভায় কাদের সিদ্দিকী বলেন, আজ যখন আমি গ্রামের বাড়িতে গেলাম, ওইখানের কয়েকজন আমাকে প্রশ্ন করল—‘দাদাকে এভাবে কারাগারে নিল, আমাদের কিছু করার নাই?’ আমি বললাম, অবশ্যই আছে, তবে সেটা দেশকে অশান্ত করে নয়। দেখি না, দেখি... লতিফ সিদ্দিকীকে ৫ মে’র হেফাজতের মামলায় দেওয়া-এটা একটা ষড়যন্ত্র। সরকারকে নাস্তানাবুদ করা, আমাদেরকে সরকারবিরোধী করে তোলা। এখন এখানে একটু দেখি না সরকারের কতটা হাত আছে।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘১৬ আগস্ট মামলার ডেট পড়েছে। যাব কোর্টে। এর মধ্যে যদি বুঝি এটা সরকার করছে, তবে সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া আছে। আর যদি এটা ষড়যন্ত্র হয়... সরকারের মধ্যেও কিন্তু সরকার থাকে-সেটার মোকাবিলা করতে হবে।’

এ বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে দেখে আমি রাজনীতিতে এসেছি। উনি যখন বক্তব্য দিতেন আইয়ুবের বিরুদ্ধে, আমি তখন কাঁপতাম, শরীর ঘেমে যেত। আমরা সাধারণত দারোগা-পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বলতেই ভয় করি, আর তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের সামনে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁকে পেয়েই আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম, স্লোগান দিয়েছিলাম, ’৬২ সালে শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলাম। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। উনি আমাকে প্রচণ্ড ভালোবেসেছেন, সম্মান করেছেন।

বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যার যা আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে—এই কথাটি বলার পরে বঙ্গবন্ধু আমাকে একটা চাকুও দিয়ে যাননি। হানাদারদের কাছ থেকে লাখ লাখ অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে, যুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধুকে দেখাবার জন্য কয়েক হাজার অস্ত্র পায়ের কাছে রেখেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে অস্ত্র নিয়েছিলাম, তার আহ্বানেই তারই পায়ের কাছে অস্ত্র দিয়েছিলাম।’

আজকে দেশের যে অবস্থা, এর জন্য নিজেরা দায়ী মন্তব্য করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কারও বাবার সম্পত্তি না। এটা আপামর জনসাধারণের সম্পত্তি। দেশ এমন একটা অবস্থায় গিয়েছিল যে মানুষের মানবতা, ন্যায়-নীতি যতটা ওপরে উঠলে বিজয় অর্জন করা যায় তার চেয়ে বেশি। আর আজ একটা জাতি ধ্বংসের জন্য যতটা নিচে নামতে হয়, আমরা তাই নেমেছি। সে জন্য বলব মুক্তিযুদ্ধ, জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কারও একার না। জয় বাংলা ছিল মুক্তিযুদ্ধের, সেটা শুধু আওয়ামী লীগের ছিল না। কেন অন্যের কণ্ঠে এটা ধারণ করাতে পারলাম না? আমার বাবার সম্পত্তি বলে মুক্তিযুদ্ধকে নিলাম, জয় বাংলাকে নিলাম। এর প্রতিফল আজ আমাদের ভুগতে হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হইনি, মুক্তিযুদ্ধ চলছে। আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের মুক্তির সংগ্রাম চলছে, চলবে।

গণতন্ত্রী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহীদুল্লাহ সিকদারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন—অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও পার্টির সাধারণ সম্পাদক ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত