
অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। বর্তমানে তিনি ‘অলটারনেটিভস’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এবারের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর যোগদান না করার সিদ্ধান্তটিকে আমি এখনই কোনো চূড়ান্ত রায় দিয়ে মূল্যায়ন করতে চাই না। এ ধরনের সিদ্ধান্তকে শুধু আবেগ বা মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বিচার করলে চলবে না। এর পেছনে যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ থাকে, তা বুঝতে খানিকটা সময় ও তথ্য উভয়ই প্রয়োজন। আমার কাছে মনে হয়, এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হলো, না যাওয়ার ফলে আমরা আসলে কী পেলাম? বিশেষ করে অর্থনৈতিক কাঠামোর দিক থেকে।
এখন এ সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অর্থনীতির আকার বড় করা। আর সেই লক্ষ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো। সেই জায়গা থেকে বিচার করলে, ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলাম কি না, সেটার একটা যথাযথ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ হওয়া প্রয়োজন। আমার ধারণা, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই এটা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে না গিয়ে আমাদের সত্যিকার অর্থে কোনো লাভ হয়েছে কি না। নাকি এই সিদ্ধান্তের ফলে আমরা একটা বড় সুযোগ হাতছাড়া করলাম।
এই না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপ কাজ করেছে কি না, তা আমার সরাসরি জানা নেই। তবে যদি সত্যিই এমন কোনো চাপ থেকে থাকে, তাহলে সেটা আমার কাছে বেশ অস্বাভাবিক মনে হবে। কারণ, ব্রিকসে এবার যারা অংশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে এমন একাধিক দেশ আছে যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও দীর্ঘদিনের। ইন্দোনেশিয়া তার একটি বড় উদাহরণ। আমরা দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক যথেষ্ট মজবুত হওয়া সত্ত্বেও তারা ব্রিকসে যোগ দিতে দ্বিধা করেনি। একই কথা প্রযোজ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষেত্রেও, যারা এবারও আমন্ত্রিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ একাধিক মিত্র রাষ্ট্র যদি নির্বিঘ্নে ব্রিকসে অংশ নিতে পারে, তাহলে শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কাজ করবে—এই যুক্তি আমার কাছে খুব একটা যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয় না। এটা বলা মুশকিল যে আমাদের কূটনৈতিক কাঠামো ঠিক কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্রও ব্রিকসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। তবে যদি সত্যিই অন্য কোনো দেশের চাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে (যার পক্ষে আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই), তাহলে আমার মনে হয় সেই দেশের সঙ্গে সরাসরি বসে আলোচনা করা প্রয়োজন।
আমি মনে করি যে ভারত, চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কী চায় বা চায় না—এসবের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। এ ধরনের বাহ্যিক হিসাব-নিকাশ দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করলে তা কখনোই দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হয় না। আমি সব সময় বলে এসেছি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকেন্দ্রিক হওয়া দরকার।
যেভাবে বলা হচ্ছে যে আমন্ত্রণটি বিমসটেকের প্রধান হিসেবে পাঠানো হয়েছিল বলেই আমরা যাইনি, সেই ব্যাখ্যা আদৌ সঠিক কি না—তা নিয়েও আমার সংশয় আছে। আসল প্রশ্ন হলো, না গিয়ে আমাদের প্রকৃত লাভ কী হলো? মনে রাখতে হবে, সব দেশের সঙ্গেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বড় পরিসরে বাড়ানো প্রয়োজন। এটা কোনো একটি মাত্র সম্মেলনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার প্রশ্ন নয়, বরং একটা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।
আমি একটা সম্ভাবনার কথাও ভাবছি। ভারত হয়তো নিজেই চায়নি বাংলাদেশ ব্রিকসে যোগ দিক। কারণ, এটা মূলত রাশিয়া-চীনকেন্দ্রিক একটি সংস্থা হিসেবে পরিচিত। আর ভারত এখানে একদিকে রাশিয়া-চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টার মধ্যে ভারত হয়তো চায়নি বাংলাদেশও এই কাঠামোয় সরাসরি যুক্ত হোক। সে কারণেই হয়তো আমন্ত্রণটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ যেতে না পারে।
এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে আমার মনে হয় এ বিষয়ে ব্রিকসের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা দরকার। কারণ, না যাওয়ার ফলে একাধিক দেশের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের যে বড় সুযোগ ছিল, তা হাতছাড়া হয়েছে। আর কূটনীতিতে এই ধরনের ব্যক্তিগত সাক্ষাতের গুরুত্ব কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে বোঝা যাবে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঠিকঠাক চলছে কি না এবং বিনিয়োগ আসছে কি না। যতক্ষণ না তা স্পষ্ট হয়, ততক্ষণ আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। যদি দেখা যায় যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় আকারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তাহলে বোঝা যাবে যে না গিয়ে কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু যদি মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় এবং কোনো নড়াচড়া দেখা না যায়, তাহলে বুঝতে হবে—হয়তো সরাসরি বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু লাভও হয়নি। এই দুইয়ের পার্থক্যটা বোঝার জন্যও আমাদের কিছুটা সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন।
এ প্রশ্নের উত্তরও আমার কাছে মূলত একই রকম। অপেক্ষা করা দরকার। তবে এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলা দরকার, বিমসটেক সংগঠন হিসেবে এত বছর পার হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারেনি। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বিমসটেকের মাধ্যমে বড় ধরনের বিনিয়োগ বা উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি এখনো আমাদের চোখে পড়ছে না। অনেকে মনে করেন, এটা মূলত ভারতেরই নিয়ন্ত্রণাধীন। সে কারণেই এর মাধ্যমে অন্য সদস্য দেশগুলোর, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রকৃত লাভের পরিমাণ সীমিত থেকে যাচ্ছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ বিমসটেক ব্যবহার করে ঠিক কী লাভ করছে, তা নিয়ে আরও গভীর ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ হওয়া প্রয়োজন।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্ব এখনো চলমান থাকার কারণে সার্ক কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আর সে কারণে অনেকে মনে করেন, ভারত ব্রিকস ও বিমসটেকের প্রতি অধিকতর আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কারণ, এই দুই মঞ্চে পাকিস্তানের উপস্থিতি নেই।
তবে আমি মনে করি না যে সার্ককে বাদ দিয়ে অর্থাৎ পাকিস্তান ও চীনকে দূরে রেখে ব্রিকস একাই বড় কিছু হয়ে উঠবে। কারণ, এটাও ঠিক যে ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব দেশ আসিয়ানভুক্ত, তারা বড় আকারেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। এখানে মনে রাখা দরকার, আসিয়ানের বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে চীন। এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অঙ্কের এই বাণিজ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসিয়ানের বাণিজ্যের চেয়েও বড়। অর্থাৎ চীনকে বাদ দিয়ে কোনো আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, চীন ইতিমধ্যে এই অঞ্চলের অর্থনীতির একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
আমি মনে করি না ব্রিকস তাদের সরাসরি বিকল্প হয়ে উঠবে। বরং আমি এটাকে দেখি একটি বাড়তি স্তর হিসেবে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক কাঠামোর পাশাপাশি সমান্তরালভাবে কাজ করবে। জাতিসংঘ যেভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে চেয়েছিল, মানে তার প্রতিষ্ঠাকালীন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা বিশ্বের যে আর্থিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ছিল তা এখন আর নেই। ক্রয়ক্ষমতার নিরিখে জাপানকে ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে চীন এবং খুব সহজেই যুক্তরাষ্ট্রকেও তা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া চীন একাই জাতিসংঘের তহবিল বড় আকারে বাড়াবে বলে আমার মনে হয় না। তবে এটাও লক্ষণীয় যে অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শান্তিরক্ষা খাতে, চীনের অবদান ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ভবিষ্যতে যে খুব বড় আকারের ভূমিকা পালন করবে, এমনটা আমার মনে হয় না। এমনিতেই এই ভূমিকা অনেকখানি সংকুচিত হয়ে গেছে।
আমি মনে করি, ব্রিকস জাতিসংঘকে একেবারে মুছে দিতে চাইছে না। বরং জাতিসংঘের যে মূলনীতিগুলো আছে, ব্রিকস অনেকাংশে সেগুলোই তুলে ধরে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ব্রিকসের বিভিন্ন সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিবকে নিয়মিতভাবেই আমন্ত্রণ জানানো হয়। বরং একটা অর্থে উল্টো চিত্রটাই এখন বেশি সত্য হয়ে উঠেছে যে জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলো ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো যতটা আক্ষরিক অর্থে মেনে চলার চেষ্টা করে, যুক্তরাষ্ট্র সেই জায়গা থেকে অনেকটাই সরে গেছে। জাতিসংঘের মূলনীতির প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বা আগ্রহ যেন কমে এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে তারা সেই নীতির বিরুদ্ধেই কাজ করছে। ফিলিস্তিন বা গাজা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থানই তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ।
তবে এটাও সত্য যে ব্রিকসের সব সদস্যই একই সঙ্গে জাতিসংঘেরও সদস্য। তাই ব্রিকস মানেই জাতিসংঘকে একেবারে সরিয়ে দেওয়া, এমনটা আমি মনে করি না। বরং দেখা দরকার, ব্রিকসের মাধ্যমে জাতিসংঘে কোনো ধরনের সংস্কার বা রূপান্তর আসতে পারে কি না। যুক্তরাষ্ট্র যে নীতির ভিত্তিতে জাতিসংঘ সনদ তৈরি করেছিল, তা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এখনো মেনে চলছে কি না, তা এই মুহূর্তে সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। সেই জায়গায় পরিবর্তন হয়তো অন্য কোনো পথে আসবে এবং সেজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে কোনো সন্দেহ নেই যে ব্রিকসের বিস্তৃতি ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী এবার ব্রিকস সম্মেলনে না গেলেও আমার জানা মতে তিনি জাতিসংঘে যাচ্ছেন এবং সেখানে একাধিক পার্শ্ববৈঠক করার চেষ্টা করবেন। যদিও এখানে একটা বাস্তবতা মনে রাখা দরকার—জাতিসংঘে সবাই সাধারণত ব্যস্ত থাকেন, ফলে ব্রিকসের মতো পরিবেশে যেভাবে বড় বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে সহজে পার্শ্ববৈঠক করার সুযোগ তৈরি হয়, জাতিসংঘে তা ততটা সহজলভ্য নাও হতে পারে। এটাও মনে রাখা দরকার যে বর্তমান বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী নেতা—যেমন পুতিন বা সি চিন পিং—নিয়মিতভাবে জাতিসংঘে যান না। অথচ তাঁরাই বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার বড় খেলোয়াড়। তাই এই বাস্তবতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।
তবে আমি মনে করি, ভবিষ্যতে যেহেতু আরও আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, বাংলাদেশ স্বাভাবিকভাবেই সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে। এবার গুরুত্ব না দেওয়ার একটা বড় কারণ ছিল, যেমনটা আগেই বলেছি, আমন্ত্রণপত্রসংক্রান্ত জটিলতা এবং পাশাপাশি এই সম্মেলনটি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিও এখানে একটা ভূমিকা রেখেছে বলে আমার ধারণা। ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের সম্মেলন অন্য কোনো স্থানে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য আগ্রহ দেখাবে।
সামনের দিনগুলোতে যেসব আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে বাংলাদেশ কীভাবে অংশগ্রহণ করছে, কে প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং কীভাবে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনাগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে—এসব পর্যবেক্ষণ করলেই রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিবর্তন এসেছে কি না, তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আপাতত আমার অবস্থান হলো—সিদ্ধান্তটির ফলাফল নিয়ে দ্রুত কোনো উপসংহারে না পৌঁছে, প্রকৃত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ফলাফল সামনে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং সেই অনুযায়ী নীতিগত মূল্যায়ন করা।

তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো যে একটি ভালো কাজ, তা নিশ্চয়ই সচেতন পরিবারের শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। একই শিক্ষা হয়তো পেয়েছিল ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এক প্রবাসীর ছেলে। তৃষ্ণার্ত ভেবে যাদের পানি খাওয়াতে চেয়েছিল সে, তারাই তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ঘরে ঢুকে লুটপাট চালায়।
১ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ঘোষিত ‘জাতীয় বেতনকাঠামো ২০২৬’ অনুমোদনের পর জাতীয় দৈনিকগুলোতে আসা হিসাব-নিকাশগুলো একটি প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়িত হলে সদ্য যোগ দেওয়া তরুণ কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক বেতন এক লাফে দ্বিগুণ হবে। সংবাদটি প্রাথমিকভাবে স্বস্তিদায়ক মনে হলেও এর আড়ালে যে গভীর....
৩ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ গিয়েছিলাম। প্রমত্তা যমুনার পারে এই শহরটির রয়েছে দীর্ঘ ভাঙাগড়ার ইতিহাস। আজ থেকে ৩৯ বছর আগে প্রথম এই শহরে যাওয়ার কথা বারবার মনে পড়ছে। মনে মনে হিসাব করে দেখলাম, দেশে ও বিদেশে যেখানেই গিয়েছি, তার প্রধান কারণ একটাই ছিল, সেটা হলো শিল্পকলার প্রেরণা, নাটক।
১ দিন আগে
একটি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে—খবরটি নিঃসন্দেহে আনন্দের। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, শতভাগ পাসের এই সাফল্যের আড়ালে কি...
১ দিন আগে