Ajker Patrika

মক্কা চুক্তি: নয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

আব্দুর রহমান 
মক্কা চুক্তি: নয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
আগস্টে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ভবিষ্যতে শুধু তিন দেশের সামরিক জোট হিসেবে নয়, বরং নতুন ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামোর সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চুক্তির মূল নীতি হলো—কোনো এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই নীতিকে ন্যাটো চুক্তির ‘অনুচ্ছেদ-৫’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে মক্কা চুক্তিকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলা পুরোপুরি যথাযথ নয়। ন্যাটোর জন্ম হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী ইউরোপে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এবং একটি নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে সামনে রেখে। মক্কা চুক্তির পেছনের বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চল বহুমেরুকেন্দ্রিক, যেখানে দেশগুলো একই সঙ্গে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে চাইছে।

তাই মক্কা চুক্তিকে সামরিক ব্লকের চেয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন মডেলের সম্ভাব্য ভিত্তি হিসেবে দেখাই বেশি যুক্তিযুক্ত। আর বেশ কিছু কারণও আছে।

তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা একে অন্যের পরিপূরক। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পারস্য উপসাগর, লোহিতসাগর ও আরব বিশ্বের সংযোগস্থলে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান। তুরস্কের আছে বিশাল ও অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী, ন্যাটোর অভিজ্ঞতা এবং দ্রুত বর্ধমান প্রতিরক্ষাশিল্প। পাকিস্তানের রয়েছে বড় ও যুদ্ধ-অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী, দীর্ঘ কৌশলগত অভিজ্ঞতা এবং মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার।

তবে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে কোনো জোট কার্যকর হয় না। খুব শিগগির এই জোটের আসল পরীক্ষা শুরু হবে। আঙ্কারা বৈঠকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় গড়ে তোলা হবে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে যৌথ মহড়া, সাইবার সক্ষমতা, ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথাও রয়েছে।

পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ, সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়, জরুরি পরিকল্পনা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, রসদ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বিষয়েও কাঠামো তৈরি করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে, কোন ধরনের হামলা যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করবে এবং তার প্রতিক্রিয়া কী হবে। প্রতিটি সংঘাতে সব সদস্যকে সরাসরি যুদ্ধে নামতে হবে এমন নয়। রাজনৈতিক সমর্থন, গোয়েন্দা সহযোগিতা, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ, আকাশ প্রতিরক্ষা, নৌবাহিনী মোতায়েন কিংবা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ, প্রতিশ্রুতির ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা। চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে সদস্যরা এই বিষয়গুলো কতটা স্পষ্ট করতে পারে, অথচ নিজেদের কৌশলগত নমনীয়তাও কতটা ধরে রাখতে পারে তার ওপর।

কারণ, তিন দেশের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এক নয়। পাকিস্তানের প্রধান উদ্বেগের একটি ভারত। তুরস্কের নিরাপত্তা ভাবনা সিরিয়া, ইরাক, পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর ঘিরে। সৌদি আরবের জন্য উপসাগর, ইয়েমেন, লোহিতসাগর এবং ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে চুক্তির শক্তি সবার পৃথক স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়া নয়, বরং অভিন্ন স্বার্থের সমন্বয়ের কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা।

চুক্তির পরবর্তী বড় প্রশ্ন হলো এর সম্প্রসারণ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সম্ভাব্য দেশ মিসর। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মিসরের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। হাকান ফিদানও কায়রোকে স্বাভাবিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মিসর ইতিমধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে উদীয়মান চার দেশের পরামর্শকাঠামো আর-৪-এ যুক্ত।

মিসর যোগ দিলে চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। দেশটির আছে সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমধ্যসাগর, লোহিতসাগর, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের সংযোগস্থলে অবস্থান। আছে আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা এবং অন্যতম বৃহৎ সামরিক বাহিনী।

তবে কায়রো সতর্ক। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে মিসর ঐতিহ্যগতভাবে নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা ধরে রাখতে চায়। কোনো যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়া রাজনৈতিক পরামর্শ বা সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার চেয়ে অনেক বড় প্রতিশ্রুতি।

কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও ভবিষ্যতে কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে। তবে সবাইকে পূর্ণ সদস্য করার প্রয়োজন নেই। মক্কাকাঠামো একাধিক স্তরে গড়ে উঠতে পারে। কেন্দ্রে থাকবে যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলো—বাইরে থাকবে সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষাশিল্প, প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরামর্শে যুক্ত অংশীদাররা।

অর্থাৎ, সাফল্য কতটি দেশ যোগ দিল তাতে নয়, বরং কতটা বাস্তব রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় তৈরি হলো তা দিয়ে বিচার করতে হবে।

মক্কা চুক্তির ফলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসবে। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় অবিলম্বে পাল্টা জোট তৈরি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যদিও এই চুক্তি বা কাঠামোর ফলে ইরান সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে। আবার প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলো বলেছে, চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক এবং ইরান বা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। তেহরানের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখতে চায় সৌদি আরব। তুরস্ক ও পাকিস্তানও চায় না এটি সুন্নি-শিয়া সংঘাতে পরিণত হোক। ইরান হুমকি অনুভব করলে তার প্রতিক্রিয়া সম্ভবত আরেকটি আনুষ্ঠানিক জোট তৈরির বদলে ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক সক্ষমতা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে অসমমিত ভারসাম্য তৈরির দিকে যাবে।

ইসরায়েলও তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত অস্ত্র, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সমন্বয় বাড়লে এর গুরুত্ব আরও বাড়বে। কিন্তু তুরস্ক-ইসরায়েল বিরোধ, সৌদি আরবের নিজস্ব হিসাব, পাকিস্তানের ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং মিসর-জর্ডানের ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি থাকার কারণে অঞ্চলটিকে সহজে দুটি সামরিক শিবিরে ভাগ করা সম্ভব নয়।

ভারতও চুক্তির প্রভাব মূল্যায়ন করছে। পাকিস্তানের সদস্যপদ নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়ালেও সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। রিয়াদ ভারত-পাকিস্তান বিরোধকে নিজের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতিতে টেনে আনতে চাইবে না।

ফলে সবচেয়ে সম্ভাব্য চিত্র হলো পাল্টা জোট নয়, বরং বহুমুখী কৌশলগত ভারসাম্য। কোনো দেশ নিরাপত্তায় এক অংশীদার, জ্বালানিতে অন্য, প্রযুক্তিতে আরেক এবং কূটনীতিতে অন্য শক্তির ওপর নির্ভর করবে।

মক্কা চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের দূরে সরে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ভুল হবে। তুরস্ক ন্যাটো-সদস্য। সৌদি-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখনো শক্তিশালী। পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক। তুরস্কও জানিয়েছে, নতুন চুক্তি বিদ্যমান জোটকে প্রতিস্থাপন করবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া। গত ১৬ আগস্ট ট্রুথ সোশ্যালে তিনি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ‘ওয়াও’ ও ‘বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ বলেন। এটি আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য বেশি দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের আমেরিকান সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।

এখানে পরিবর্তনটি আমেরিকার বিদায় নয়, বরং নিরাপত্তাকাঠামোর বহুমুখীকরণ। এত দিন আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সামরিক বাহিনী বজায় রাখলেও শেষ কৌশলগত নিশ্চয়তা অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করত। যুদ্ধ, অবকাঠামোতে হামলা, সামুদ্রিক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতা সেই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দেখিয়েছে।

এখন তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো দেশ নিজেদের সামরিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক রেখেও তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকতে চায় না। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্ক বাড়াচ্ছে।

মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়তো কোনো প্রতিপক্ষ জোট নয়, বরং সদস্যদের নিজেদের স্বার্থের সংঘাত। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে সৌদি আরব ও তুরস্ক কীভাবে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যাখ্যা করবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। সিরিয়া বা অন্য কোথাও তুরস্ক সংঘাতে জড়ালে পাকিস্তান ও সৌদির অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হবে। সৌদি ভূখণ্ডে রাষ্ট্রবহির্ভূত গোষ্ঠীর হামলা হলে সেটিকে যৌথ প্রতিরক্ষার আওতায় ধরা হবে কি না, সেটিও প্রশ্ন।

ইরানের ক্ষেত্রে সংঘাত শুরু হলে সদস্যদের একদিকে আগ্রাসন ঠেকাতে হবে, অন্যদিকে বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে হবে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রশ্নও একইভাবে জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে এসব মতপার্থক্যই চুক্তির দুর্বলতা নয়। বরং একটি কার্যকর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এমন হওয়া উচিত, যা শুধু যুদ্ধের সময় একসঙ্গে লড়াই করবে না, বরং সংকটের আগেই সদস্যদের মধ্যে পরামর্শ, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ব্যবস্থা তৈরি করবে।

মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ তাই এটি আরেকটি ন্যাটো হবে কি না, সেই প্রশ্নে আটকে রাখা উচিত নয়। সম্ভবত এটি ন্যাটো হবে না, এবং হওয়ার প্রয়োজনও নেই। এর বড় সম্ভাবনা হলো—এটির এমন একটা সময়ের প্রতীক হয়ে ওঠা, যখন আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই বেশি করে নিতে শুরু করছে।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এককভাবে দক্ষিণ এশিয়া থেকে উপসাগর, লোহিতসাগর হয়ে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত একটি পৃথক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু তারা একটি কৌশলগত সেতু তৈরি করতে পারে। মিসর যোগ দিলে এবং অন্য আরব ও মুসলিম দেশগুলো এর সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে যুক্ত হলে সেই সেতু আরও বড় কাঠামোর ভিত্তি হতে পারে। এটি কঠোর সামরিক ব্লক বা সাম্প্রদায়িক জোটের বদলে আঞ্চলিক প্রতিরোধক্ষমতার একটি নেটওয়ার্ক হয়ে উঠতে পারে।

মক্কা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব শেষ করবে না বা পশ্চিমা জোটগুলোকেও চ্যালেঞ্জ করবে না। বরং এটি এমন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে—যেখানে বাইরের শক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, কিন্তু আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতিটি সমীকরণের জন্য তাদের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

শেষ পর্যন্ত চুক্তিটির আসল পরীক্ষা হবে তিনটি প্রশ্নে—এটি কি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও যৌথ নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে? আগ্রাসন ঠেকাতে গিয়ে কি নতুন সংঘাত তৈরি করবে না? এবং ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলো কি একটি খণ্ডিত আঞ্চলিক ব্যবস্থাকে একসঙ্গে পরিচালনা করার মতো যথেষ্ট অভিন্ন ভিত্তি তৈরি করতে পারবে?

লেখক: সাংবাদিক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত