
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগে দলীয়করণের কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়, অথচ বাংলাদেশে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রিন্সটন বা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দেওয়া হয় আর বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর গভর্নর নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সোয়েটার ফ্যাক্টরির এমডি। একই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগেও। দলীয় ভিসি-প্রোভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দল করাটা দূষণীয় কিছু নয়, কিন্তু দল না করলে যদি নিয়োগ দেওয়া না হয়, সেটা দুর্ভাগ্যজনক।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘হাজার মানুষের আত্মত্যাগ হচ্ছে এই সংসদ। এই মানুষগুলো কারা, যাদের আত্মত্যাগে আজ আমরা কেউ এমপি, কেউ মন্ত্রী, কেউ বিরোধী দল হয়ে সংসদে এসেছি। তাদের স্বপ্ন কী ছিল? তারা জানত, তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে কেউ এমপি-মন্ত্রী হবে না। তারা ছিল দেশের খেটে খাওয়া একেবারেই সাধারণ জনগণ। তারা নতুন বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্ন দেখেছিল। নতুন রাজনীতি নির্মাণ ও নতুন চিন্তার জন্ম দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। গত কয়েক বছরের ভীষণ রকম বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে সকলকে নিয়ে একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। তাদের কাছে আমিসহ এই সংসদ কৃতজ্ঞ বলে মনে করি।’
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য বারবার আলোচনা হয়েছে। সরকারি দল, বিরোধী দল, চব্বিশের অভ্যুত্থানের আগে-পরে সব সময় বলা হয়েছে যে, ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা। বিএনপি তার ভিশন ২০৩০ ও ৩১ দফায় এ-সম্পর্কিত প্রস্তাব রেখেছে। এই কারণে প্রত্যাশা ছিল—এবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত ভাষণের বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে ভাষণ দিতে পারবেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, এবারও মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত ভাষণ দিতে হয়েছে। এতটুকু স্বাধীনতা আমরা রাষ্ট্রপতিকে দিতে পারিনি...তাহলে আমরা কোন ভারসাম্যের কথা বলছি।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘এই আন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিলেন নারীরা। একঝাঁক নতুন প্রজন্মের তরুণ মুখ আমরা পেয়েছিলাম। সেই নারীরা এক বছর পার না হতেই হারিয়ে গেল কেন? সাতজন নারী সংসদ সদস্যের এই সংসদে প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি। মিছিলের সামনের সারিতে নারীর প্রয়োজন হয়, টিয়ার শেল ও লঠিচার্জের সামনে নারী ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, অস্থির সময়ে নারীর সাহায্য ছাড়া পার হওয়া যায় না আর সবকিছু যখন ঠিক হয়, তখন নারী হয়ে যায় ‘‘ট্রলের বস্তু’’। নারীর পোশাক, নারীর চেহারা, নারীর কথা, নারীর হাসি—সবকিছু তখন হাসির খোরাকে পরিণত হয়। ৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ রচনার কোনো চিন্তা যদি কেউ করে থাকে, সেটা কখনো সম্ভব নয়; কোনো দিন সম্ভব নয়।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পূর্বঘোষিত দেশব্যাপী চারটি লংমার্চের কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে এসব লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে জোটটি।
১৮ মিনিট আগে
আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
১৯ ঘণ্টা আগে
‘আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সহনশীল, ধৈর্যশীল ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে। আমরা এই ব্যবসা থেকে দূরে সরে আসতে চাই...
২০ ঘণ্টা আগে
হাসনাত আবদুল্লাহ শুরুতেই লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান-পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি...
২ দিন আগে