Ajker Patrika

রোষানলে আত্মহত্যা

সম্পাদকীয়
রোষানলে আত্মহত্যা

অর্পিতা নওশিন নামের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। প্রথম বর্ষ থেকে নওশিন কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের একজন শিক্ষকের রোষানলে পড়েন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্য সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও শুধু অ্যানাটমি বিষয়ে ফেল করেন। এরপর গত তিন বছরে তিনি আরও চারবার একই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেননি। তাঁর সহপাঠীরা পঞ্চম বর্ষে উঠলেও তিনি প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে থাকেন। জুনিয়রদের সঙ্গে ক্লাস করতে বাধ্য হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আর এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

একজন শিক্ষকের কারণে অভিভাবকের কষ্টের টাকায় সন্তানকে বড় করে তোলার স্বপ্ন ঝরে যাবে কিংবা শিক্ষার্থীর এভাবে মৃত্যু হবে—এমনটা মেনে নেওয়া যায় না। এ রকম একজন ব্যক্তি কীভাবে শিক্ষক হতে পারেন, সে প্রশ্নটা তোলা জরুরি। একজন শিক্ষকের কাজ শুধু পাঠদান করা নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও তাঁদের। এ জন্য শিক্ষকতা আর দশটি পেশার মতো নয়, এটা হলো ব্রত।

একজন প্রকৃত শিক্ষক শাসন নয়, বরং ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষার্থীর মনে জায়গা করে নেন। শিক্ষার্থীর সমস্যায় তিনি বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়াবেন। তিনি শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবেন এবং তাঁদের বড় স্বপ্ন দেখাতে উৎসাহিত করবেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ অন্ধকার দিককে উন্মোচিত করেছে। মাত্র ২২ বছর বয়সী এক তরুণ প্রাণ, যাঁর স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হবেন, কেন তাঁকে বেছে নিতে হলো আত্মহননের পথ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসবে একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত রোষানল আর দীর্ঘস্থায়ী মানসিক নিপীড়নের রোমহর্ষক চিত্র। সহপাঠীদের দাবি, নওশিনকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

আমাদের দেশে মেডিকেল শিক্ষা অত্যন্ত কঠিন ও চাপযুক্ত হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই চাপ যদি কোনো ব্যক্তির প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তবে তাকে কি শিক্ষা বলা চলে? শিক্ষকদের কাজ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেওয়া, ভীতি সৃষ্টি করা নয়।

নওশিন দীর্ঘ তিন বছর একই বিষয়ে ফেল করার মধ্যে আটকে থেকে মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছিলেন। প্রফেশনাল পরীক্ষায় এভাবে একজন শিক্ষার্থী কেন বারবার আটকে যাচ্ছেন, সেই খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব ছিল কলেজ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু সেটা নেওয়া হয়নি। তাই এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষও দায় এড়াতে পারে না। একজন শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পাস করার পরও কেন একই বিষয়ে বারবার ফেল করছেন, সে ব্যাপারটি কর্তৃপক্ষ কেন এড়িয়ে গেল, সেটারও তদন্ত হওয়া দরকার।

কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা প্রত্যাশা করি, এই তদন্ত যেন শুধু কালক্ষেপণ বা অভিযুক্তকে রক্ষার ঢাল না হয়। এখন জরুরি হলো, অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের আওতায় এনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অবশেষে অনশনরত স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

চৈত্রসংক্রান্তিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি

ক্রুকে উদ্ধারে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানিরা কেন খুঁজে পেল না

ইরানের বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র পাঠিয়েছিলাম, কুর্দিরা মেরে দিয়েছে: ট্রাম্প

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির এমপি মনিরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত