
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। ১৯৯৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক পাস করেন। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের নর্দামবিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুনরায় আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স ‘ব্যারিস্টার এট ল’ সম্পন্ন করেন। তিনি একজন অ্যাকটিভিস্ট। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক মামলা পরিচালনা করছেন। সম্পাদনা করেছেন ‘রামু: সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’ সংকলন। নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের অসম বাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা।
নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় শক্তির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এবং অসম কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করার আইনি এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল কি?
এ ধরনের চুক্তি করার ম্যান্ডেট অন্তর্বর্তী সরকারের কতটুকু ছিল, সেটা বোঝাপড়ার ব্যাপার আছে। যদিও তাদের বিপ্লবী ও অভ্যুত্থানের সরকারসহ নানা অভিধায় অভিহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যে পরিস্থিতিতে এবং যে ব্যাকগ্রাউন্ডে সরকারটি গঠিত হয়েছিল, সেটা বুঝি আমরা ভুলতেও বসেছি। সত্যিকারের ঘটনাটি কেমন ছিল? জুলাই আন্দোলনের দিকে ফিরে তাকালে সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। সেই আন্দোলনের একটা পর্যায়ে সারা দেশের আপামর জনসাধারণ আন্দোলনে নেমে বলেছে আমরা আর শেখ হাসিনা সরকারকে চাই না। এই আন্দোলনে শিক্ষার্থী-জনতা আগে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নামেনি। পৃথিবীর যেকোনো বিপ্লবের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিপ্লবী সংগঠন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য আগে ঘোষণা করে তারপর আন্দোলনে নেমেছে। সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে যে অভ্যুত্থান বা বিপ্লব হয়, তারপর তারা সে অনুযায়ী সরকার গঠন করেছে। এটাই নিয়ম। বাংলাদেশে এই আন্দোলনে সে রকম ঘটনা ঘটেনি। জনসাধারণের সে অর্থে কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছিল না। আগে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ব্যাপার ছিল না। ফলে এটা বলার সুযোগ নেই যে অন্তর্বর্তী সরকারের সবকিছু করার এখতিয়ার ছিল। এ সরকারের আসলে মূল দায়িত্ব ছিল একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করা। এটা করার জন্য যা যা করার দরকার, তারা সেটা করে চলে যাওয়ার কথা ছিল। মৌলিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায় বর্তাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাইন্ডিংয়ের মধ্যে নিয়ে আসবে—এ ধরনের বিষয়গুলো তাদের এড়িয়ে চলা উচিত ছিল এবং কোনো ধরনের চুক্তি করার এখতিয়ার তাদের ছিল বলে আমি অন্তত আইনের জায়গা থেকে মনে করি না। তাদের দায়িত্ব অর্পণের শেষ মাসে তারা চট্টগ্রাম বন্দরের নির্দিষ্ট দুটি পোর্টকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চুক্তি করে।
এর মধ্যে খুব গোপনে জাপানের সঙ্গে একটা চুক্তি করা হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি। সেখানে অনেকগুলো গোপন ব্যাপার আছে, যেগুলোর অনেক কিছু আমরা জানতেও পারব না। এটা করার ঠিক দুই দিন পরে ৯ ফেব্রুয়ারি আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা চুক্তি করা হলো। সেখানে নানা ধরনের গোপনীয়তার ব্যাপার আছে, যেগুলো কোনো দিনই জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হবে না। সেসবের বাইরে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যতটুকু প্রকাশিত হয়েছে, সেটুকু দেখে আমাদের আঁতকে উঠতে হচ্ছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিটাকে আমি উদাহরণ হিসেবে বলতে চাই—একদম একপার্শ্বিক, আনফেয়ার কন্ট্রাক্ট নিয়ে একটা চুক্তি হতে পারে দুটি দেশের মধ্যে, সেটা খুব বিরল ঘটনা বলতে হবে। বিশেষ করে অনেক উন্নত দেশ এবং আমাদের কাছাকাছি মালয়েশিয়ার সঙ্গেও এ রকম চুক্তি করতে পারেনি তারা।
পৃথিবীর সাতটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল—এ রকম দেশ ছাড়া (তার মধ্যে বাংলাদেশ যুক্ত হলো) পৃথিবীর কোনো দেশের সঙ্গে তাদের কোনো অসম চুক্তি নেই। ফলে সেসব দেশের সাবভৌমত্ব এবং নিজস্ব বাণিজ্য করার অধিকারই আসলে থাকে না।
তাইওয়ানের নিজের কোনো সামরিক শক্তি নেই। তারা নির্ভর করে আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। ফলে তারা যদি তাদের সবটা মেনে না নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তো তাদেরকে সহযোগিতা করবে না। ওই সাতটি দেশের মধ্যে আর্জেন্টিনা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব বিষয়ে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম বা অসম চুক্তি হওয়ার মধ্যে কিছু যায়-আসে না। কিন্তু বাংলাদেশ তো সেই তালিকার মধ্যে নেই। ওই সাতটি দেশ আবার উন্নত। কিন্তু বাংলাদেশ তো উন্নত অর্থনীতির মধ্যে পড়ে না। অনুন্নত কোনো দেশের সঙ্গে এ রকম অসম চুক্তি হওয়ার কোনো নজির নেই। আবার সেসব দেশের অনেক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। আমরা অপেক্ষা করছি, সে মামলাগুলোর কী হয়?
আবার পৃথিবীর যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো না, সেসব দেশে এ ধরনের চুক্তি করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আছে। তারা এ ধরনের চুক্তির দিকে আগায়নি। উদাহরণ হিসেবে চীনের কথা বলা যায়। শুধু চীনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে অনেক দেশ এ ধরনের চুক্তি করেনি। কারণ, চীন এমন একটি দেশ, পৃথিবীতে এমন কোনো পণ্য নেই যে তারা রপ্তানি করে না। সে কারণে ইচ্ছা করলেও চীনকে এড়িয়ে থাকার সুযোগ নেই।
এ চুক্তিগুলো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সে সময় কিছু ক্লোজ পরিসরের মধ্যে তারা এক্সপার্টদের নিয়ে কনসালটেশন করেছিল। আওয়ামী লীগের আমলে সেই কনসালটেশনের কিছু সুনির্দিষ্ট চরিত্র ছিল। আমি নিজেও কিছু জায়গায় যুক্ত ছিলাম। যেমন শ্রম আইন সংশোধন করার সময় আমি এটার সঙ্গে সিরিয়াসভাবে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেছি। শ্রম আইনের কোন কোন বিষয়গুলো শ্রমিকদের স্বার্থের জায়গায় পরিবর্তন করা দরকার, সেটার দিকে আমার মনোযোগ ছিল। আমার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র ছিল ইনস্যুরেন্সের বিষয়ে ইনপুট দেওয়া। সেটা আমি করেছিও। তবে আমরা যখনই কোনো প্রস্তাবনা যে আইন নিয়ে দিয়েছি, তার কোনোটিই সরকার গ্রহণ করেনি। একটি শব্দও আসলে আমাদের পরামর্শ থেকে নেওয়া হয়নি এবং হয় না। তাহলে আমাদের দিয়ে কেন তারা মতামত নিয়েছিল? জনগণকে আসলে বোঝানো হয়েছে, আমরা তো বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা সাহস দেখাতে পারেনি। কারণ, সেগুলো রাজনৈতিকভাবে তাদের জন্য রীতিমতো একটা ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করত এবং কোনোভাবেই তারা ক্ষমতায় থাকতে পারত না।
অন্তর্বর্তী সরকারের যেহেতু কোনো প্রকার রাজনৈতিক এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল না, সেহেতু তারা গোলামির মতো করে দুই দেশের সঙ্গে এই আত্মঘাতী চুক্তিটা করতে পেরেছে।
এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সংবিধানের কোনো নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
এখানে সংবিধানের কোনো বিধানের লঙ্ঘন হয়নি। কিন্তু এখানে নৈতিকতার স্বার্থ এবং আদর্শ মান্য করার ব্যাপার আছে। কোন সরকার কখন, কোন কাজগুলো কীভাবে করবে? ধরেন, একটা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পর সেটার মেয়াদ একসময় শেষ হয়ে যায়। তারপর নতুন কমিটি গঠনের আগে একটা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচন করার জন্য। এই হলো তাদের কাজ। তারা তো কোনো মৌলিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সবার স্মরণে থাকার কথা, একই বিষয়ে আলাপ উঠেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যতগুলো মৌলিক আইন করেছিল, যতগুলো পরিবর্তন এনেছিল—সবগুলোই কিন্তু বাতিল ঘোষণা করেছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারকে যতই রং দিয়ে বলার চেষ্টা করা হোক না কেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতা পেয়েছে। আসলে জনগণের এখানে কোনো ম্যান্ডেটের বিষয় ছিল না। জনগণ জানতেই পারেনি কে, কোন বিষয়ে উপদেষ্টা হচ্ছেন। উচ্চ বেতন এবং একেকজনকে দুটি করে গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আমরা কিন্তু বড় আর্থিক দুর্গতির মধ্যে ছিলাম। বিশেষজ্ঞের নাম করে বিদেশ থেকে তাঁদের আনার জন্য জনগণের কোনো ম্যান্ডেট ছিল না। বিদেশ থেকে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করার জন্য তাঁদের নিয়ে আসা হয়নি। ফলে তাঁরা কোনোভাবেই নৈতিকভাবে এবং প্র্যাকটিক্যাল কাজকর্মের জন্য যত ধরনের যুক্তি দেখাক না কেন, তাঁদের কোনোভাবেই এ ধরনের চুক্তি করার এখতিয়ার ছিল না।
এই চুক্তির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে, দেশের কৃষি, ডেইরি আর পোলট্রি খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপরেও এই চুক্তি করার কী কারণ থাকতে পারে?
আমি মানতে কোনোভাই রাজি নই যে অন্তর্বর্তী সরকারের যাঁরা এই চুক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা না বুঝেই সেটা করেছেন। তাঁরা বুঝে-শুনেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আইনের শিক্ষক না বুঝে করেছেন, ব্যাপারটা সে রকম না। তাহলে জেনে-বুঝে দেশের ক্ষতি হবে, তারপরও তাঁরা সেটা করেছেন।
এই চুক্তির কারণে দেশের কৃষি খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ, কৃষি টিকে আছে প্রণোদনার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা না দিলে কৃষিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
কৃষি খাতে উৎসাহ দেওয়ার কারণে এক ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। ফলে কোভিডের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের কোনো দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
এ রকম একটা সম্ভাবনাময় সেক্টরকে তারা অসম চুক্তির মাধ্যমে বন্দী করল। ফলে দেশীয় উৎপাদনগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হওয়া শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কোনো বাধা ও পরীক্ষা ছাড়াই দেশে প্রবেশ করবে। তাদের কোনো পণ্যই দেশের মধ্যে পরীক্ষা করা যাবে না। তাদের সব পণ্য চোখ বন্ধ করে প্রবেশ করতে দিতে হবে। তাদের পণ্য অবাধে প্রবেশ করলে দেশের কৃষির ছোট ছোট উদ্যোগ ও খামারগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এমনিতেই দেশের বেকারত্ব ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১০-১২ বছরে দেখা গেছে, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটা অংশের মধ্যে কৃষিতে যুক্ত হওয়ার একটা ট্রেন্ড চালু হয়েছে। এটাকে তারা সম্মান ও লাভজনকভাবেই করছে। সেই জায়গাগুলো সম্পূর্ণভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে।
নতুন সরকারের জাতীয় স্বার্থবিরোধী এই চুক্তি বাতিল করার সম্ভাবনা কতটুকু?
আইনের জায়গা থেকে সেটা বাতিল করার সুযোগ আছে। কিন্তু এর মধ্যে যে রাজনীতি আছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কোন চাপের মধ্যে পড়ে এবং কী কারণে অন্তর্বর্তী সরকার এটা করতে বাধ্য হলো। বর্তমান সরকার যদি মনে করে তারা সেটা কন্টিনিউ করবে না। তার আগে তো কোন শর্তে এটা করা হয়েছে, সেটা আগে তাদের জানতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের তো কোনো রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ছিল না। কিন্তু বিএনপি সরকারের তো সেটা আছে। সে কারণে তারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, যার কারণে তাদের নিজেদের ভুক্তভোগী হতে হয়।
এখন বিএনপি সরকার যদি নিজের শক্তিতে না দাঁড়িয়ে কাজ করে তাহলে একসময় জনগণ তাদের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে। বিএনপি যেন আর অন্য দেশের পারপাস শার্প না করে—সেটাই তো জনগণের চাওয়া। এখানে সচেতন নাগরিকেরও ভূমিকা আছে। সবাইকে দেশের পক্ষে থেকে কথাগুলো বলে যেতে হবে। আমরা চাই, বিএনপি সরকার তার নিজের শক্তিতে দাঁড়াক।
এ ধরনের চুক্তি প্রতিরোধ করতে আমাদের আইনি ব্যবস্থায় কী ধরনের সংস্কার করা প্রয়োজন?
এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সুবাদে আমাকে পড়তে হয়েছে সেখানে একটা আইন আছে, সেটা যদিও তাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে, সেটা আন্তর্জাতিক বাইন্ডিংয়ের মধ্যেও আনা সম্ভব। ‘আনফেয়ার কন্ট্রাক্ট আর্মস অ্যাগ্রিমেন্ট অ্যাক্ট’ অর্থাৎ কোনো দেশ এমন কোনো আনফেয়ার কন্ট্রাক্ট যদি আইনের মধ্যে নিয়ে আসে, সেই আইনের কার্যকারিতার কারণেই কন্ট্রাক্টই বাতিল বলে গণ্য হবে।
এখন বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার দর-কষাকষিতে চূড়ান্তভাবে কম্প্রোমাইজ (আপস) করেছে। সেই চুক্তিতে গোপনীয়তার অংশটুকু বাদ দিয়েও যতটুকু আমরা দেখতে পেয়েছি তাতে বোঝা যাচ্ছে, এ চুক্তির কারণে মেজর সেক্টরগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। গার্মেন্টস, ওষুধ, কৃষি যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের আর কী অবশিষ্ট থাকবে? আমাদের তো এখন টিকে থাকার প্রশ্ন।
অন্তর্বর্তী সরকার তো নিজের সুবিধা এবং প্রেশারের কারণে এ চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে। সে জন্য সংবিধানে যুক্ত করা দরকার, কোনো সরকার বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করতে গেলে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু করতে পারবে না। যদি করতে হয়, তাহলে জনগণের কাছে গণভোটের মাধ্যমে মতামত নিয়ে তা করতে হবে। শুধু নির্বাচিত সংসদের সদস্যরাও সেটা করতে পারবেন না, সে আইন করতে হবে।
যখন চুক্তি করা হয়, তখন অনেক আশাবাদের কথা শোনানো হয় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। যেমন জাপানের সঙ্গে চুক্তি করার পক্ষে বলা হয়েছে, এটার কারণে জাপানে বাংলাদেশের অনেক মানুষের চাকরি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু বলা হবে না, এ দেশের প্রযুক্তিতে দক্ষ কেউ সেখানে গিয়ে ভালো চাকরি করতে পারবে না। কারণ, তারা প্রযুক্তিতে যে শীর্ষ পর্যায়ে চলে গেছে, আমাদের ওখানে গিয়ে নিম্নপর্যায়েই কাজ করতে হবে। তাদের সঙ্গে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় শামিল হতে অনেক বছর লাগবে। কারণ, আমরা তো এখনো জাতি গঠনেই হাত দিতে পারিনি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রে যে জাতি গঠনের ব্যাপার থাকার কথা, সেটা এখন পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি। এটা ৫৫ বছর ধরে কোনো সরকারই করতে পারেনি। আমাদের মানবসম্পদের অভাব নেই, কিন্তু প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের অভাব আছে।
আমরা এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গৃহকর্মী এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শুধু শ্রমিক পাঠাচ্ছি। যেখানে নেপাল, ফিলিপাইন এখন আর সেসব দেশে গৃহকর্মী পাঠায় না। এ কারণে আমাদের দেশ ছোট এবং জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে মানবসম্পদ তৈরি করার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার।

শপথের মঞ্চ তখন প্রস্তুত, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সে সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে যায় কয়েক শ প্রকাশকের একটি জরুরি চিঠি। সময় খুব কম, উদ্বেগ অনেক। কারণ একটাই—২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরুর সিদ্ধান্ত, যা পড়ছে রমজানের মধ্যে।
৩ ঘণ্টা আগে
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে নিজের দলীয় আসনে এতিম শিশুদের নিয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান একটি মূল্যবান কথা বলেছেন। দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন জুলুমের শিকার না হয়—এই ছিল তাঁর মন্তব্য।
৩ ঘণ্টা আগে
জাপানের সঙ্গে অবিভক্ত বাংলা অঞ্চলের সম্পর্ক শত বর্ষের বেশি। ১৮৭৮ সালে জাপানের মিকাদো তথা মেইজি সম্রাট মুৎসুহিতো এবং কলকাতার পাথুরিয়া ঘাটার ঠাকুর পরিবারের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব সংগীতজ্ঞ, সংগীতের ইতিহাসবিদ রাজা শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুরের মধ্যে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বিনিময়ের ঘটনাই
১৬ ঘণ্টা আগে
ফিরে এসেছে একুশ। বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিজয়ের অন্যতম পথরেখা এঁকে দিয়েছিল এই দিনটি। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে এই দিন প্রাণ দিয়েছিল বাঙালি। তাই একুশের নাম রক্তের আখরে লেখা।
১ দিন আগে