ধরুন, কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বোকার মতো এক কাজ করে বসল। তখন নিশ্চয়ই সেই কাজটাকে ‘ফুলিশ’ কাজই মনে হবে। আর কাজটা যদি অপরাধমূলক হয় তাহলে? তখন কিন্তু শুধু ‘ফুলিশ’ বলে পার পাওয়া যাবে না। এখন বগুড়া পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? যেখানে পুলিশের দায়িত্ব সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, সেখানে পুলিশ নিজেই কিনা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যায়—এটা নিশ্চয়ই শুধু ‘ফুলিশ’ কাজ নয়, ঘোরতর অপরাধ।
সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমন, সেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই যদি সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। বগুড়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন বিল-ভাউচারে জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ছয় পুলিশ সদস্য, একজন সিভিল কর্মচারী ও জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের একজন অডিটরের বিরুদ্ধে। এটি আর্থিক অনিয়মের উদাহরণ তো বটেই, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতারও বড় প্রমাণ।
টিএ-ডিএসহ বিভিন্ন বিল-ভাউচার তৈরি করে অনলাইনে দাখিল, এরপর তা যাচাই ও অনুমোদন এবং ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা, পুরো প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে কারসাজির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে ভুয়া কিংবা অতিরিক্ত বিলের অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা করার তথ্যও উঠে এসেছে। এটি কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল না, টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ সময় নিয়ে গত এক বছরে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন অভিযুক্তরা! আবার কয়েকজন অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। যদিও এসব তথ্য সন্দেহ তৈরি করে, তবে ব্যাংক হিসাবে অর্থের লেনদেন হলেই তা আত্মসাতের প্রমাণ দেয় না। তদন্তে বৈধ আয়, বেতন, টিএ বিলসহ প্রতিটি লেনদেনের উৎস যাচাই করাই এখন জরুরি।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ছাড়াও বিল তৈরি ও অনুমোদনের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত এবং হিসাব যাচাইয়ের দায়িত্ব যাঁদের—প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ, একটি সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তখনই দীর্ঘদিন চলতে পারে, যখন ব্যবস্থার একাধিক স্তর কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
আমরা আশা করব, তদন্ত যেন অভিযুক্তদের রক্ষা কিংবা দায় এড়ানোর প্রক্রিয়ায় পরিণত না হয়। ব্যাংক হিসাব, বিল-ভাউচার, অনলাইন রেকর্ড ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি মিলিয়ে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অর্থও উদ্ধার করতে হবে।
সরকারি অর্থ জনগণের। সেই অর্থের পাহারায় থাকা প্রতিষ্ঠানের কেউ যদি তা আত্মসাতের পথ তৈরি করে, তবে শাস্তি শুধু অপরাধীর জন্য নয়, ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকানোর জন্যও জরুরি। একই সঙ্গে বিল-ভাউচার অনুমোদনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, আইন রক্ষাকারীর প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের দৃষ্টান্ত তৈরি হলে তা জনআস্থার জন্যও বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনে।
পুলিশের কাছে ‘ফুলিশ’ কাজ তো বটেই, কোনো ধরনের অপরাধও অপ্রত্যাশিত।

ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি ইউজিসি থেকে পদত্যাগ করেছেন এর প্রশাসনে একদল অসৎ ও দুর্নীতিপ্রবণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে।
৩ ঘণ্টা আগে
আজকের বিশ্বে প্রযুক্তি আর শুধু জীবনের সহায়ক অংশ নয়। এটি এখন একটি জাতির টিকে থাকা, স্বনির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের প্রধান ভিত্তি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এর সুফলও তারা পাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ডিজিটাল সাক্ষরতা...
৪ ঘণ্টা আগে
আমার এক বন্ধু বাংলা সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র এবং খুবই পড়ুয়া। তার নিজস্ব লাইব্রেরিটিও খুবই সমৃদ্ধ। দুর্লভ সব বই সংগ্রহ করে থাকে। খুঁজে খুঁজে বড় বড় বইমেলায় যায়। এ বাংলার উৎসাহী বন্ধুদেরও নিজ খরচে নিয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসাটি করে গার্মেন্টস শিল্পের। ব্যবসাটিও ভালোই।
১ দিন আগে
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে এমপিও ও সরকারি স্বীকৃতি
১ দিন আগে