
এবারের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে অনেক নতুন মুখ চমক দেখিয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত এবং বর্ষীয়ান অনেক প্রার্থীর ভোটের ফল শেষ পর্যন্ত তাদের পক্ষে যায়নি।
পরাজিত সুপরিচিত প্রতিষ্ঠিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অনেকে।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি দুটি আসনের ফল গণনা হলেও আদালতের নির্দেশনা থাকায় ঘোষণা করা হয়নি। বেসরকারি ফলাফলে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ২ হাজার ৬০৮ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগার লবী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট।
এই আসনে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
হিন্দু-অধ্যুষিত খুলনা-১ আসনে জামায়াত প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। এই আসনে বিজয়ী বিএনপির আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ৬৩ হাজার ২২০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাছির চৌধুরী ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে জিতেছেন।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হওয়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সাবেক ডাকসু ভিপি ও টক শোর পরিচিত মুখ। কিন্তু অন্যতম বড় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকলেও মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন তিনি। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে মান্না প্রচার কার্যক্রম চালানো ‘ব্যয়সাপেক্ষ ও কঠিন’ এসব কথা বলে ঢাকার একটি আসনে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান।
ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট। এই আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে জিতেছেন জামায়াতের প্রার্থী আবু তালিব। ঢাকা-১২ আসনে বিএনপিসমর্থিত বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জামায়াতের প্রার্থী মো. সাইফুল আলমের কাছে ২২ হাজার ৮১০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
জাতীয় পার্টির শীর্ষ দুই নেতা জি এম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারীও ভোটের লড়াইয়ে টিকতে পারেননি। জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় হেরেছেন তাঁরা। রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে জি এম কাদের ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। গাইবান্ধা-১ আসনে শামীম হায়দার পাটোয়ারী পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট। ফেনী-২ আসন থেকে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু দলীয় ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট।
ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ধর্মীয় নেতাদের অঙ্গনের পরিচিত মুখ মামুনুল হক রিকশা প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৭ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষের ববি হাজ্জাজ। বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম হেরে গেছেন। বরিশাল-৫ আসনে তিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। বরিশাল-৬ আসনে ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।
ঢাকা-৯ আসনে সামাজিক মাধ্যমে সুপরিচিত এবং এনসিপি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া তাসনিম জারা হেরে গেছেন। ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন তিনি। এই আসনে বিএনপির হাবিবুর রশিদ ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট এবং এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী প্রচারের পুরোটা সময় আলোচনার জন্ম দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাসের কাছে ৫ হাজার ভোটে হেরেছেন। মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট আর নাসীরুদ্দীন পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭টি। নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির নেতা সারওয়ার তুষার শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৭ ভোট। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৬৯৪ ভোট। পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে এখানে জয়ী হয়েছেন।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে আলোচিত প্রার্থী চিকিৎসক মনীষা চক্রবর্তী ২১ হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। ঢাকা-১৬ আসনে সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে লড়ে হেরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুন। সেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৩ ভোট এবং ধানের শীষ প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট।

একসময় জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিক তৈরির সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আরও দুজন জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন নুরুল হক নুর ও আখতার হোসেন। তাঁরা একই প্যানেলে ছিলেন। ওই প্যানেলের প্রার্থী নাহিদ ইসলামও তাঁদের সঙ্গী হয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
আগের তিন সংসদে যেভাবেই হোক বিরোধী দল ছিল জাতীয় পার্টি (জাপা)। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই জাপার ভরাডুবি হলো। এই প্রথম দলটির কোনো প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। এমনকি জাপার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের একটিতেও জয় পায়নি দলটি।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল ঘোষণার পর নতুন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)। ছয় আসনে জয় নিয়ে প্রথমবার জাতীয় সংসদে যাওয়ার আনন্দ ছাপিয়ে তাদের ঘিরে ধরেছে নিরাপত্তার শঙ্কা।
৩ ঘণ্টা আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল কারচুপি এবং ফল ঘোষণার পর বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে। দমন-পীড়ন চলতে থাকলে রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
৬ ঘণ্টা আগে