ফিরে এসেছে একুশ। বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিজয়ের অন্যতম পথরেখা এঁকে দিয়েছিল এই দিনটি। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে এই দিন প্রাণ দিয়েছিল বাঙালি। তাই একুশের নাম রক্তের আখরে লেখা। এই আন্দোলন বাঙালির সাংস্কৃতিক যে পরিচয় গড়ে দিয়েছিল, তারই পথ ধরে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা তুলবার সাহস জুগিয়েছে একুশ।
একুশ বাঙালিকে তাঁর ইতিহাসের প্রতি মনোযোগী করে তুলেছে। কিন্তু সব সময় একুশের অঙ্গীকার রক্ষা করা গেছে—এ রকম বলা যাবে না। বরং আমরা অনেক সময় দেখেছি, ভাষার প্রতি নির্লিপ্ত থেকে, ভাষাকে অবজ্ঞা করেই এগিয়েছে দেশ এবং সে সময় ভুলে যাওয়া হয়েছে বাংলা ভাষার গর্বিত ইতিহাস।
ব্রিটিশ শাসন অবসানের সময় অনেকেই ভেবেছিল, ভারতবর্ষে যে রাষ্ট্র দুটি গঠিত হতে যাচ্ছে, সে রাষ্ট্র দুটিতে স্বশাসন আসার কারণে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ে নিতে পারবে। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলিম লীগ মুসলমানদের জন্য পৃথক দুটি রাষ্ট্রের কথা বলেছিল। কিন্তু ১৯৪৬ সালে দিল্লি প্রস্তাবের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রই গঠিত হলো। তারপর দেখা গেল, শোষক ও শোষিত শ্রেণি আসলে সবখানেই বিদ্যমান। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলিমরা শোষক শ্রেণি হিসেবেই আবির্ভূত হলো। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে অগ্রাহ্য করে এবং তাদের শোষণ করেই পাকিস্তান রাষ্ট্রটি তাদের যাত্রা শুরু করল। রাষ্ট্রগঠনের আগে থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে বেছে নেওয়ার জন্য তৎপরতা চলল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকেই ভাষা বিতর্ক চলতে থাকল। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ শুধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চায়নি। বরং তারা চেয়েছিল বাংলা ও উর্দু—এই দুই ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হোক। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেই দাবি উপেক্ষা করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন এবং তার বিজয়।
কথাগুলো বলতে হলো নতুন প্রজন্মকে লক্ষ্য করে। যে যুগ এসেছে, তাতে ডিজিটাল মাধ্যমে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে যেকোনো মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। ইতিহাসের সত্যগুলোকে যাচাই করে নেওয়া হলেই কেবল প্রকৃত সত্য জানা সম্ভব হয়। নতুন যুগের মানুষ অনেক বেশি ডিজিটাল তথ্যের ওপর নির্ভর করে বলে যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার সুযোগ থাকে কম। আমরা আশা করতে চাই, ভুল বা অসত্য তথ্যের প্রেমে পড়ে গিয়ে নতুন প্রজন্ম নিজেদের ইতিহাসকে গোলকধাঁধায় ফেলে দেবে না।
অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলা ভাষাকে ঋজু হয়ে দাঁড়াতে হয়েছে। এ রাষ্ট্রের ভাষা মর্যাদা পাওয়ার পর জাতীয় চেতনার যে উন্মেষ ঘটেছিল, তা ছিল খুবই তাৎপর্যময়। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এ জাতির সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ও ঐক্য শক্তিশালী হয়েছে। শিক্ষা ও সাহিত্য প্রসারে ভাষা আন্দোলন রেখেছে সুদূরপ্রসারী প্রভাব।
মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষাশহীদদের সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি। আত্মপরিচয়ে বাঙালি জাতি সমৃদ্ধ হয়ে উঠলে এবং এ দেশে থাকা অন্যান্য ভাষাভাষী মানুষকে সম্মান করলেই কেবল তাঁদের আত্মদান সার্থক হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই বিজয়ী দলের নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল অন্যান্য দলের নেতাদের বাসায় গিয়ে তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বহু বছর এ দেশের বিজয়ী ও পরাজিত দলগুলোর নেতাদের বলতে গেলে মুখ দেখাদেখি বন্ধ থাকার পর...
২ ঘণ্টা আগে
জাপানের সঙ্গে অবিভক্ত বাংলা অঞ্চলের সম্পর্ক শতবর্ষাধিক। ১৮৭৮ সালে জাপানের মিকাদো তথা মেইজি সম্রাট মুৎসুহিতো এবং কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবারের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব সংগীতজ্ঞ, সংগীতের ইতিহাসবিদ রাজা শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুরের মধ্যে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বিনিময়ের ঘটনাই জাপান-বাংলার...
২ ঘণ্টা আগে
একটি নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার সংবাদ আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যশোরের মনিরামপুরে নির্মাণকাজ শেষ না হতেই ঝাঁপা বাঁওড়ের নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। ১৯৯৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক পাস করেন। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের নর্দামবিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুনরায় আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স ‘ব্যারিস্টার এট ল’ সম্পন্ন...
১ দিন আগে