Ajker Patrika

মাটি কাটা

সম্পাদকীয়
মাটি কাটা

বিজ্ঞান বলে, পানিতে আপনি ভেসে থাকতে পারবেন, ডুবে যেতে পারবেন, কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন না। দাঁড়াতে হলে পায়ের তলায় মাটি থাকা লাগবে। তাই হয়তো হাঁটুপানিতেদাঁড়ানো যায়; পা মাটিকে স্পর্শ করতে পারে বলে। অভিকর্ষ বলের কারণে আমরা মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারি, হাঁটাচলা করতে পারি, দৌড়াতেও পারি। ঠিক আমাদের মতোই একটা পিলারকে সোজা ও শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে এর তলায় ও আশপাশে মাটির প্রয়োজন। যেমনটা প্রয়োজন এখন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের সেতুর পিলারগুলোর।

১৫ জুন আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর থেকে জানা যায়, ওই সেতুর পিলারের গোড়া থেকে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। শুধু কি তাই? স্থানীয়দের অভিযোগ—রেলসেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার পাশাপাশি মাটির নিচে থাকা সিমেন্টের ব্লকও তুলে ফেলা হয়েছে, নষ্ট হয়ে গেছে চলাচলের রাস্তা, পিলার পড়েছে এখন ঝুঁকিতে। মাটি কাটার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু কারা তুলছে এই মাটি? জানে না এলাকাবাসী। তবে তারা গণস্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিয়েছিল। তাতে ‘লাভ’ এই হলো যে—মাটি কাটার আপত্তি জানানোয় তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে!

যারা মাটি কেটে নিচ্ছে তারা স্থানীয়দের কাছে একটি কাগজ দেখিয়ে দাবি করেছে যে, মাটি কাটায় তাদের কোনো বাধা নেই, বরং অনুমতি আছে। কিন্তু কে বা কারা দিল তাদের এই অনুমতি? সেতুটি রেলওয়ের হলেও প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনী। প্রকল্পের নির্মাণকারী সংস্থা চায়না কোম্পানির কাছ থেকে নাকি তারা মাটি কাটার ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছে! রহস্যের শুরু এখানেই।

আলীগঞ্জের এই সেতুটির প্রতিটি পিলারের নিচ থেকে অন্তত ৬ ফুট গভীর খনন করে মাটি কাটা হয়েছে। সেতু প্রকল্পের নির্মাণকারী সংস্থা যে দেশেরই হোক না কেন, এটা তো তাদের খুব ভালো করেই জানার কথা যে, পিলারের নিচে বা আশপাশ থেকে মাটি কেটে নিলে তা সেতুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কথা বুঝতে নিশ্চয়ই রকেট বিজ্ঞানী হতে হয় না! পিলারের নিচের মাটি তার ভার বহন করে। মাটি সরিয়ে ফেললে ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে, পিলার কাত হয়ে যেতে পারে বা নিচে বসে যেতে পারে। যদি ভিত্তির ক্ষতি গুরুতর হয়, তাহলে পুরো কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

ওই ব্যক্তিরা আরও দাবি করেছে, এভাবে মাটি কাটা নাকি প্রকল্পটিরই অংশ। অথচ, বাংলাদেশ রেলওয়ে এ ব্যাপারে জানেই না। তাদের প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে তারা জানবে না, এ-ও কি হয়? তারা কখনো এমন মাটি কাটার অনুমোদন দেয় না, ওই মাটি কাটা ব্যক্তিদেরও দেয়নি।

এখন এই অনুমতিপত্রটি ভুয়া কি না, তা অতি দ্রুত যাচাই করে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কোন ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় মাটিখেকোরা সাহস পাচ্ছে, সেটাও তো বের করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত