Ajker Patrika

‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ কাণ্ড

সম্পাদকীয়
‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ কাণ্ড

আমাদের দেশে রোগীর সংখ্যার বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা যে অপ্রতুল, তা কোনো গবেষণা না করলেও বোঝা যায়। কীভাবে? খুব সহজ। শুধু হাসপাতালগুলোর ‘ওয়েটিং জোন’ অর্থাৎ যেখানে রোগীরা সেবা পেতে অপেক্ষা করেন, সেখানকার চিত্র দেখলেই হয়। অসংখ্য রোগী দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন চিকিৎসকের সঙ্গে অন্তত পাঁচ মিনিট কথা বলার জন্য। এই চিত্র শুধু সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর নয়, বেসরকারি হাসপাতালেও ভিন্ন কিছু চোখে পড়ে না। যাঁরা চিকিৎসাসেবা নিতে যান, তাঁরা নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করবেন না। রোগীর সংখ্যা বেশি বলে অনেকে ধৈর্য নিয়েই অপেক্ষা করেন। কিন্তু সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এমন এক কাণ্ড ঘটেছে যে অপেক্ষারত রোগীদের ধৈর্যের বিচ্যুতি হয়েছে। এ নিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি খবর ছাপা হয়েছে আজকের পত্রিকায়।

২২ ফেব্রুয়ারি ওই হাসপাতালে সকাল থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা রোগীরা টিকিট কেটে চিকিৎসকদের চেম্বারের বাইরে সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই সারিও দীর্ঘ হচ্ছিল। সারির প্রথম দিকে থাকা রোগীরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করতে পারেন। তাঁরা কয়েকজন চিকিৎসকের দেখা পান। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা চেম্বার ছেড়ে চলে যান হাসপাতালের সভাকক্ষে। সেখানে তাঁরা পূর্বনির্ধারিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিনের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

দুই ঘণ্টা চলে সভা। বেলা আড়াইটার দিকে সভা শেষ হলেও চিকিৎসকেরা চেম্বারে ফিরে যাননি। এদিকে রোগীরা প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান চিকিৎসাসেবা না পেয়ে। জানা যায়, সংসদ সদস্যদের দেওয়া সময়েই ওই সভার আয়োজন করা হয়। হতেই পারে সেটি কোনো অতি জরুরি মতবিনিময় সভা। কিন্তু তা কি কোনো রোগীর জীবনের চেয়ে বেশি জরুরি? সাধারণত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই হাসপাতালে রোগীর সমাগম যদি বেশি হয়ে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারে অবগত আছে। তারা কেন ওই সময়টায় সভা করতে রাজি হলো, এটা মোটেও বোধগম্য নয়। আয়োজক জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে তারা সহজেই আবেদন করতে পারত—সভার সময় এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত যখন ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের চেম্বারে থাকতে হয় না।

কেনইবা দুই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বিবেচনা না করে একটি ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ কাণ্ড করলেন, সেই ব্যাখ্যা কি তাঁরা ভুক্তভোগী রোগীদের দেবেন? কেননা, রোগীদের তরফ থেকেই অভিযোগ উঠেছে—পিক আওয়ারে কেন সভার আয়োজন করা হলো? এই রোগীরাই সেইসব জনগণ, যাঁদের সেবা করার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্যরা। সেটা ভুলে গেলে চলবে কেমন করে?

ভুল শুধরে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের মন জয় করতে তাদের সেবায় মনোযোগ দেবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত