
বাংলাদেশ ও বাঙালির জীবনে ফেব্রুয়ারি মাসটি গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসকে আমরা বলি ভাষার মাস। ৭০ বছর আগেও আমাদের দেশের তারুণ্য মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করে যে ইতিহাস রচনা করে গেছেন, আজ তা কিংবদন্তি। কিন্তু ভাষার মাস বলে যতই আমরা তৃপ্তি লাভ করি না কেন, আজ এই ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাষার যে চেহারা দেখছে, তা কি সত্যি আমরা চেয়েছিলাম?
এ প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে ফেব্রুয়ারি বিষয়ে বলতে চাই। এ মাসের মাঝামাঝি একটি দিন বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা দিবস নামে পালিত হয়। বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আর যেকোনো দিবসের চেয়ে ভালোবাসা দিবসকে জরুরি মনে হতেই পারে। ভ্যালেনটাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস যে কেন জরুরি, তা বলে বোঝাতে হবে না। এই ভালোবাসা বিষয়টি এখন স্থূলভাবে ব্যবহৃত হয় বলে আমরা ভুলে যাই দুনিয়ার বহু দেশে ভালোবাসা নেই বলে মানুষ শান্তিতে নেই। গাজা বা ফিলিস্তিনের জন্য যেমন ভালোবাসার প্রয়োজন, তেমনি দরকার ইউক্রেনের যুদ্ধপীড়িত মানুষের জন্য। ভেনেজুয়েলা বা ইরানের জন্য ভালোবাসার বিকল্প কোথায়? আর আমাদের স্বদেশ? যার প্রতি অঙ্গে ভাঙচুর, তার দরকার ভালোবাসা। সেই কবে দুঃখিনী বাংলাকে ভালোবেসেছি আমরা, আজ তার প্রগতি, উন্নয়ন আর অগ্রযাত্রা থমকে আছে। তার শহর, বন্দর, গ্রামে খালি তর্ক আর তর্ক। বিদ্রোহ আর মারামারি যে এক নয়, তা-ও ভুলতে বসা বাঙালির ভালোবাসা বড় দরকার।
বলছিলাম ভাষার কথা। মানুষের ভাব প্রকাশের বাহন ভাষা। আমি খুব অবাক হয়ে দেখি, যেকোনো উন্নত বা সভ্য সমাজে মানুষ অবলীলায় তাদের ভাষার শুদ্ধরূপ বলতে বা লিখতে পারে। অনেক কষ্ট আর ত্যাগের ফলে নির্মিত হয় ভাষার ব্যবহার। আমাদের বাংলা ভাষা রক্তস্নাত হওয়ার পরও আমরা সে শুদ্ধতা বজায় রাখতে পারছি না। এর পেছনের কারণগুলো অজানা নয়। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভাষার বিকৃতি। আঞ্চলিক কথাবার্তা মানুষের ভাষার মৌখিক রূপ। সেটা তারা লেখে না। অথচ এই বলার ভাষার নামে আমাদের নাটক, সিনেমা, গান, কবিতায় এমন সব বিকৃতি চলছে, যা একদিন হয়তো প্রমিত বাংলাকেই ঢেকে ফেলবে। ভয়ের এদিকটা আগলে রাখছে সস্তা রাজনীতি। একদিন আরও অনেক কিছুর মতো রাজনীতি আমাদের ভাষাকে গিলে ফেলতে পারে, এ ভয় অমূলক মনে হচ্ছে না।
রাজনীতির কথাই যখন এল, এই ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ পেতে চলছে নির্বাচন। সব ঠিক থাকলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠান আমাদের জাতির জন্য অন্য এক মাত্রা বয়ে আনার কথা। গণতন্ত্র বা জনগণের ইচ্ছা আমাদের সমাজে পদদলিত থাকে, এটাই নিয়তি। আমি এখন যে দেশের নাগরিক, সে দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ভোটদান বাধ্যতামূলক। তবে হ্যাঁ, আপনি ভোট না-ও দিতে পারেন। যদি আপনার অঢেল টাকা থাকে এবং জরিমানা দিতে ইচ্ছা হয়, আপনি ভোট না দিলেও চলবে। যুক্তিযুক্ত কারণ আর তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ভোট না দেওয়া এ দেশে অপরাধতুল্য। ভোট আমরা দিই। লম্বা ব্যালট পেপারে সব দল ও মতের প্রার্থীর নাম থাকে। সবাইকে টিক চিহ্ন দেওয়া জরুরি। না হলে ভোট বাতিল হতে পারে।
নিশ্চয়ই ভাবছেন, সবাইকে টিক দিলে আপনার মনোনীত বা সমর্থিত প্রার্থী জিতবে কীভাবে? জিতবে। কারণ আপনি ভোটে তাঁকে ১ নম্বরে রাখবেন। বাকিরা টিক পাবে পরের নম্বরগুলো অনুযায়ী। মনে করুন, প্রার্থী সংখ্যা মোট ১০ জন। আপনার অপছন্দের বা বিরোধী প্রার্থীকে রাখবেন ১০ নম্বরে। কিন্তু কাউকে না বলা যাবে না। এই যে জাতীয় সমঝোতা বা সহনশীলতা, এর কারণ হচ্ছে এ দেশে কেউ অস্ট্রেলিয়া বা দেশবিরোধী রাজনীতি করে না বা এখানে কোনো দল বা প্রার্থীকে অমুক দেশের দালাল বা অমুকপন্থী বলে ডাকার রেওয়াজ নেই। এ কারণেই আমরা বারবার বলে আসছি, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার প্রতি অনুগত সব রাজনৈতিক দলই বৈধ। কেউ রাজনীতি করতে চাইলে এ সত্য না মেনে উপায় নেই।
আর একটি মজার বিষয় হচ্ছে, কোনো অমোচনীয় কালি নেই অস্ট্রেলিয়ায়। আঙুলে কালি লাগানোর কোনো নিয়মও নেই। আছে কাঠপেনসিল। প্রথমবার ভোট দিতে গিয়ে পেনসিলের ব্যবহার দেখে হতাশ ও বিস্মিত হয়েছিলাম। পরে বুঝেছি একদিকে সাশ্রয়, আরেকদিকে আছে বিশ্বাস। বিশ্বাসটা এই—কেউ জাল-জালিয়াতির কথা চিন্তাও করে না। পেনসিলের দাগ হলেও ভোট যার, তারই থাকবে। উদার গণতন্ত্রে অবাধ স্বাধীন ভোটে এটিই নিয়ম।
মানতেই হবে, বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। ক্ষমতাবান শাসক আর তাদের দল ধরে নিয়েছিল, এ দেশে যেভাবে ইচ্ছা শাসন করা যায়। যত উন্নতি, অবনতি, দুঃশাসন আর ভালো দিক থাকুক না কেন, জনগণের ভাষা বুঝতে না পারার কারণে আজ তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। উধাও হয়ে গেছে সবচেয়ে বয়সী প্রাচীন দলটি। এই ফেব্রুয়ারি তাদের জন্য ভয়াবহ এক শিক্ষার মাস। জনগণ যে কতটা শক্তিশালী বা নিয়ামক, সেটা বুঝতে না পারলে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে হয় না।
বলছিলাম এ মাসটি এবার আশা-হতাশা আর দ্বন্দ্ব উত্তরণের এক মাস। ভাষার বিকৃতি রোধ করতে না পারলে বাংলা ভাষার গৌরব হাতছাড়া হতে বাধ্য। আমাদের এই প্রিয় ভাষা পাশের বঙ্গে হিন্দির কবলে পড়ে ক্লিশ। আর আমাদের সমস্যা জগাখিচুড়ি। প্রয়াত অধ্যাপক লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম লিখেছিলেন: ‘ভাষাদূষণ নদীদূষণের চাইতেও ভয়াবহ।’
মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল ভাষার কারণে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির হাত ধরেই এত দূর এসেছে এই দেশ। ভালোবাসা, নির্বাচন আর ভাষার সম্মান—এই তিনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা স্বদেশের চোখ-মুখে উদ্বেগ। অশান্তি আর অস্থিরতা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। বারবার স্বপ্ন দেখা, স্বপ্ন দেখানো একটি জাতির ভাগ্যে আসলে কী আছে, ঠিক এখনই তা বলা যাবে না। তবে কবির কথায় বলি, ‘এ দেশে আসে না ফাগুন, আসে যে ফেব্রুয়ারি।’ বাংলাদেশ ও তার মানুষের কল্যাণ হোক।
লেখক: অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কলামিস্ট

বাংলাদেশের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ বর্তমানে শহরে বসবাস করে, যে হার ১৯৭২ সালে ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মাত্র ৫৫ বছরে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ উন্নততর জীবনের আশায় গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বসবাস শুরু করলেও এবং এখানে এসে তারা নানা শহুরে জীবিকার সঙ্গে যুক্ত হলেও এখানকার নতুন পেশা তাদের অধিকাংশের জন্যই এখনো...
১১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বে মিঠাপানির মাছ চাষে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে মাছের আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে যে গুণগতমানের চর্চার ভেতর দিয়ে যেতে হয়, তা এখনো অর্জিত হয়নি। মাছচাষিদের উত্তম কৃষিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় ময়মনসিংহের তারাকান্দায় স্থাপন করা হয়েছে রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার পদ্ধতিতে
১১ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরে ফুলচান মিয়া যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা এই বাংলায় যে একেবারেই ঘটে না, তা নয়। এমনকি বলিউডের ‘দৃশ্যম’ চলচ্চিত্রে এক কিশোরীর স্নানের দৃশ্য ভিডিও করেছিল এক ডাকসাইটে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে, তা থেকেই সিনেমাটায় শুরু হয়েছিল সাসপেন্স আর ড্রামা।
১১ ঘণ্টা আগে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। দেশের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সম্ভবত বেশির ভাগ মানুষের কাছেই পছন্দের একজন মানুষ। সেভাবে দেখলে বঙ্গভবন একজন যোগ্য অভিভাবকই পেয়েছে।
১ দিন আগে