দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল গতকাল। তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকারের এই প্রত্যাবর্তন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও স্বপ্নপূরণের পথে এক নতুন অভিযাত্রার সূচনা। নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন।
নির্বাচন মানেই কিছু না কিছু বিতর্ক, মতভেদ ও রাজনৈতিক উত্তাপ। কিন্তু জনগণের রায় সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সেই রায়কে সম্মান জানিয়ে নতুন সরকারের সামনে এখন প্রধান কাজ—জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রমাণ করতে হবে, তারা কেবল দল বা জোটের নয়, সমগ্র জাতির সরকার।
দেশ আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অর্থনৈতিক চাপ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ—এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারকে যথাযথ নীতিনির্ধারণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনীতির চেহারা ফেরাতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ জরুরি। উন্নয়ন যেন কেবল পরিসংখ্যানের খাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের বাস্তবজীবনে দৃশ্যমান স্বস্তি নিয়ে আসে, এটাই প্রত্যাশা।
নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, প্রশাসনের প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন সুসংহত করা ছাড়া টেকসই অগ্রগতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিরোধী মত ও সমালোচনাকে গণতন্ত্রের সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা দেখাতে হবে। সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তুলতে সরকার ও বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা এখন অপরিহার্য।
রাজনৈতিক সহিংসতা তথা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে—রাষ্ট্র কোনো পক্ষের নয়, রাষ্ট্র সবার। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন দলীয় আনুগত্যের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ন্যায়বিচার যদি দৃশ্যমান না হয়, তবে শাসনের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
যুবসমাজ এখন দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের দক্ষতার উন্নয়ন, প্রযুক্তিমুখী শিক্ষাদান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, কৃষি ও শিল্প খাতে উদ্ভাবন উৎসাহিত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় জোরালো ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।
স্মরণ রাখা প্রয়োজন, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস স্থায়ী। ইতিহাস কাউকে ছাড় দেয় না। যে সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে, ইতিহাসে মর্যাদার আসন তারাই পায়। তাই নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও সহনশীলতার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলুন।
নতুন সরকারের এই সূচনালগ্নে আমরা আশাবাদী হতে চাই। রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবতায় রূপ পায়। উন্নয়ন যেন হয় সমতার ভিত্তিতে। সর্বোপরি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গণতন্ত্র যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়—সেই প্রত্যাশা রইল।
সরকারের সামনে দীর্ঘ পথ, বহু চ্যালেঞ্জ। তবে আন্তরিকতা, সদিচ্ছার পাশাপাশি জনগণকে আস্থায় নিলে পথচলা সহজ হবে। এখন সময় কথার নয়, কাজের। জাতি তাকিয়ে আছে, অনেক আশা নিয়ে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছর একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পরে দেশে গতকাল যাত্রা শুরু করেছে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার। গত ১৮ মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখোমুখি হয়েছে একাধিক সমস্যার। নবনির্বাচিত সরকারকে এখন সম্মুখীন হতে হবে
৩ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটা হয়তো অনেকেই দেখেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ম্যাজিস্ট্রেট একজন টয়লেট অ্যাটেনডেন্ট ও আরেকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ক্যামেরার সামনে শাস্তি দিচ্ছেন, কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। টয়লেট অ্যাটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে জনপরিসরে এমন লাঞ্ছনা করাই যায়—এরা শ্রমিক-কর্মচারী নন
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে আবহাওয়ায় রদবদল দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনার তথ্যে উল্লেখ আছে যে দেশটির গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে বাড়ছে। এবং যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো না হয় তাহলে ২১০০ সাল নাগাদ তা আরও বাড়বে, যার ফলে শীতের গড় তাপমাত্রা ও শীতের সুবিশাল প্রভাব (যেমন শৈত্যপ্রবাহ
৩ ঘণ্টা আগে
গত ৫০ বছরের মধ্যে ব্রিটেনের মাত্র তিনজন প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করেছেন। তাঁরা হলেন লৌহমানবী হিসেবে পরিচিত রক্ষণশীল দলের মার্গারেট থ্যাচার (১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে) ও একই দলের থেরেসা মে (২০১৮ সালে) এবং শ্রমিক দলের কিয়ার স্টারমার (২০২৬ সালে)।
১ দিন আগে