বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে এবং বিভিন্ন বেড়িবাঁধে বন বিভাগের আওতায় রোপণ করা সামাজিক বনায়নের হাজার হাজার গাছ কেটে প্রভাবশালীরা ঘর, দোকানঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। আর এসব দখলদারি করতে পারছে পাউবোর পিয়ন মামুনের মাধ্যমে। তিনি ৩৫ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন এর জন্য। শুধু তা-ই নয়, পাউবোর জায়গা দখল করে নতুন নতুন বাজারও সৃষ্টি করা হচ্ছে।
মামুনের মতো লোক কোন ক্ষমতাবলে এ ধরনের অপকর্ম করতে পারছেন, তা এক রহস্য বটে। এলাকার প্রভাবশালীরাই নাকি তাঁকে ‘ম্যানেজ’ করে ছোট-বড় নানা স্থাপনা গড়ে তুলছেন। পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই বলেছেন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগেই বিষয়টি জানিয়েছেন। অথচ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হান্নান দাবি করছেন, এ ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই।
সরকারি অফিসের একজন পিয়নের অপকর্মে আজ ধ্বংসের পথে সামাজিক বনায়নের হাজার হাজার গাছ। সেখানকার বড় কর্মকর্তারা তাহলে কী করেন? একজন পিয়ন কী করে এ ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ পান? কীভাবে এত বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন? এক দিনে নিশ্চয় সেই পিয়ন বেপরোয়া হয়ে ওঠেননি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এমন হীন কাজটি করে গেলেও কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা জরুরি।
আমাদের সমাজে এখনো যে সাধারণ জনগণ সচেতন নয়, সেটা এ ঘটনায় প্রমাণিত হয়। সামাজিক বনায়ন তো করা হয়েছে ওই এলাকাকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জন্য। সেটা ধ্বংস করা মানেই তো এলাকাবাসীর ক্ষতি। তাঁদের মধ্যে এই সচেতনতা বোধ কাজ করলে তাঁরা নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারতে পারতেন না। সেই সচেতনতা না থাকার কারণেই এলাকার প্রভাবশালীরা শুধু নিজের স্বার্থে পাউবোর জমি এবং বন ধ্বংস করে ঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণ করতে পারছেন। বাকি সাধারণ জনগণের তো এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করার কথা ছিল; কিন্তু তা হয়নি। সমাজের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে যদি নিজের ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা তৈরি হতো, তাহলে তাঁরা এ ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারতেন। এসব কারণে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে সহজে।
শুধু আমাদের দেশেই কেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পিয়নরা এত ক্ষমতাশালী হতে পারেন, তার জন্য গবেষণা হওয়া দরকার। বিভিন্ন সময় দেখা গেছি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পিয়ন থেকে শুরু করে পিএসসির পিয়ন পর্যন্ত শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার খবর। আরও এমন কত পিয়ন যে আছে, তা আমাদের জানার বাইরে।
সরকারি জমি এবং সামাজিক বনায়ন রক্ষা করার জন্য মামুনের মতো লোকদের এখনই আইনের আওতায় আনা দরকার। একই সঙ্গে সেখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে। তাঁদের আশকারা না থাকলে একজন পিয়ন এ ধরনের ক্ষমতাবান কোনোভাবে হতে পারে না।

বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে কি আসলেই ঘটে গেছে ব্যাপক পরিবর্তন? মানুষ কি সত্যি ভুলে গেছে তার অতীত? আমাদের দেশের গৌরবময় ইতিহাস কি এখন আর কাজ করছে না? বর্তমান প্রজন্ম নামে পরিচিত তারুণ্য কি আসলেই ভুলে যেতে চাইছে আমাদের ইতিহাস? এই প্রশ্নগুলো এখন আগুনের মতো সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যা অস্বীকার কিংবা এড়িয়ে যাওয়া
১৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে কি আসলেই ঘটে গেছে ব্যাপক পরিবর্তন? মানুষ কি সত্যি ভুলে গেছে তার অতীত? আমাদের দেশের গৌরবময় ইতিহাস কি এখন আর কাজ করছে না? বর্তমান প্রজন্ম নামে পরিচিত তারুণ্য কি আসলেই ভুলে যেতে চাইছে আমাদের ইতিহাস? এই প্রশ্নগুলো এখন আগুনের মতো সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যা অস্বীকার কিংবা...
১৭ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যাত্রা একটি ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় সরকারব্যবস্থার প্রত্যাশা ও তদানুগ একটি সংবিধান দিয়ে শুরু হলেও এর বিগত ৫৫ বছরের বয়সকালের মধ্যে অন্তত ২৫ বছরই কেটেছে সংসদবহির্ভূত ব্যবস্থার অধীনে। আর কাগজ-কলমে যে ৩০ বছর সংসদীয় ব্যবস্থার অধীনে ছিল, তার মধ্যেও অন্তত ১০ বছর সংসদে কোনো...
২ দিন আগে
আজকের লেখায় বলতে চাইছি আর্থিক খাতের নীতি নিয়ে। আমাদের দেশে প্রতিবছর অনেক নীতি প্রণয়ন হয়। প্রায় ক্ষেত্রেই কিছুদিনের মধ্যে এই নীতি সবাই ভুলে যায়। এত নতুন নতুন নীতি প্রণয়ন হয়, যেটা সবার পক্ষে মনে রাখা বা নীতি মেনে কাজ করা দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়।
২ দিন আগে