
মন্ত্রিসভার অসম্মতিতে প্রাথমিক শ্রেণিতে সহকারী শিক্ষক (সংগীত) নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বর্তমান সরকার। বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেছেন। ধারণা করেছিলাম, সংগীত তথা সাংস্কৃতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বর্তমান সরকার ভালো বুঝবে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে, বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে যুক্তি-তর্ক চলে আসছিল। চলে আসছিল সংগীত ও শারীরিক শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রচণ্ড বিরোধিতা। অনেকের ধারণা, এই বিরোধিতাই বর্তমান সরকারকে প্রাথমিক শ্রেণিতে সংগীতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে। অথচ বর্তমান সরকারের ভেতর থেকে ইতিপূর্বে সাংস্কৃতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে শিশুদের দক্ষতা, জ্ঞান বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এবং সর্বোপরি সামাজিক অবক্ষয় রোধে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই, এমন উপলব্ধির কথা বেশ শোনা গেছে। এই শোনায় মনে হয়েছে, আর যাই হোক না কেন, সংস্কৃতির গুরুত্ব বর্তমান সরকার ভালো বোঝে, ভালো বুঝতে পারবে। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যেভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, শিল্পীরা যেভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন, সেটার আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বর্তমান সরকারের আমলে। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলেই সংস্কৃতির বড় ক্ষেত্র সংগীত, নৃত্য, খেলাধুলার প্রতিভা বিকাশে এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিক শ্রেণিতে জ্ঞান অর্জনের বড় বাধা হিসেবে দেখা দিল এই সব বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিসভা কর্তৃক অসম্মতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতি যে বিরূপ মনোভাব, বিরোধিতা এবং ধর্মীয় শিক্ষার যে ব্যাপকতা, ঘুরিয়ে সেটাই যেন জায়গা পেল।
একটি জাতিকে সুশৃঙ্খল ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং সেই শিক্ষাটা হলো শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক—সুস্থ এবং পরিপূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে। জ্ঞান নিয়ে কেবল একজন ব্যক্তি জীবনের পূর্ণতা অর্জন করতে পারে না। তার শারীরিক সুস্থতা ও ফিটনেস দরকার। সেই সঙ্গে দরকার সামাজিক সচেতনতাবোধ, সমন্বয় সাধন, সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি। আর এসবের ভিত্তি বা শিকড় যেখানে অন্তর্নিহিত, সেটাই হলো নিজস্ব সংস্কৃতি, যার জন্য একটি জাতির নিজস্ব ভৌগোলিক সীমা থাকে, থাকতে হয়—দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ যার চর্চার মধ্য দিয়ে পোক্ত হয়, বিস্তৃত হয়। আমরা জানি কি না যে একটি শিশুর বুদ্ধিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ সময় কোনটা? কোন সময়টা একটি শিশুর শেখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? আর শিক্ষা তো কেবল পাঠ্যবই পড়ে অর্জিত হয় না। পাঠ্যবই পড়ে কি আদর্শ নাগরিক হওয়া যায়? যায় না। ব্যক্তির ভেতর যে আবেগ, প্রেষণা, মনোভাব, চেতনা, মূল্যবোধ—এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য, যা পাঠ্যবই পড়ে হয় না। পরিবেশ দরকার হয়। একটা সুস্থ সমাজ লাগে।
লক্ষ করা যায়, ছোট্ট শিশুকে তার মা গান গেয়ে ঘুম পাড়ান। কিংবা শিশুরা ছড়া ও ছড়াগানের মাধ্যমে জগৎকে চিনতে শেখে, শব্দ উচ্চারণে দক্ষতা অর্জন করে। এইসব শব্দই পরবর্তীকালে তার ভাব প্রকাশে, অন্যের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করে। বলতে চাইছি যে গান, ছড়াগানের সঙ্গে বাংলাদেশের শিশুদের পরিচয় প্রথম ঘটে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক এই বিষয়টি মেধা বিকাশে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে। গান নিছক গান থাকে না, ব্যক্তিত্ব বিকাশের অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করে।
প্রাথমিক শ্রেণিতে বাংলা, গণিত, ইংরেজি, ধর্মীয় শিক্ষা, সংগীত শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা, উদ্ভাবনী শিক্ষা থাকলে কী ক্ষতি হতো সমাজের, যাঁরা সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার বিরোধিতা করছেন, হয়তো তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে শিশু মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষক-শিক্ষকদের মতামত জরুরি বলে মনে করি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠনের চেয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে ভালো কিছু চিন্তাভাবনার মানুষের কিন্তু অভাব নেই দেশে। অভাব হলো, দলীয় রাজনীতির বাইরে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন বোধের।
জনগণ একটা নির্বাচিত সরকার গঠন করেছে। কী বিষয়বস্তু নিয়ে পরিকল্পনা হবে, জাতির অস্তিত্ব কোন কৌশলে সুরক্ষিত হবে, আগামী প্রজন্মের চিন্তাধারা কোন দিকে অগ্রসর হবে, রাষ্ট্র কতটা সবার বসবাসের উপযোগী হবে—এসব নিয়ে ভাবনার যোগ্য অরাজনৈতিক ব্যক্তি কিন্তু আছে দেশে। বুঝলাম না, মন্ত্রিসভার অসম্মতি কেন সংগীতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে? মন্ত্রিসভার সদস্যরা কি তাঁদের ভোটারদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করে এমন মত পোষণ করেছেন? যদি করে থাকেন তাহলে তো তা বিস্তারিত উল্লেখ করে জনগণের কাছে পুনরায় উপস্থাপন করে যাচাই করা যেত। জনগণ কী চায় বা চাইছে, তা দেখা কি খুব দুরূহ ব্যাপার? নিশ্চয়ই না। জনগণই তো পরিবর্তন চেয়েছে, চেয়েছে নিরাপত্তা। তাহলে তাদের চাওয়া তো প্রাধান্য পেতেই পারে, তাই না?
যাদের শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে ধারণা নেই, ব্যক্তিত্ব বিকাশের ধারা বুঝতে পারে না, তাদের মতামতের কাছে সমাজ নামক বৃহৎ প্রতিষ্ঠান তুলে দেওয়ার যৌক্তিকতা কী থাকতে পারে? দুদিন পর হয়তো ঘোষণা আসবে—কন্যাশিশুদের খেলাধুলা বন্ধ, নাচ বন্ধ, পড়াশোনা বন্ধ; কারণ মন্ত্রিসভার অসম্মতি রয়েছে!

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতেই হবে। বর্তমান সরকার দুদক আইন সংশোধনের যে নতুন খসড়া তৈরি করেছে, তাতে সংস্কার কমিশনের যুগান্তকারী প্রস্তাবগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে...
৩ ঘণ্টা আগে
একের পর এক মন খারাপ করা খবরের তালিকায় যোগ হলো আরেকটি। গত মঙ্গলবার দেশের সব বড় দৈনিকেই খবরটি ছাপা হয়েছে গুরুত্ব দিয়ে। লালমনিরহাটে সাত বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর ভুট্টাখেতে পুঁতে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় অবোধ শিশুটির নিথর দেহ।
৩ ঘণ্টা আগে
দুই বছর আগে সেদিনের বিকেলে পাওয়া এই সংবাদ আমাকে শুধু হতবাক করেনি, বাক্রুদ্ধও করেছিল। মাত্র ৬২ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছিলেন একসময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা ও রাজনীতিবিদ শফী আহমেদ। তিনি আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র এবং জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন।
৩ ঘণ্টা আগে
দুটি প্রতিবেদনে চোখ পড়তেই মনে হলো, এখনই এই ব্যাপারগুলোয় সতর্ক না হলে দেশের রাজনৈতিক স্বাস্থ্য নাজুক অবস্থায় গিয়ে দাঁড়াবে। খবরগুলো সুখকর নয়। কিন্তু তার একটা প্যাটার্ন আছে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, যাঁরা এই অঘটনগুলো ঘটাচ্ছেন, তাঁদের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়।
১ দিন আগে