
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনরায় মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট ‘সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে।’ আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদে একেএম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, ‘অবশ্যই আমরা জনরায় মেনে নেব, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে। আমি গতকাল রাতেও বলেছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া রয়েছে। আমি বললাম, আরেক দল বলল—তার মুখের কথায় নির্বাচন ভন্ডুল হয়ে যাবে না।’
সুষ্ঠু ভোটের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মিডিয়া রয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ তার কমেন্ট করবে। বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা এবার এসেছে ব্যাপকভাবে। প্রচুর আন্তর্জাতিক মিডিয়া রয়েছে। সার্বিকভাবে আমরা বুঝতে পারব ভোট আসলে কত টুক সুষ্ঠু হচ্ছে, কতটুকু হচ্ছে না। সেটার ভিত্তিতেই ইনশা আল্লাহ আমরা জনরায় মেনে নেব।’
জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলে জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তবে জয়–পরাজয়ের থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমাদের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন। জনগণ যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই আজকের দিনে।’
নির্বাচনের আগের রাতের বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা গতকাল রাতে কয়েকটি জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা শুনতে পেয়েছি। রাতে আমাদের দল থেকে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। আমরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়ে কথা বলেছি। আমাদের বিভিন্ন প্রার্থী, সমর্থকদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে আতিক মুজাহিদ, নোয়াখালীতে হান্নান মাসউদ, এ ছাড়া এ রকম কয়েকটি জায়গাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহর এলাকায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে ক্রমাগত কয়েক দিন ধরে একটা ভীত সন্ত্রস্ত পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে। ফলে অনেকগুলা জায়গাতে এমনকি আমার ঢাকা-১১ আসনেও গতকাল রাতে অনেকগুলা জায়গায় ভোট কেন্দ্র সংলগ্ন আমাদের ক্যাম্পে হামলা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিকূলতাগুলো এসেছে। আমরা এই প্রতিকূলতাকে বেশি ফোকাস করছি না। আমরা ভোটে আসার জন্য আহ্বান করছি। কারণ আমরা চাই না এই ভোটের দিন কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটুক।’
নাহিদ আরও বলেন, ‘আমরা চাই, মানুষ ভোট কেন্দ্রে নির্বিঘ্নে আসুক...ব্যালটেই মানুষের জনরায় প্রতিফলিত হবে। প্রশাসনের প্রতি, সেনাবাহিনীর প্রতি, মিডিয়ার প্রতি আমাদের করজোড় অনুরোধ থাকবে, আহ্বান থাকবে। আমাদের এত আন্দোলন সংগ্রাম আত্মত্যাগ সবকিছু ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি ভোট সুষ্ঠু না হয়। আমরা আশা করব, তারা নিরপেক্ষ আচরণ করবে। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ আচরণ করে, তাহলে যারা গায়ের জোর দেখানোর চেষ্টা করছে, তারা সফল হবে না।’
সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে। আমরা মনে করছি—আমরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। ফলে সেই লক্ষ্য, সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইনশা আল্লাহ যদি ভোট সুষ্ঠু হয়, জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসে। ব্যাপকভাবে উপস্থিতি নিশ্চিত করাটাই আমাদের এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ যাতে ব্যাপকভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। আমরা ভোট কেন্দ্র পাহারা দেব। ফলাফল না নেওয়া পর্যন্ত আমরা ভোট কেন্দ্রের সামনে থাকব, মাঠে থাকব।’

ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সময়ে একই ভোটকেন্দ্রে হাজির হন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান।
৮ মিনিট আগে
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই দিনটির জন্য দেশের জনগণ দীর্ঘ অপেক্ষা করছিল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা করবে বাংলাদেশের মানুষ।’
৩৮ মিনিট আগে
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য এসেছে গতকাল রাতে বিভিন্ন জায়গায় পর্যবেক্ষকেরা বিভিন্ন কেন্দ্রে ভিজিট করতে গেলে স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজন তাদের হয়রানি করেছে। আমাদের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে আমাদের কিছু সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে।’
৪৪ মিনিট আগে
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে আবেগাপ্লুত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘কক্সবাজারে ভোটকেন্দ্রগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।’ ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘শেষ পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে।’
১ ঘণ্টা আগে